শুক্রবার, ২০ মে ২০২২, ০৬:৪৯ পূর্বাহ্ন

চীন-ভারত সংঘাতে বাংলাদেশের অবস্থান জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২০

চীন ও ভারতের মধ্যে চলমান সংঘাত নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। তিনি বলেছেন, ভারত ও চীন উভয়ে বাংলাদেশের খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সে জন্য আমরা এ দুই দেশের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চাই। উন্নয়নের জন্য শান্তি ও স্থিতিশীলতা খুব প্রয়োজন। উত্তেজনা প্রশমন করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী অবিলম্বে উত্তেজনা প্রশমনের জন্য বাংলাদেশ তার বড় দুই প্রতিবেশীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র সাক্ষাৎকারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী তিনি বলেছেন, ভারত ও চীন উভয়ে বাংলাদেশের খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আমরা আশা করি, দুই দেশ আলাপ-আলোচনা করে তাদের সমস্যা সমাধান করবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের এ অবস্থান ব্যক্ত করে বলেন, উন্নয়নের জন্য শান্তি ও স্থিতিশীলতা খুব প্রয়োজন। সব সমস্যার সমাধান আলোচনা করে করতে হবে। উত্তেজনা প্রশমন করতে হবে।

এর আগে গত সোমবার (১৫ জুন) ভারত সংলঘ্ন লাদাখে চীনা সেনাদের সঙ্গে ভারতীয় সেনাদের সংঘর্ষ হয়। সেখানে ২৩ ভারতীয় সেনা নিহত হন। এছাড়া এ সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়েছে শতাধিক সেনা।

সোমবার গভীর রাতে লাদাখের সুউচ্চ পর্বতমালায় গালওয়ান নদীর পূর্ব পার ধরে পেট্রোলিংয়ে বেরিয়েছিল ভারতীয় সেনার বিহার রেজিমেন্টের একটি পেট্রোলপার্টি। মাঝ রাতে পেট্রোলিংয়ের সময় বিহার রেজিমেন্ট দেখতে পায় গালওয়ান নদীর পশ্চিম প্রান্তে লাইন অফ কন্ট্রোল পার করে পেট্রোল পয়েন্ট ১৪ তে টেন্ট তৈরি করেছে চীনের পিপলস আর্মি। সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি থেকে সংঘর্ষ শুরু হয় এবং তা চরমে পৌঁছায়।

এদিকে চীন ও ভারতের মধ্যে চলমান সংঘাতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে, উভয় পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস এ আহ্বান জানান।

এর আগে ভারত-চীন সীমান্তের লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় সোমবার দুই দেশের সেনাবাহিনীর সংঘর্ষে ভারতের অন্তত ২৩ সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে অ্যান্তনিও গুতেরেসের পক্ষে তার মুখপাত্র এরিক কানেকো বলেন, আমরা ভারত ও চীনের মাঝামাঝি সীমান্ত লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলে (এলএসি) সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং উভয়পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছি। তবে এটা ইতিবাচক যে, উভয় দেশ উত্তেজনা নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছে।

এর আগে, ১৯৭৫ সালে ভারত-চীন সীমান্তে শেষবার কোনও সেনা জওয়ানের মৃত্যু হয়েছিল। এরপর থেকে ওয়েস্টার্ন সেক্টরে লাদাখে বা ইস্টার্ন সেক্টরে অরুণাচলে দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে হাতাহাতি-মারামারি কম হয়নি। কিন্তু এ ধরনের প্রাণঘাতী মারামারি কখনও হয়নি।

তবে এই সংঘাতে কোনও পক্ষই আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেনি। লোহার রড, লাঠি, পাথর নিয়ে হামলা করেছে চীনা সেনা। তারপরই প্রত্যাঘাত করেছে ভারতীয় সেনারা।

ভারত ও চীনের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে দেশ দুটি বেশ কিছুদিন ধরে সীমান্তে ভারী অস্ত্র মজুত করেছে। পূর্ব লাদাখের সীমান্ত অঞ্চলে ধীরে ধীরে এসব অস্ত্র নিয়েছে দুই দেশ। ভারী অস্ত্রের মধ্যে কামান এবং যুদ্ধের গাড়িও রয়েছে।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘাতের পরিবেশ বিরাজ করায় এসব অস্ত্রের মজুত করা হয়েছে।

কিছুদিন আগে ভারতীয় গণমাধ্যমে বলা হয়েছিল, চীন সেনাবাহিনী সীমান্তের যে এলাকায় রয়েছে সেখান থেকে ভারতের অংশে ঢুকতে মাত্র কয়েক ঘণ্টা লাগবে। লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলের বিভিন্ন জায়গায় ভারতের সঙ্গে সংঘর্ষেও জড়াচ্ছে চীনা বাহিনী।

ভারতীয় সূত্রের বরাতে খবরে বলা হয়, চীনের সেনাবাহিনী লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলের কাছের ঘাঁটিগুলিতে নানান যুদ্ধের গাড়ি ও ভারী যুদ্ধের সরঞ্জাম নিয়ে এসেছে। বিষয়টি জানতে পেরে ভারতও আর্টিলারের মতো অস্ত্র ওই এলাকায় পাঠিয়েছে।

লাইট নিউজ

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD