শুক্রবার, ২০ মে ২০২২, ০৬:৪৪ পূর্বাহ্ন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজত তাণ্ডবের এক বছর

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৬ মার্চ, ২০২২

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজত তাণ্ডবের এক বছর পূর্তি হলো আজ। তবে এখনো ঘুরে দাড়াতে পারেনি অনেক প্রতিষ্ঠান। পৌরসভার কর্মকাণ্ড চলছে অস্থায়ী কার্যালয়ে। সংস্কার কাজ চলছে প্রেস ক্লাবের। সাত মাস পর চালু হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশন। এদিকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ হেফাজত তাণ্ডবের ঘটনায় যে ৫৫টি মামলা হয় সেগুলোর তদন্ত এখনো শেষ হয়নি।

গত বছরের ২৬,২৭ ও ২৮শে মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাণ্ডব চালায় হেফাজত সমর্থিত নেতা কর্মীরা। এই ৩ দিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন সরকারি অফিস,সংগঠনের কার্যালয়ে নির্বিচারে হামলা-ভাঙচুরের পর অগ্নিসংযোগ করা হয়। রেলস্টেশন একেবারে অচল করে দেয়া হয়।উল্টে ফেলা হয় রেললাইন। অচল করে দেয়া হয় সিগনালিং ব্যবস্থা।পৌরসভার ভবন ছাড়া কোন কিছুই বাঁচেনি। পুলিশ সুপারের কার্যালয়,জেলা পরিষদ কার্যালয়,ডাকবাংলো,সার্কিট হাউজ,প্রেস ক্লাব, জেলা আনসার অফিস,সদর উপজেলা ভূমি অফিসসহ জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর চালানো হয়।

রাম দা,রড,লাঠি ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বিভিন্ন স্থানে চলে হামলা। আগুন ধরিয়ে দেয়া হয় বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে।

এছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকারের বাসা,অফিস ভাঙচুর করা হয়। তার শশুর বাড়িতেও চালানো হয় হামলা।

হামলা হয় পৌরসভার মেয়র নায়ার কবিরের বাসাতেও। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম রুবেল,সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন শোভনের বাড়িও হামলার শিকার হয়।

৩ দিনের ওই ঘটনায় বিজিবি ও পুলিশের সাথে সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৫ জন নিহত হয় বলে দারি করে হেফাজত। আহত হয় ৫০ জনের মতো। এর আগেও বিভিন্ন সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজত তাণ্ডব চালিয়েছে। কিন্তু সব রেকর্ড ভেঙ্গে দিয়েছে ২০২১ সালের ঘটনা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতায় এ ঘটনা ঘটানো হয়। জেলা সদরের বাইরে সরাইল ও আশুগঞ্জে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজত তাণ্ডবের একবছর, এখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি অনেক প্রতিষ্ঠান

তবে এবারই প্রথম হেফাজতের নেতাদের পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে জেলে যেতে হয়। যদিও শীর্ষ নেতারা এ প্রক্রিয়ার বাইরে থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ পায় সরকার দলীয় নেতাদের মাঝে। সদর সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী নিজে বাদী হয়ে শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে থানায় ও আদালতে মামলা দেন। যদিও মামলা গ্রহণ হয়নি শেষ পর্যন্ত ।

তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ এমন ঘটনা আর দেখতে চান না। জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাজিদুর রহমান বলেন-তাণ্ডব না করার মতো অবস্থা সরকার এখনো সৃষ্টি করেনি। তাদের যে প্রস্তুতি,তাদের যে অবস্থা। যেভাবে দিনকে দিন বিকশিত হচ্ছে আবার এই তাণ্ডব ঘটাতে পারে। জেলা নাগরিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক রতন কান্তি দত্ত বলেন-তাদেরকে কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার মেয়র মিসেস নায়ার কবির বলেন-হযবরল অবস্থার মধ্যেই আমাদের পৌরসভার কার্যক্রম চলছে এখনো। নতুন ভবন করার জন্য আমরা মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠিয়েছি।

জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(অপরাধ ও প্রশাসন) মোল্লা মোহাম্মদ শাহিন জানান- ঘটনার বিষয়ে সদর,সরাইল ও আশুগঞ্জ থানায় মোট ৫৫টি মামলা হয়। এরমধ্যে সিআইডি ১০টি,পিবিআই ৯টি এবং বাকি মামলাগুলো থানা এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করছে। এসব মামলায় এজাহারনামীয় ৪৬ জন এবং সন্দেহভাজন ৭১২ জনসহ মোট ৭৫৮ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর মধ্যে ৬৩৮ জন জামিনে বেড়িয়ে এসেছেন। জেল হাজতে রয়েছেন ১২০ জন।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD