বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে

জাহাঙ্গীরের মেয়র পদও নড়বড়ে

স্টাফ রিপোর্টার : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করার দায়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে তার মেয়র পদও।

শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ ইঙ্গিত দেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়াও হতে পারে। তিনি বঙ্গবন্ধু এবং আমাদের ইতিহাসকে কটাক্ষ করে বক্তব্য দিয়েছেন। এটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে জানানো হবে এরপর মন্ত্রণালয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বৈঠকে সবাই তার (জাহাঙ্গীর আলম) কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পক্ষে মত দেয়। সভাপতি সবার মতামত শুনেছেন। সেই আলোকে তাকে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে এবং প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বিবিসিকে জানিয়েছেন, জাহাঙ্গীর আলমকে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল আলম হানিফ বলেন, জাহাঙ্গীর আলম ২০১৮ সালে দলীয় মনোনয়নে গাজীপুরের মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। এখন দল থেকে বহিষ্কার করায় তিনি মেয়র পদে থাকতে পারবেন না। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরে গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের এক অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ভাইরাল হয়। সেই অডিওতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লক্ষ শহীদ এবং বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা নিয়ে তাকে কটু মন্তব্য করতে শোনা যায়।

অডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর গাজীপুরে আওয়ামী লীগ এবং সেখানকার সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ করেন। গাজীপুর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সে সময় বিক্ষোভও করেছেন।

এই পটভূমিতে তার বিরুদ্ধে দলীয় স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ কেন আনা হবে না- এই মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সেই নোটিশের জবাবে পাওয়ার পর জাহাঙ্গীর আলমকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হলো।