মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২, ০৭:৩৩ অপরাহ্ন

করোনা আতঙ্কে বিনা চিকিৎসায় (ঢাবি) শিক্ষার্থীর মৃত্যু

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২০

করোনাভাইরাসের আতঙ্কে কোনো হাসপাতাল চিকিৎসা দিতে রাজি হয়নি। উপায় না পেয়ে শেষ পর্যন্ত গ্রামের বাড়ি চলে যান। সেখানেই বিনা চিকিৎসায় আজ সোমবার সকালে মারা গেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী সুমন চাকমা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে তার বাবা সুপেন চাকমা বলেন, ২০১৮ সালে সুমনের শরীরে ক্যান্সার ধরা পড়ে। এরপর বাংলাদেশ ও ভারতের বেশ কয়েকজন বড় ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা করানো হয়। সম্প্রতি সুস্থ হওয়ায় চলতি বছর থেকে ফের ক্লাসও শুরু করে সে।

তিনি জানান, তৃতীয় বর্ষের মিড পরীক্ষা দেয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেওয়ায় ছুটিতে বাড়ি চলে আসে। এখানে আসার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকার পাঁচ-ছয়টি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু করোনার ভয়ে কেউ চিকিৎসা দিতে রাজি হয়নি। ডাক্তার না দেখিয়েই বাড়ি চলে আসতে হয়।

পরবর্তীতে চট্টগ্রামে এক হোমিও চিকিৎসকের কাছ থেকে ২৪ দিনের ওষুধ নেই। এর মধ্যে কয়েকদিনের ওষুধ আনার পর সেগুলো শেষ হয়ে যায়। তখন গাড়ি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আর ওষুধ আনা যাচ্ছিল না। আজ সকালেই বিনা চিকিৎসায় ছেলেটি মারা যায়, যোগ করেন সুপেন চাকমা।

জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) ২০১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থী সুমন চাকমার বাড়ি খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার আগালাশিং পাড়ার দাতকুপ্যা গ্রামে। ২০১৮ সালের জুন মাসে তার ফুসফুসে ক্যান্সার ধরা পড়ে। সবার সহযোগিতায় ভারতের বেশ কিছু হাসপাতালেও চিকিৎসা নিতে যান।

পরবর্তীতে ঘাড়ে ও পিঠে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হলে ভারতে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায় তার। এরপর থেকে দেশেই চিকিৎসা নিতে চেষ্টা করেন সুমন। হাসপাতাল আর চিকিৎসকদের ফিরিয়ে দেয়ার কষ্ট নিয়ে সর্বশেষ গত ২৬ মার্চ এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে সুমন জানান, ‘আমার করোনা হয়নি, অথচ পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে করোনার জন্যই আমাকে মারা যেতে হবে।’

মাত্র ১১ দিনের মাথায় সুমনের সেই শঙ্কা বাস্তবে পরিণত হলো। বিনা চিকিৎসাতেই মারা গেলেন তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD