সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৮:০৫ অপরাহ্ন

যেভাবে চলতে হবে সাধারণ ছুটি উঠে গেলে

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২০

ঢাকা : সাধারণ ছুটি তুলে নিলেও নিত্যনৈমিত্তিক কাজে থাকছে কঠোর বিধিনিষেধ। সীমিত আকারে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান খোলার অনুমতি পেলেও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি, অসুস্থ কর্মী এবং গর্ভবতী নারীদের দিয়ে কোনো কাজ করাতে পারবেন না প্রতিষ্ঠান। অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করারও সুযোগ পাবেন না গণপরিবহন মালিকরা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জোর দেওয়া হয়েছে ভার্চুয়াল লার্নিং এ। এমন ১৫ দফা বিধি-নিষেধ সংবলিত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন বিভাগের সমন্বয় অধিশাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি আধাসরকারি, স্বায়ত্বশাসিত এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিজ ব্যবস্থাপনায় সীমিত পরিসরে খোলা রাখবেন।

ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি, অসুস্থ কর্মী এবং গর্ভবতী মায়েদের অফিসে উপস্থিত না থাকতে বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে কর্মচারী-কর্মকর্তাদের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিধি নিষেধ অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। জরুরি সভা ভিডিও কনফারেন্স বা ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে।

নিষেধাজ্ঞা চলাকালে কর্মস্থল ত্যাগ করা যাবে না। এ সময়ে সীমিত পরিসরে কম সংখ্যক যাত্রী নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন, যাত্রীবাহী নৌযান, রেল চলাচল করতে পারবে। এক্ষেত্রে মাস্ক ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। বিমান চলাচলের ক্ষেত্রেও একই দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তবে সব ধরনের সভা সমাবেশ গণ জমায়েত ও অনুষ্ঠান আয়োজন বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি অনুসরন করে মসজিদ নামাজ আদায় এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রার্থনা অব্যাহত থাকবে।

এক জেলা থেকে অন্য জেলা এবং এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় যাতায়াত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে যেতে পারবেন না। শুধু ওসুধ সংগ্রহ, চিকিৎসাসেবা, মৃতদেহ দাফন বা সৎকার কিংবা জরুরি জিনিষপত্র কেনা ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে যেতে পারবেন না। আর এই সতর্কতা বাস্তবায়ন করতে জেলা প্রশাসন ও আইন শৃংখলা বাহিনীকে বলা হয়েছে।

হাট-বাজার দোকানপাটে ক্রয় বিক্রয়ের সময় পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কথা বলা হয়েছে। বিকাল ৪টার পরে কোনো দোকান বা শপিং মল খোলা রাখা যাবে না, কেনা-বেঁচার সময় শপিং মলের সামনে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, ক্রেতাদের গাড়ি জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা রাখতে হবে।

আইনশৃংখলা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কাজে নিয়োজিত সংস্থা এবং জরুরি পরিষেবা ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, স্থল বন্দর, নদী বন্দর এবং সমুদ্র বন্দরে কার্যক্রম ও টেলিফোন, ইন্টারনেট, ডাকসেবা এবং সংশ্লিষ্ট কাজে নিয়োজিত যানবাহন ও কর্মীরা এই ছুটির আওতায় পড়বেন না। সড়ক ও নৌপথে চলাচল করা সকল পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল অব্যাহত থাকবে। কৃষিপণ্য, সার, বীজ, কীটনাশক, খাদ্য, শিল্প, রাষ্ট্রীয় প্রকল্পের মালামাল, কাঁচাবাজার, খাবার, ওষুধের দোকান, হাসপাতাল ও জরুরি সেবা এসবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা এ ক্ষেত্রে ছুটি প্রযোজ্য হবে না।

চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক, নার্স এবং ওসুধসহ সরঞ্জাম বহনকারী যানবাহন ও কর্মী, গণমাধ্যম (ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া) এবং ক্যাবল অপারেটর এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবেন। ওসুধশিল্প, উৎপাদন ও রফতানিমুখী সকল কল কারখানা কর্তৃক শ্রমিকের নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করে চালু রাখতে পারবে।

নিষেধাজ্ঞাকালীন কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা যাবে না। তবে অনলাইন কোর্স বা ডিস্টেন্স লার্নিং চালু রাখার কথা বলা হয়েছে। ব্যাংকিং ব্যবস্থা পূর্ণভাবে চালু রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে নির্দেশনা দিতে বলা হয়েছে। এই পনেরো দফা নির্দেশনা নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD