শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:৩৯ অপরাহ্ন

গণ-সমাবেশ সফল করতে মরিয়া বিএনপি

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২২

রাত পোহালেই বিএনপির সিলেট বিভাগীয় গণ-সমাবেশ। প্রস্তুত নগরীর আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ। এখানেই হাজার হাজার নেতাকমীদের উপস্থিতিতে বক্তব্য রাখবেন বিএনপির নীতি-নিধারকরা। নেতাকমীদের উজ্জীবিত করতে দেবেন একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি ও আগামীর দিক-নির্দেশনা। এ সমাবেশকে কেন্দ্র করে দলটির জেলার নেতারা এখন ঐক্যবদ্ধ। দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ভুলে সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে তারা মরিয়া হয়ে মিলেমিশে কাজ করছেন।

সমাবেশ ঘিরে সিলেট জেলা ও মহানগর জুড়ে চলছে টানটান উত্তেজনা। সমাবেশ সফল করতে সব আয়োজন ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। লিফলেট বিতরণ, মাঠ সাজানো, সমাবেশ স্থলের আশপাশে ব্যানার, বিলবোর্ড সব মিলিয়ে ভিন্ন আমেজ। প্রস্তুত দুই হাজার একশ’ বর্গফুটের বিশাল মঞ্চ। নিখোঁজ বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলীকে স্মরণ করে তার ছবি সম্বলিত ব্যানার ঝোলানো হয়েছে প্রতিটি রাস্তার মোড়ে। বাঁশের মাথায় জাতীয় পতাকা বেঁধে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলটির সহযোগী সংগঠন বড় বড় মিছিল নিয়ে সমাবেশ স্থলে শোডাউন দিচ্ছে৷

নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে সিলেটে সমাবেশ কতোটা সফল হবে জানতে চাইলে সিলেট বিভাগীয় গণসমাবেশ প্রস্তুতি কমিটির প্রধান উপদেষ্টা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, সিলেটে শহরে আজ অভূতপূর্ব জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। এটা জোর করে হয়না, দেশের মানুষ আজকে জেগে উঠেছে। কারণ, সরকারের দুঃশাসনে জনজীবন অতিষ্ঠ। দেশে গনতন্ত্র পূণরুদ্ধারে সবাই আজকে ঐক্যবদ্ধ। মানুষের মনের চাপা ক্ষোভ আজ প্রকাশ পাচ্ছে বিএনপির শান্তিপূর্ণ গণসমাবেশের মাধ্যমে। সেই ধারাবাহিকতায় সিলেটে আগামীকাল সফল ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশ হবে। আমরা অপেক্ষা করছি গণমানুষের ঢল নামবে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে।

শুক্রবার বিকেলে আলিয়া মাদরাসা মাঠ পরিদর্শনে এসে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, সিলেটে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ ১৯ নভেম্বর। তবে আগামীকাল নয়, আজ ১৮ নভেম্বর শুক্রবার রাতের মধ্যেই সিলেট নগর জনসমুদ্রে পরিণত হয়ে যাবে।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বিএনপির এই নেতা বলেন, বাধা-বিপত্তি মাথায় নিয়েই আমাদের সব কাজ গত ১৩ বছর ধরে করছি। আপনারা দেখেন, আগামীকাল আমাদের সমাবেশ। বৃহস্পতিবার থেকেই মানুষ চলে আসছেন। বিএনপির সব দাবি এখস জনগণের দাবিতে পরিণত হয়েছে। মেয়র আরো বলেন, আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। মাঠেরও কাজও শেষ। সিলেট নগরী একটি জনসমুদ্রে পরিণত হবে। যেটা আপনারা আগামীকাল আশা করছেন, সেটা আজ রাতের মধ্যেই দেখবেন যে পুরো শহর লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়বে।

সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, সমাবেশ সামনে রেখে নেতা-কর্মীদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশি, হয়রানি ও বিভিন্ন বাধার মুখে ফেলা হচ্ছে বিএনপি নেতাদের। এরপরও স্মরণকালের বড় গণজমায়েত হবে এখানে।

এদিকে সমাবেশে আশা নেতাকর্মীদের জন্য চলছে রান্নাবান্নার কাজ। বিনামূল্যে খাবার বিতরণ করছেন প্রবাসী বিএনপির কয়েকজন নেতা। মাঠের প্রবেশমুখে ডা. জোবায়দা রহমান ফ্রি ফুড ক্যাম্প থেকে পানি, ফলমূল, রুটি, কলা ও খিচুড়ি বিতরণ করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সহ-ক্রিয়া বিষয়ক সম্পাদক সরফরাজ আহমেদ শরফু ও সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মামুনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে প্রায় ৫০ হাজার নেতাকর্মীদের জন্য বিনামূল্যে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মৌলিভীবাজার জেলার জুড়ি ও বড়লেখা উপজেলার বিএনপি নেতা নাছির উদ্দিন আহমদ মিঠুর সৌজন্যে একটি প্যান্ডেলে নেতাকর্মীদের জন্য রান্না করছিলেন বাবুর্চি শাহ আলম। তিনি বলেন, শুক্রবার সকালে প্রায় ৩ হাজার লোকের জন্য খিচুড়ি রান্না করেছি। একইভাবে দুপুরের জন্য আরও ৬ হাজার লোকের জন্য রান্না করেছি। এরপর রাতেও আবার রান্না করব।

মাঠে অবস্থান করা সিলেট জেলা মহিলা দলের দপ্তর সম্পাদক সুলতানা রহমান দিনা বলেন,গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে আমরা মাঠে নেমেছি। এই আন্দোলন সফল না হওয়া পর্যন্ত আমরা মাঠে থাকব। দিন শেষে আমরাই বিজয়ী হবো।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD