বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

টিএসসিকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

নিজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক মিলন কেন্দ্র টিএসসিকে নতুনভাবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসিটাকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে চাই। সম্পূর্ণ আধুনিকভাবে টিএসসি প্রতিষ্ঠা করব। এটা হচ্ছে আমাদের ছাত্র শিক্ষকদের একটা মিলন কেন্দ্র। সেটাকে আরও সুন্দরভাবে তৈরি করব। সেই নির্দেশ আমি দিয়েছি। ওখানে নতুনভাবে যা যা করার দরকার করব।’

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সাথে আমি কথা বলেছিলাম। আমি জানি যে বিশ্ববিদ্যালয় এটা করতে পারবে না। কাজেই যে টাকা পয়সার খরচা লাগে…। আমি তো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী, জাতির পিতাও ছাত্র ছিলেন। কাজেই আমরাই এটা করে দিবো, সেটা আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা মেডিকেল কলেজটাকেও আমরা খুব সুন্দরভাবে করতে চাই। কারণ এটা একটা আমাদের জাতীয় প্রতিষ্ঠান, সারা বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসার জন্য আসে। কাজেই সেখানে যাতে ৫ হাজার রোগীর চিকিৎসা হতে পারে, সেইভাবে আমরা নতুনভাবে এটাকে গড়ে তুলতে চাই। হ্যাঁ, পুরনো ঐতিহ্য কিছুটা আমরা ধরে রাখতে পারি। কিন্তু ভেতরে সম্পূর্ণ একটি হাসপাতাল এবং মেডিকেল কলেজ আমরা নির্মাণ করে দেবো। ইতোমধ্যে সে প্ল্যানটাও তৈরি করা আছে। সেটা যাতে দ্রুত হয়,সে ব্যবস্থাটা করতে চাই। সেখানে আমাদের ঐতিহ্যগুলো রক্ষা করা, মেডিকেল কলেজের সাথে যেহেতু আমাদের শহীদ মিনার এই শহীদ মিনারটাকেও সুন্দরভাবে তৈরি করা, যেভাবে আছে ডিজাইনটা ঠিক রেখে শহীদ মিনারটা করা। শহীদ মিনারের সাথে ঢাকা মেডিকেল কলেজ, একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিল। সেই আমতলায় দাঁড়িয়ে আমাদের ভাষা আন্দোলন শুরু। যেখানে ১৬ই মার্চ জাতির পিতা ১৯৪৮ সালে মিটিং করেছিলেন বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্র ভাষা করার জন্য। কাজেই সেই আমতলা’টাও রক্ষা করা। সবকিছু নিয়ে আমরা করবো, সেই ধরনের নির্দেশনা দিয়েছি।’

তাছাড়া ময়মনসিংহ নতুন বিভাগীয় শহর, সেখানে বিভাগীয় কমিশনার ভবন নির্মাণের নকশাও অনুমোদন দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘তাছাড়া আমাদের বিপিএটিসি’ প্রশাসন ক্যাডারদের ট্রেনিংয়ের যে ইনস্টিটিউট, সেটা খুবই করুণ-জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সেখানে একটি নতুন প্ল্যান নতুন ডিজাইন আমরা করে দিতে চাচ্ছি। তারপর প্ল্যানটা দেখেও অনুমোদন দিয়ে দিলাম।‘সেই সাথে রাজধানীর পাবলিক লাইব্রেরিটাকে একটা আধুনিক একটা লাইব্রেরি করতে চাই। কারণ এটা খুবই পুরনো। খুবই জরাজীর্ণ এবং বিশেষ করে অডিটোরিয়ামটা খুবই খারাপ অবস্থায় আছে। যাতে একটা আধুনিক পাবলিক লাইব্রেরি তৈরি করা যায়, যেখানে ডিজিটাল ব্যবস্থা থাকবে। ডিজিটাল লাইব্রেরি হবে এবং সেখানে সুন্দর সাইবার ক্যাফে’রও ব্যবস্থা থাকবে। সেখানে আমাদের ছেলেমেয়েরা যাতে বসতে পারে। আমাদের যে জাতীয় জাদুঘর, তার পিছনে যে পুকুর এবং পাবলিক লাইব্রেরির ল্যান্ডস্কেপটা, আর পাবলিক লাইব্রেরিটাকে আমরা সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে চাই। তারও একটা প্ল্যান অলরেডি করলাম এবং সেটা তৈরি করাই আছে। সেটার কাজ যাতে দ্রুত শুরু হয়, সে ব্যবস্থা আমরা নিতে চাচ্ছি।’

বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাহবুব উল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, এসএম কামাল হোসেন, মির্জা আজম, শফিউল ইসলাম চৌধুরী নাদেল, বিপ্লব বড়ুয়া, অসীম কুমার উকিল, মৃণাল কান্তি দাস, হাবিবুর রহমান সিরাজ, সুজিত রায় নন্দী, সেলিম মাহমুদ, রোকেয়া সুলতানা, ওয়াসিকা আয়শা খান, শাম্মী আহমেদ, সায়েম খানসহ অন্যান্য।

লাইটনিউজ