মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২, ০৮:৩১ অপরাহ্ন

এক সাংবাদিক ধরতে ৪০ জনের বাহিনী, বিস্ময় হাইকোর্টের

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২০

কুড়িগ্রামে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে দণ্ড দেয়ার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত রিটের শুনানিতে আদালত বলেছেন, ‘একজন সাংবাদিককে ধরতে মধ্যরাতে তার বাসায় ৪০ জনের বাহিনী গেল, এত বিশাল ব্যাপার!

রোববার হাইকোর্টের বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি সরদার মো. রশিদ জাহাঙ্গীরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন।

এদিকে, ওই সাংবাদিককে সাজা দেয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের আদেশ সোমবার দেবেন হাইকোর্ট। তখন অধিক শুনানি হবে।

প্রসঙ্গত শুক্রবার মধ্যরাতে কুড়িগ্রামের সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে বাড়ি থেকে তুলে আনেন জেলা প্রশাসকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমার নেতৃত্বে কয়েকজন ম্যাজিস্ট্রেট। তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, মাদকবিরোধী অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে ৪৫০ গ্রাম দেশি মদ ও ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।

তবে সাংবাদিক আরিফের স্ত্রী মোস্তারিমা সরদারের অভিযোগ, শুক্রবার রাত ১২টার দিকে একদল লোক দরজা ভেঙে হুড়মুড় করে ঘরে ঢুকে ‘তুই খুব জ্বালাচ্ছিস’ বলে আরিফুলকে পেটাতে থাকে। এ সময় তাকেও গালাগাল করা হয়।

একপর্যায়ে কয়েকজন মিলে টেনেহিঁচড়ে আরিফকে তুলে নিয়ে যায়। তাকে জামাও পরতে দেয়া হয়নি। সকালে তিনি জানতে পারেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ে আরেক দফা মারধরের পর সাজানো অভিযোগে আরিফুলকে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরে শনিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ রংপুর বিভাগীয় কমিশনারকে ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়। রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার কেএম তারিকুল ইসলাম তদন্তের দায়িত্ব দেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) আবু তাহের মো. মাসুদ রানাকে।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন জানিয়েছেন, সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে মধ্যরাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন ও সাজা দেয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীনকে প্রত্যাহার করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, কুড়িগ্রামে মধ্যরাতে বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে ধরে এনে নির্যাতন চালানোর পর মাদক দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেয়ার ঘটনাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। এ অভিযোগের সঙ্গে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে তদন্তে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত অন্যদেরকেও প্রত্যাহার করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

লাইটনিউজ/এসআই

 

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD