সোমবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২২, ০৩:৫১ অপরাহ্ন

মৃত সবাই বরগুনার, আজ গণকবর

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২১

শীতের বাতাস কেটে মাঝনদীতে তরতর করে এগিয়ে যাওয়া লঞ্চটিতে বেশির ভাগ যাত্রী তখন ঘুমিয়ে। রাত ৩টার কিছু পর হঠাৎ চিৎকার-চেঁচামেচি। kalerkanthoএকই সঙ্গে ধোঁয়ার গন্ধ নাকে এসে লাগছে। আগুন। পড়িমড়ি করে উঠে যাত্রীদের দিগভ্রান্ত ছোটাছুটি শুরু হয়। কোন দিকে গেলে রক্ষা পাওয়া যাবে। তবু বাঁচার যেন পথ নেই। প্রাণ বাঁচাতে কিছু না ভেবেই তাঁদের অনেকে মাঝনদীতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। প্রিয়জন, সহযাত্রীদের না পেয়ে আর্তচিৎকার করতে থাকেন অনেকে। ঘুম থেকে উঠে ভয়ংকর এক বিভীষিকায় দিশাহারা সব যাত্রী। সুগন্ধা নদীর বুকে রাতের আকাশ লাল করে জ্বলে উঠতে থাকে লঞ্চটি।

ঢাকা থেকে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ নামের তিনতলা লঞ্চটি এভাবেই ঘণ্টাখানেক চলে নদীর এক পারে গিয়ে থামে। ততক্ষণে আগুন কেড়ে নিয়েছে শিশু, নারীসহ অন্তত ৩৫ জনের প্রাণ। দগ্ধ হয়ে, লাফিয়ে পড়ে আহত হয়েছেন শতাধিক। দগ্ধদের মধ্যে হাসপাতালে নেওয়ার পরে মারা গেছে আরো তিনজন। নিহতদের সবার বাড়ি বরগুনা বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

ঝালকাঠির গাবখানের কাছাকাছি পোনাবালীয়া ইউনিয়নের দেউরী এলাকায় সুগন্ধা নদীতে থাকা অবস্থায় লঞ্চটিতে আগুন ধরে। পরে ঝালকাঠি সদর উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের দিয়াকুল এলাকায় লঞ্চটি ভেড়ানো হয়। রাতের আঁধারে নিজেরাই ঝাঁপিয়ে পড়ে যাঁরা প্রাণ বাঁচিয়েছেন তাঁদের বেশির ভাগই আহত ও দগ্ধ হয়েছেন। ভোররাতে স্থানীয় বাসিন্দারা নৌকা নিয়ে তাঁদের সাহায্যে এগিয়ে আসেন।

গতকাল সেখানে স্বজন হারানো শত শত মানুষ ভিড় করে আহাজারি করেন। লাশের গন্ধ আর আহাজারিতে শোকের মরুতে পরিণত হয় সুগন্ধার তীর। দিনভর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ফায়ার সার্ভিস, নৌ পুলিশ, কোস্ট গার্ড ৩৫ জনের লাশ উদ্ধারের পাশাপাশি ৭২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে। নিহতদের বেশির ভাগই নারী, শিশু ও প্রবীণ। দগ্ধ হয়ে লাশ বিকৃত ও খণ্ডিত হওয়ায় স্বজনরা নিহতদের শনাক্ত করতে পারছেন না।

গতকাল রাত পর্যন্ত ৩৬ জনের লাশ বরগুনা জেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে চারজনের লাশ শনাক্ত করা গেছে। বাকি লাশগুলো শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরে লাশগুলো গণকবরে দাফন করা হবে। স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বিকেল পর্যন্ত অর্ধশত যাত্রী নিখোঁজ ছিলেন।

আহত ও দগ্ধদের মধ্যে ৭০ জনকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে এখন ৫৩ জন চিকিৎসাধীন। ঝালকাঠিতে ১৫ জন চিকিৎসাধীন। গতকাল রাত পর্যন্ত ১৭ জনকে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন হাবিব খানকে (৪৫) রাতে মৃত ঘোষণা করা হয়। ঢাকায় আনার পথে মাহিনুর আক্তার (৭) নামের এক শিশু মারা যায়। এ ছাড়া শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারজিয়া আক্তার (১০) নামের আরেক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

এটিই দেশে প্রথম ঘটনা যেখানে চলন্ত লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডে এত মানুষের প্রাণহানি ঘটল। লঞ্চটিতে ৪০০ যাত্রী থাকার কথা কর্তৃপক্ষ বললেও প্রাণে বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা বলছেন, গাদাগাদি করে আট শতাধিক যাত্রী নেওয়া হয়েছিল। অগ্নিকাণ্ডে লঞ্চটিকে দ্রুত তীরে ভেড়ানোসহ যাত্রীদের রক্ষায় কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলেও অভিযোগ করছেন যাত্রীরা।

বেঁচে যাওয়া যাত্রী ও ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তাদের বর্ণনা অনুযায়ী, নিচতলার পেছনের ইঞ্জিনরুম বা ক্যান্টিন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ইঞ্জিনরুমে রাখা ডিজেল আগুনের তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়। তবে লঞ্চের আগুন এত বড় আকার ধারণ করার পেছনে রহস্য দেখছেন দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা। ঘটনা তদন্তে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

ঝালকাঠি জেলার প্রশাসক মো. জহুর আলী রাত সাড়ে ৮টার দিকে সাংবাদিকদের বলেন, তাঁরা ৩৭টি লাশ উদ্ধার করেছেন। এর মধ্যে চারজনের পরিচয় জানা গেছে। রাতেই ঝালকাঠি পৌরসভার একটি ট্রাকে সব লাশ বরগুনায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বরগুনা জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান জানান, আগামীকাল (আজ) দুপুর পর্যন্ত ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরে গণকবরে লাশগুলো দাফন করা হবে।

গতকাল বিকেলে সুগন্ধা নদীতে লঞ্চটি পরিদর্শনে গিয়ে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহ্মুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘আগুনে পুরো একটি লঞ্চ পুড়ে যাওয়ার পেছনে কোনো রহস্য থাকতে পারে। নয়তো এ রকম দ্বিতীয় ঘটনা আর বাংলাদেশে ঘটেনি। নৌ প্রতিমন্ত্রী বলেন, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে একজন যুগ্ম সচিবকে প্রধান করে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে কমিটি প্রতিবেদন জমা দিলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গভীর রাতে হঠাৎ আগুন

ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষ জানায়, রাত ৩টা ২৮ মিনিটে তাদের কাছে অগ্নিকাণ্ডের খবর আসে। তারা ৩টা ৫০ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানো ও উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে।

এই অভিযানের নেতৃত্বে থাকা ফায়ার সার্ভিসের বরিশাল বিভাগীয় উপপরিচালক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিটের চেষ্টায় ভোর ৫টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। স্থানীয় বাসিন্দা, কোস্ট গার্ড ও পুলিশ সদস্যরা উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করেন।

ঝালকাঠি ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শফিকুল ইসলাম জানান, নদীর যেখানে লঞ্চটিতে আগুন লাগে, ওই এলাকা ঝালকাঠি লঞ্চঘাট থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে। লঞ্চের ইঞ্জিনরুমের অংশটি বেশি পুড়েছে। সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন তাঁরা।

বেঁচে যাওয়া যাত্রী আব্দুর রহিম, শফিকুল ইসলাম ও রহমান গাজী জানান, ডেক থেকে তাঁরা হঠাৎ বিকট শব্দ শুনতে পান। তারপর লঞ্চের পেছন দিক থেকে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়তে দেখেন। অল্প সময়ের মধ্যে আগুন পুরো লঞ্চ গ্রাস করে। আতঙ্কিত হয়ে তাঁরা ডেক থেকে নদীতে লাফিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা ট্রলার নিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে। দিয়াকুল গ্রামের লোকজন নৌকা নিয়ে উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছে। তাঁদের মতো অনেককে উদ্ধার করে গরম কাপড়ে জড়িয়ে দেয়। এরপর সকালে তাঁদের দুজনকে ঝালকাঠি শহরে নেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য মতে, প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে জ্বলতে থাকা লঞ্চ থেকে প্রাণ বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়েন যাত্রীদের অনেকে। তাঁদের চিৎকার শুনে গ্রামবাসী ছুটে আসে নদীতীরে। ঝাঁপ দেওয়া যাত্রীদের উদ্ধারে নামে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরাও সেখানে যান।

