বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

সাবান-কয়েলসহ সবই নকল তৈরি হচ্ছে

চিনিগুঁড়া চাল থেকে শুরু করে ডিটারজেন্টসহ ১৪ রকম নকল পণ্য তৈরি, নকল মোড়ক ব্যবহার, মজুত ও বিক্রি করে ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা করছে একটি অসাদু ব্যবসায়ী চক্র। গোপন সংবাদে এমন তথ্য পেয়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকার একটি কারখানা ও গোডাউনে অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব। অভিযানকালে নকল ডিটারজেন্ট ও সাবান এবং ভেজাল খাদ্যদ্রব্য তৈরি ও বিক্রি করায় দুটি প্রতিষ্ঠানকে ১০ লাখ টাকা জরিমানাসহ চারজনকে কারাদণ্ড প্রদান করে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বুধবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত র‌্যাব-২ এর সহযোগিতায় চলা অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু। তিনি জানান, বুধবার রাত ৮টা পর্যন্ত বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) ও র‌্যাব-২ এর সহায়তায় এম আর কনজুমার প্রডাক্টস ও সাফা রেজা ফুড অ্যান্ড কনজুমার লিমিটেডে অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে সাফা রেজা ফুড অ্যান্ড কনজুমারে কর্মরত মো. আমিনুল ইসলাম, মো. চাঁদ মিয়া, মো. রাসেল, মো. সাজু মিয়া ও মো. ফারুক মিয়াকে নিরাপদ খাদ্য ২০১৩ ও বিএসটিআই আইনের ২০১৮ বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে দুটি মামলা এবং প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা মোট ১০ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয় আদালত।

এম আর কনজুমার প্রডাক্টসে অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটির মালিক জায়েদুল ইসলাম জয়কে পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানটি বিএসটিআইয়ের অনুমোদন না নিয়ে বিভিন্ন প্রকার নকল ডিটারজেন্ট পাউডার, সাবান তৈরি ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি করায় সেখানে কর্মরত মো. আমিরুল ইসলাম ও সঞ্জীবকে এক বছর কারাদণ্ড এবং মো. রুবেল ও মো. আরিফুরকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। দুটি প্রতিষ্ঠানকেই সিলগালা করে দেয়া হয়েছে।

একই অভিযানে ফ্রেশ টয়লেট্রিজ অ্যান্ড কনজুমার লিমিটেড থেকে কয়েক লাখ টাকার মালামাল এবং সাফা রেজা ফুড অ্যান্ড কনজুমার লিমিটেড থেকে প্রায় কোটি টাকার নকল মালামাল জব্দ করা হয়।

অভিযান শেষে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নকল এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খোলাবাজার থেকে কেনা পণ্য প্যাকেটজাত করে বিক্রির দায়ে সাফা রেজা ফুড অ্যান্ড কনজুমার লিমিটেডে অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ চিনিগুঁড়া চাল, চিনি, লবণ, কয়েল, চিপস, সয়াবিন তেল, চা পাতা, সরিষার তেলসহ প্রায় কোটি টাকার মালামাল জব্দ করা হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের কোনো অনুমোদন ছিল না। কিন্তু তারা বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের লোগো ব্যবহার করে আসছিল।

তিনি বলেন, ফ্রেশ টয়লেট্রিজ অ্যান্ড কনজুমারেও একই চিত্র পাওয়া গেছে। তারা একটি পণ্যের নামে লাইসেন্স নিয়েছিল যার মেয়াদ এক বছর আগেই শেষ। কিন্তু তারা দেশি-বিদেশি নামিদামি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ওয়াশিং পাউডার প্যাকিং করে আসছিল। যার সবই নকল। এসব পণ্যের কাঁচামাল তারা খোলাবাজার থেকে সংগ্রহ করে প্যাকেটজাতের মাধ্যমে প্রতারণা করে আসছিল। অভিযানে এই প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি। তাদের বিরুদ্ধেও নিয়মিত মামলা দায়েরের পাশাপাশি বিশেষ আইনে মামলা দায়ের করা হবে।

লাইটনিউজ/এসআই