বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

মুদি দোকানি থেকে মানবপাচারকারী

রাজধানীর বাড্ডা এলাকা থেকে মানবপাচার চক্রের আট সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। মঙ্গলবার রাত থেকে আজ বুধবার সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মো. তৈয়ব আলী (৪৫), শাহ মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন ওরফে লিমন (৩৮), মারুফ হাসান (৩৭), জাহাঙ্গীর আলম (৩৮), লালটু ইসলাম (২৮), আলামিন হোসাইন (৩০) ও আবদুল্লাহ আল মামুন (৫৪)।

বুধবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে উচ্চ বেতনে চাকরি দেওয়ার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নিয়ে কাজ না দিয়ে প্রতারণা করে আসছিল একটি চক্র।সম্প্রতি কয়েকজন নারী ভিকটিমের অভিভাবকের মধ্যপ্রাচ্যে মানবপাচার সংক্রান্ত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে র‍্যাব-৪ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) রাত থেকে আজ বুধবার সকাল পর্যন্ত বাড্ডা থানার লিংক রোডে অবস্থিত টুটুল ওভারসিজ, লিমন ওভারসিজ ও লয়াল ওভারসিজে অভিযান চালায় র‌্যাব। অভিযানে দুই নারীসহ চারজন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ১০টি পাসপোর্ট, ৭টি ফাইল, ৪টি সিল, ১৭টি মোবাইল, ৫টি রেজিস্টার, বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বই, ২টি কম্পিউটার, ৩টি লিফলেট ও নগদ ১০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়। এ সময় মানবপাচারকারী চক্রের আট সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি বলেন, মেহেরপুরের গাংনী থানার কামন্দী গ্রামে মুদিদোকানি সাইফুল ইসলাম কয়েক বছর আগে মাঝেমধ্যে ঢাকায় আসতেন। অল্প সময়ে ধনী হওয়ার লোভে ধীরে ধীরে মানব পাচারকারী কোনো চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন তিনি। চক্রের দালাল হিসেবে বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশে লোক পাঠানোর কাজ করতেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, সাইফুল রাজধানীর বাড্ডায় টুটুল ওভারসিজ, লিমন ওভারসিজ ও লয়াল ওভারসিজ নামে তিনটি অনুমোদনহীন ট্রাভেল এজেন্সি খোলেন। তাঁর লোকেরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বেকার, শিক্ষিত নারী-পুরুষদের মধ্যপ্রাচ্যে উচ্চ বেতনে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে রাজি করান। পরে তাঁদের বাড্ডায় অনুমোদনহীন ট্রাভেল এজেন্সিতে এনে সৌদি আরব, জর্ডান ও লেবাননে টাকা পাঠানোর কথা বলে প্রত্যেকের কাছ থেকে দুই থেকে তিন লাখ আদায় করেন।

এরপর সাইফুল বৈধ ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে টিকিট কেটে তাঁদের মধ্যপ্রাচ্যে পাঠান। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সাইফুলের লোকেরা পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন নিয়ে তাঁদের আরেক পক্ষের কাছে বিক্রি করে দেন। তাঁরা নারীদের বাসাবাড়িতে ও পুরুষদের পণ্য বিক্রির দোকানে কাজে দিয়ে দেন। মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানোর পর পাচারের শিকার নারী–পুরুষেরা বাংলাদেশে তাঁদের আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে কথা বলার পরই তাঁদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। অনেকেই তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন না। ছয় বছর ধরে সাইফুল এ প্রতারণার সঙ্গে জড়িত।