কেবিন বয় ইয়াসিনের বর্ণনা

ইঞ্জিনরুমের পাশের ক্যান্টিনে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে লঞ্চে আগুন লাগে বলে সাংবাদিকদের কাছে বর্ণনা দিয়েছেন কেবিন বয় ইয়াসিন। তিনি বলেন, ‘লঞ্চের নিচতলার পেছনে ইঞ্জিনরুম। পাশেই ক্যান্টিন। সেখানে যাত্রী আর স্টাফদের খাবার রান্না করা হয়। রান্নায় গ্যাস ব্যবহার করা হয়। সেখানে বিকট শব্দে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়। আগুন ছড়িয়ে পড়ে ইঞ্জিনরুমে। সেখানে থাকা ১৩ ব্যারেল ডিজেল আগুন আরো বাড়িয়ে দেয়।’ ইয়াসিন বলেন, ‘ইঞ্জিনরুমের পর আগুন চলে যায় ডেকের দিকে। ডেকের জানালার পর্দা থেকে দোতলায়। সেখানে প্রথমে বোর্ডের সিলিংয়ে আগুন লাগে। দোতলায় একটা চায়ের দোকান ছিল। ওই চায়ের দোকানের সিলিন্ডারও বিস্ফোরিত হয়ে আগুন জোরালো হয়। এরপর আগুন যায় তিনতলায়। ডেকের যাত্রীরা নেভানোর চেষ্টা করেন। অনেকে ছাদে চলে যান। কেউ কেউ নদীতে লাফ দেন।’

তবে অভিযান-১০ লঞ্চের মালিক হাম জালাল বলেন, লঞ্চের দোতলায় একটা বিস্ফোরণ হয়, সঙ্গে সঙ্গে কেবিন আর লঞ্চের পেছনের বিভিন্ন অংশে আগুন দেখা যায়। তারপর তৃতীয় তলার কেবিন ও নিচতলায় ছড়িয়ে পড়ে আগুন। তিনি দাবি করেন বলেন, ‘লঞ্চে অন্তত ২১টি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ছিল, কিন্তু এত দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে যে সেগুলো ব্যবহারের সময় পাওয়া পায়নি। একটি পাইপ গেছে ইঞ্জিন থেকে, সেখানে প্রথমে বিস্ফোরণ হয়।’

নিখোঁজদের খোঁজে স্বজনরা, শতাধিক যাত্রীকে পেয়েছে স্থানীয়রা

ঝালকাঠি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হুমায়ূন কবির সাগর বলেন, ‘শতাধিক যাত্রীকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। আগুন, আগুন বলে নদীতীরে মানুষের চিৎকার শুনে ঘর থেকে বের হই। দেখি নদীর মধ্যে লঞ্চে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। নদীতীরে জড়ো হয়ে ২৪ জন কর্মী নিয়ে চারটি ট্রলারে করে লঞ্চের দিকে এগিয়ে যাই। কিন্তু আগুনের তাপে লঞ্চের কাছে যেতে পারছিলাম না। এরই মধ্যে অনেক যাত্রী নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে ট্রলারের দিকে সাঁতরে আসেন। তাঁদের আমরা একে একে চারটি ট্রলারে তুলতে থাকি। এভাবে শতাধিক যাত্রীকে আমরা তীরে নিয়ে আসি।’ তিনি আরো বলেন, ‘ভোর সাড়ে ৪টা নাগাদ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এলে তাঁদের সঙ্গে মিলে আরো অনেক যাত্রীকে জীবিত ও তিনটি মরদেহ উদ্ধার করি। সূর্য ওঠার পর পুলিশ ও রেড ক্রিসেন্টের কর্মীরা উদ্ধারকাজে অংশ নেন। ততক্ষণে দগ্ধ উদ্ধার হন অর্ধশতাধিক যাত্রী।’

গতকাল উদ্ধারকারীরা লাশ উদ্ধার করে ঝালকাঠি সিটি পার্কে নিয়ে আসার পরে ভিড় করেন স্বজনরা। তাঁদের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে পার্কের পরিবেশ। গতকাল বিকেল পর্যন্ত প্রায় অর্ধশত যাত্রী নিখোঁজ আছেন বলে জানা গেছে। তবে প্রশাসনের কাছে এর নির্দিষ্ট হিসাব বা তালিকা নেই।

৩৬ লাশ বরগুনায়

বরগুনায় শনাক্ত হওয়া দুজন হলেন—কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের বশির উদ্দিনের মেয়ে তাইফা আফরিন (১০) এবং বেতাগী উপজেলার কাজিরাবাদ ইউনিয়নের রিয়াজ (৩৫)। বরগুনা জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ঝালকাঠি জেলা প্রশাসন ও বরিশাল শের-ই- বাংলা মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে লঞ্চ দুর্ঘটনায় নিহত হওয়া ৩৬ জনের মরদেহ পেরেছেন তাঁরা।

ঢাকায় ১৭ জন, পথে শিশুর মৃত্যু

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে দগ্ধদের মধ্যে শিশু মাহিনুর আক্তারের মা জেসমিন বেগম (২৮) ও তাঁর ছেলে তামিম হোসেনসহ (১০) ওই ঘটনায় দগ্ধ ১৬ জন ভর্তি রয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনকে র‌্যাবের হেলিকপ্টারে করে আনা হয় ঢাকায়।

ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, লঞ্চে আগুনের ঘটনায় সবারই কমবেশি শরীর দগ্ধ হয়েছে। সবার শ্বাসনালির ক্ষতি হওয়ায় কেউই আশঙ্কামুক্ত নয়।

শিশু মাহিনুর আক্তারের মামা মোহাম্মদ মামুন মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, তিনি ঢাকার কেরানীগঞ্জে থাকেন। ১২ দিন আগে তাঁর মা জয়তুন্নেছা মারা যান। মায়ের দাফন শেষে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে বোন জেসমিন তাঁর দুই সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় এসেছিলেন। তাঁরা লঞ্চে করে বরগুনা ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন। ওই ঘটনায় দগ্ধ অবস্থায় ঢাকায় আসার পথে মারা যায় জেসমিনের মেয়ে মাহিনুর (৭)। জেসমিনের স্বামী খলিলুর রহমান বরগুনা সদরে কাপড়ের ব্যবসা করেন।

বরিশালে ঢাকার চিকিৎসকদল

দগ্ধদের চিকিৎসায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঁচ সদস্যের মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। তাঁদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (ইনচার্জ) অধ্যাপক রায়হান আউয়াল স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়।

শেবাচিমে যাওয়া চিকিৎসকরা হলেন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. নুরুল আলম, ডা. মাসরুর উর রহমান, রেজিস্ট্রার ডা. মোরশেদ কামাল, ফেস বি রেসিডেন্ট ডা. মৃদুল কান্তি সরকার ও ডা. শাওন বিন রহমান।

দেড় লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহ্মুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘আমরা দুর্ঘটনায় নিহত সব পরিবারকে দেড় লাখ টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছি। লঞ্চে আমাদের হিসাব মতে ৩৫০ জনের মতো যাত্রী ছিল। তবে এর বেশি থাকলে তদন্ত করে দেখা হবে। তা ছাড়া লঞ্চের ফিটনেস ঠিক আছে বলে জানতে পেরেছি।’ অগ্নিদগ্ধ যাত্রীদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যালে দেখতে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

সূত্র : কালের কণ্ঠ

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD