সোমবার, ০৪ জুলাই ২০২২, ০৯:০২ পূর্বাহ্ন

রাজধানীর মার্কেটগুলোতে ক্রেতা নেই

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২০

করোনার বিস্তার রোধে সপ্তম দফায় সাধারণ ছুটির মেয়াদ ৩০ মে পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এতে দেশ কার্যত লকডাউন বলা যায়। কিন্তু রমজান ও সামনে ঈদ উপলক্ষে শশর্ত সাপেক্ষে সম্প্রতি সব কিছু বন্ধের বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করে শপিং মল, দোকানপাট, মার্কেট খোলার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। তারই পরিপ্রেক্ষিতে সারা দেশসহ রাজধানীতেও অনেক মার্কেট খুলেছে।

কিন্তু খুললেও বেশিরভাগ মার্কেটেই মানুষজনের ভিড় নেই। রাজধানীর শপিং মলগুলোতেও একই চিত্র। ২১ রমজান চললেও করোনা আতঙ্কের মধ্যে কেনাকাটায় আগ্রহ নেই মানুষের। প্রায় ক্রেতাশূন্য মার্কেটগুলো। যাও বা দু’চারজন আসছেন সেভাবে কিছি কিনছেন না।

শুক্রবার (১৫ মে) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত রাজধানীর গুলিস্তান, পল্টন, ধানমন্ডি, এলিফ্যান্ট রোড, গাউছিয়া, মিরপুর-১, ২, ১০, শেওড়াপাড়া ও কাজীপাড়া এলাকা ঘুরে এমন চিত্রই দেখা যায়।

এলিফ্যান্ট রোডের জেন্টল পার্ক শো-রুমের কর্মচারী মেহেদী হাসান বলেন, আগে যে ক্রেতা ৭ থেকে ৮টি পোশাক কিনতেন, এখন তিনি কিনছেন একটি পোশাক। ক্রেতাদের এখন কেনাকাটা করার চাহিদা নেই। গত ঈদে ২১ রোজাযর সময় জামাকাপড় বিক্রি করে কুলাতে পারেনি, এবার ক্রেতা নেই বললেই চলে।

তিনি আরও বলেন, ঈদের আগে আমরা একেকটি শো-রুমে প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ লাখ টাকার প্রোডাক্ট বিক্রি করতাম। কিন্তু এবার ৫০ হাজার টাকাও বিক্রি করতে পারছি না। দুই-একজন ক্রেতা যাও আসছেন, বেশিরভাগই কোনো কিছু না কিনেই চলে যাচ্ছেন। ক্রেতার তুলনায় দর্শনার্থী বেশি। সকাল ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত দোকানে কিছু কাস্টমার আসে, দুপুর ২টার পর তাও থাকে না।

ঈদ ঘিরে গোপীবাগ থেকে এলিফ্যান্ট রোডে পোশাক কিনতে যাওয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র রায়হান রহমান বলেন, এখনও পছন্দ হয় নাই কিছু। দেখছি। যদি কিছু পছন্দ হয় তাহলে কিনবো। এবারের ঈদটা মনে হয় ভালো যাবে না। করোনার কারণে এবারে সবার ঈদ মাটি হয়ে যাবে। আমার মনে হয়, এবারের মত বাজে ঈদ দেশের কোনো মানুষই কখনো পার করবে না। সবার মধ্যেই করোনার আতঙ্ক কাজ করছে।

বিক্রি প্রসঙ্গে নূর ম্যানশন (গাউছিয়া) মার্কেটের অপর্ণা কসমেটিকসের কর্মচারী মো. মিঠু বলেন, আজ ২১ রোজা, তাও আবার শুক্রবার, কিন্তু কোনো বিক্রি নেই। গতবার ঈদের সময় প্রতিদিন ৫০ হাজার টাকা বিক্রি করেছি, আর আজকে দুপুর পর্যন্ত মাত্র ১২শ’ টাকা বিক্রি। বুঝতেই পারছেন কেমন যাচ্ছে ব্যবসা।

‘দোকান খোলার থেকে না খোলাই অনেক ভালো ছিল। কিন্তু দোকানের খরচ আর কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার জন্যই ঈদের আগে দোকান খুলেছেন মালিকরা। আমরা যারা কর্মচারী আছি, আমাদের প্রায় দুই থেকে তিন মাসের বেতন বকেয়া পড়ে গেছে। আমরা কারো কাছ থেকে কোনো সাহায্যও পাচ্ছি না।’

ধানমন্ডি থেকে গাউছিয়া মার্কেটে কেনাকাটা করতে গেছেন সাবরিনা সুলতানা সুমি। তিনি বলেন, ঈদের আগে ব্যাগ আর কিছু কসমেটিকস কিনতে এসেছি। একটি ব্যাগ কিনেছি। এখন কসমেটিকস দেখছি। আজকে এসে মার্কেটে তেমন ভিড় দেখছি না। মনে হয় করোনার কারণে কেউই মার্কেটে আসছে না।

বিক্রিতে ভাটা জানিয়ে মিরপুর ১০ নম্বরের বাটা শো-রুমের ম্যানেজার মো. মামুন বলেন, ১০ তারিখ থেকে আমাদের শো-রুম খোলা শুরু করেছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত তেমন বেচাকেনা করতে পারিনি। প্রতি বছর এ সময় আমাদের দোকানে প্রায় লাখ টাকা বিক্রি হয়। এবার ৫০ হাজার টাকাও বিক্রি হচ্ছে না। এখন শুধু কিছু দর্শনার্থী আসছেন। কেনাকাটা করছেন না।

লাইটনিউজ/এসআই

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD