বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০২২, ০৫:১৭ পূর্বাহ্ন

আবু’র করোনা ঈদ

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৫ মে, ২০২০

ঈদ আসলেই আবু’র মনে পুরাতন স্মৃতিগুলো ভাসতে থাকে। ছোটকাল থেকে শুরু করে একেবারে যৌবনকাল পরযন্ত । গুনে গুনে চারটি বিশেষ আনন্দ, ১. নুতন জামা ২. ঘুরে ঘুরে খাওয়া ৩. পরিবারের সকলের সাথে একসঙ্গে ঈদের নামাজে যাওয়া এবং ৪. বন্ধুদের সাথে চাঁদ রাতের আড্ডা। তবে সবচেয়ে বেশী আকর্ষন ছিল বন্ধুদের সাথে চাঁদ রাতের আড্ডা।

আবু’র বন্ধুরা দেশের বিভিন্ন নামকরা সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করতো এবং চাঁদ রাতে মফস্বল শহরের সেই ছোট্ট বাজারে সকলেই মিলিত হত। কোন রকম পুর্ব পরিকল্পনা ছাড়াই কেমন করে যেনো চাঁদ রাতে সন্ধ্যার পরে সেই মিলন মেলা।

পুরো বাজার জুড়ে সকলে মিলে ঘুরে বেড়ান,ছোট-খাটো কেনা কাটা এই আরকি, তবে মূল কাজ ছিল নষ্টালজি এবং রেষ্টুরেন্টগুলোর স্বাদ মূল্যায়ন। মোটা মুটি সব নামকরা রেষ্টুরেন্টই স্বাদ গ্রহণের তালিকায় স্থান পেত। মফস্বল শহরের রেষ্টুরেন্টে খেতে বেশী টাকা লাগে না। তাছাড়া ঢাকা শহর যেমন মসজিদের জন্য বিখ্যাত, আবুলে’র সেই মফস্বল শহর ছিল রেষ্টুরেন্টের জন্য বিখ্যাত, ফুটপাথ টাইপ রেষ্টুরেন্ট, অনেকটা কোলকাতার মতন ।

ধীরে ধীরে আবুলের ঈদ আনন্দের পরিবর্তন ঘটতে থাকে। ঢাকা শহর,বড় শহর- বড় ব্যস্ততা। নিজ-সংসার,মহা দ্বায়িত্ব। এখন আর নেই, সেই আড্ডা। এখন পরিবারের সাথে শপিং, মোবাইলে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়, কোন মতে মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ে আসা। নেই কোন কোলাকুলি। কে কার সাথে কোলাকুলি করবে। সবাইতো অচেনা। অযাচিত কারো সাথে কোলাকুলি করবেন, আপনাকে সন্দেহের চোখে দেখবে। চেনা নেই জানা নেই হঠাৎ খাতির। প্রতারক নাকি?

তবে ঢাকা শহরে আত্বিয় সজনের বাড়িতে বেড়িয়ে ঈদ উদযাপন এর মধ্যেও কম আনন্দ নেই।

আবু একটু খুতখুতে সভাবের। মানুষ এত যত্ন সহকারে আদর করে খাওয়ায়, তবুও কেন জানি ছোট-খাটো সমস্যা সব সময়ই আবুর চোখ এড়ায় না। এই যেমন অনেক সুন্দরভাবে খাওয়া পরিবেশন করা হয়েছে কিন্তু ’বন’ প্লেট দেয়া হয়নি, ফল খেতে দেয়া হয়েছে ’বন’ প্লেট দেয়া হয়নি। এটা কিন্তু আবুর কাছে একটু অসস্তির বিষয়। আবার সুন্দর খাবার টেবিলে একটা ভাঙ্গা কাপে লবন রাখা। আবুর মনে হয়, কেন জানি এখানে লবনকে সঠিক মূল্যায়ন করা হয় নাই। অনেক সময় হাত ধোয়ার জন্য হলেও ফ্রেস-রুমে যেতে হয়, দেখা গেল ফ্রেস-রুমের জন্য একটা ক্ষয় যাওয়া পরিত্যক্ত স্যান্ডেল।

এতে কিন্তু যে কোন সময় পাঁ পিছলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আবু ভাবে সকলেই এত ভালো, অথচ আরও একটু সচেতন হলেই পারে।এ’নিয়ে আবুর বউ-সন্তানেরা চোখ রাঙায়। তবু মানুষ অভ্যাসের দাস। অনেক সময় আবু উপদেস দিয়েই বসে, ফ্রেস-রুমের স্যান্ডেল টা মনে হয় বদলানো প্রয়োজন।

আজ ঈদ। আবু’র নুতন কিংবা পুরাতন উভয় আনন্দই ধরা ছোয়ার বাহিরে। বাসায় ঈদের নামাজ, পরিবারের সদস্যদের সাথে, এ এক নুতন আনন্দ। এই আনন্দ করোনার সুবাদে। আবু ভাবে অনেক ক্ষেত্রেই করোনা সুসংবাদ এনেছে। বিশেষ করে প্রকৃতির ওপর মানুষের অত্যাচার নেই বললেই চলে।

প্রকৃতি চলছে নিজ আনন্দে। আবু আপন মনে ভাবে আমাদের ঈদ আনন্দ, আমাদের প্রকৃতি, আমাদের ব্যাপার। তোমার মাতব্বরি প্রয়োজন নেই বাবা করোনা। তুমি বিদেয় হও। অনেক সম্মান করেছি, তোমাকে। আর না। অসম্মানিত হওয়ার আগেই চলে যাও দয়াকরে।

লেখক : শাকিল আহমেদ, ঢাকা।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD