সোমবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২২, ০৪:০১ অপরাহ্ন

মুরাদের পক্ষে-বিপক্ষে মিছিল, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২২

সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের বিরুদ্ধে তাঁর স্ত্রী ধানমণ্ডি থানায় জিডি করার পর বৃহস্পতিবার রাতে মুরাদ হাসানের এলাকা জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে আতশবাজি জ্বালিয়ে উৎসব করছিলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক নেতার অনুসারীরা। ভোরের দিকে পুলিশ উৎসবকারীদের মধ্য থেকে তিন মামলার এক আসামিসহ দুজনকে আটক করলে উৎসবকারীরা তাঁদের ছিনিয়ে নিতে তারাকান্দি পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে হামলা চালান বলে জানানো হয়েছে। এতে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের ঘটনায় ছয় পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন।

এলাকাবাসী বলছে, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিকের লোকজন বৃহস্পতিবার রাতভর ওই আতশবাজির উৎসব করে। পরে ভোরের দিকে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের সংঘর্ষ হয়। তবে রফিকুল ইসলাম বিষয়টি অস্বীকার করে মোবাইল ফোনে বলেন, ‘এসব বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। এলাকায় কিছু ঘটলেই কি আমার লোক? আমার লোক পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে আক্রমণ করবে, আর তা আমি জানব না? আমি মাত্র ঘুম থেকে উঠলাম।’

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মুরাদ হাসানের বিরুদ্ধে তাঁর স্ত্রী ধানমণ্ডি থানায় জিডি করার পর রফিকুল ইসলাম রফিকের লোকজন বৃহস্পতিবার রাতভর এলাকায় আতশবাজির উৎসব করার পর আধিপত্য দেখানোর জন্য সকালে তারাকান্দি যমুনা সার কারখানা এলাকায় দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মহড়া দেন। পুলিশ এতে বাধা দিলে তাঁরা সংঘর্ষে জড়ান। এ সময় পুলিশ মশিউর রহমান মুর্শেদ ও বিদ্যুৎ নামের দুজনকে আটক করে। মুর্শেদ চাঁদাবাজিসহ তিনটি মামলার আসামি। মুর্শেদকে পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নিতে মহড়ার লোকজন তারাকান্দি পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে হামলা চালান। এ সময় তদন্তকেন্দ্রের প্রধান গেট বন্ধ করে দেয় পুলিশ। তদন্তকেন্দ্রের প্রধান ফটক বন্ধ করে দিলে বাউন্ডারির ওপর দিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন বিক্ষুব্ধরা।

পুলিশ জানিয়েছে, ইটপাটকেল নিক্ষেপে তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ আব্দুল লতিফসহ অন্তত ছয় পুলিশ সদস্য আহত হন। ওই হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগের উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুলের বিরুদ্ধে তাত্ক্ষণিক প্রতিবাদ মিছিল বের করেন মুরাদ হাসানের কর্মী ও সমর্থকরা।

এ ব্যাপারে সরিষাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছানোয়ার হোসেন বাদশা কালের কণ্ঠকে বলেন, দলের নাম ভাঙিয়ে কোনো অপরাধ করার সুযোগ নেই। দল পর্যবেক্ষণ করছে বিষয়টি। জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তারাকান্দি পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ আব্দুল লতিফ বলেন, ‘একাধিক মামলার আসামি মুর্শেদের নেতৃত্বে ৬০ থেকে ৭০ জন লোক সকাল থেকে কারখানা এলাকায় দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মহড়া দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এতে তারা পুলিশের ওপর চড়াও হয়। মুর্শেদকে আটক করলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে আমিসহ কয়েকজন পুলিশ আহত হই। এ ঘটনায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

সরিষাবাড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল মজিদ জানান, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ১৫ থেকে ১৬ জনকে আসামি করে গতকাল শুক্রবার রাতে সরিষাবাড়ী থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

জেলা পুলিশ সুপার নাসির আহমেদ বলেন, কেপিআই এলাকায় প্রতিদিন হাজারো শ্রমিক কাজ করেন। তারাকান্দি এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সরকার দলের দুটি গ্রুপের মধ্যে সৃষ্ট উত্তেজনা বাড়ছে। গতকাল সকালে এলাকা দখলে নিতে একটি গ্রুপ বের হয়। এ সময় তিন মামলার আসামি মুর্শেদকে গ্রেপ্তার করলে তাঁরা পুলিশের ওপর চড়াও হন।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD