বৃহস্পতিবার, ১১ অগাস্ট ২০২২, ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন

চাঁদপুরে করোনায় মৃত্যুহার নিয়ে গবেষণা করছেন ড. সমীর ও মেয়ে সেঁজুতি

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২০ জুন, ২০২০

করোনাভাইরাস এবং এর উপসর্গে চাঁদপুরে মৃত্যুহার বেড়ে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধানে গবেষণা হচ্ছে। একই সঙ্গে রাজধানী ঢাকা এবং বন্দর নগরী চট্টগ্রামে আক্রান্ত রোগী এবং মৃত্যুর কারণ নিয়েও গবেষণার কথা জানিয়েছেন দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম জিন রহস্য আবিস্কারক আন্তর্জাতিক অণুজীব বিজ্ঞানী ড. সমীর কুমার সাহা। এই জন্য দুটি এলাকা ছাড়াও চাঁদপুর থেকে বেশকিছু নমুনা সংগ্রহ করেছেন তিনি। এখন সেগুলো নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে বলেও জানান তিনি।

দেশে প্রথম বারের মতো ড. সমীর কুমার সাহা এবং তার মেয়ে ড. সেঁজুতি সাহা করেনোভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সিং অর্থাৎ গতি প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য ও ক্ষমতা সম্পর্কে গবেষণা করে বেশ সফলতা অর্জন করেন। তবে এখন এর প্রভাবে মৃত্যুর কারণগুলোও চিহ্নিত এবং রোগীর জীবন বাঁচাতে ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধক আবিষ্কারে আরো গবেষণা শুরু করেছেন বাবা এবং মেয়ে।

এ বিষয়ে শনিবার দুপুরে চাঁদপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. সাখাওয়াত উল্লাহ জানান, এই জেলার বেশির ভাগ রোগীর নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনে। এমন পরিস্থিতিতে করোনায় মৃত এমন ১০ জনের নমুনা প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ড. সমীর কুমার সাহার কাছে পাঠানো হয়েছে। চাঁদপুরে মৃত্যুহার বেড়ে যাবার কথা শুনে নিজেই উদ্যোগী হয়ে জটিল পরিস্থিতিতে মৃত্যু হওয়া এই ১০ জনের বিস্তারিত তথ্য এবং নমুনা চেয়ে নেন তিনি।

সিভিল সার্জন আরো জানান, প্রতিটি রোগীর মৃত্যুর জিনোম সিকোয়োসিং করতে একটু সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। আর পুরো কাজটি সম্পন্ন হলে শুধু চাঁদপুরেই নয়, গোটা দেশে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সঠিক কারণ এবং করোনাভাইরাস থেকে বাঁচার উপায়ও খুঁজে পাওয়া যাবে।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের জিন রহস্য আবিস্কার সম্পর্কে চাইল্ড হেলথ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অণুজীব বিজ্ঞানী ড. সমীর কুমার সাহা জানান, বাংলাদেশে যেভাবে সংক্রমণ ছড়িয়েছে তার জিনোম সিকোয়েন্সিং করে করোনাভাইসের গতি প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য এবং ক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা অর্জন অনেকটা এগিয়েছে। তিনি আরো জানান, রাজধানী ঢাকায় আক্রান্ত এবং মৃত্যুর কারণ এক রকম দেখালেও চট্টগ্রামে তার ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। এখন চাঁদপুরের নমুনাও দেখা হচ্ছে। ফলে বাংলাদেশে এই ভাইরাসটি নিমূর্লে কোন ধরণের ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধক প্রয়োগ করতে হবে তা জানতে আক্রান্ত এবং মৃতদের এই নমুনা এবং তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

নোয়াখালী জেলায় আদিনিবাস হলেও ড. সমীর কুমার সাহা বাবা মায়ের সঙ্গে চাঁদপুরেই বড় হন। তার বাবা চন্দ্রকান্ত সাহা ছিলেন চাঁদপুরের একজন প্রসিদ্ধ ব্যবসায়ী এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। বাবার নামেই ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন সংগীত নিকেতন, চাঁদপুর এর একটি ভবন নির্মাণ করে দেন ড. সমীর কুমার সাহা ও তার পরিবার। এমন তথ্য জানিয়েছেন, সংগঠনের অধ্যক্ষ স্বপন সেনগুপ্ত।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, চাঁদপুরে করোনা রোগী চিহিৃত করতে ঢাকায় যেসব নমুনা পাঠানো হয়। তার বেশির ভাগ চলে যায় চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনে। ফলে সেখান থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে রোগীর নমুনার ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে। তবে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠানে আরো কিছু নমুনা পাঠানো হয়। তার ফলাফল চাঁদপুরে পৌঁছাতে সপ্তাহ পেরিয়ে যায়। এই নিয়ে বিড়ম্ববনায় পড়তে হচ্ছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়, রোগী এবং রোগীর স্বজনদের।

অন্যদিকে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সূত্র মতে শনিবার পুলিশসহ নতুন ৪৪ জনের নমুনার রিপোর্ট মিলিয়ে চাঁদপুরে এখন করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ৫৫৫ জন। এরমধ্যে মারা গেছেন ৪৪ জন। আর করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরো ৬৮ জন।

প্রসঙ্গত, এর আগে নিউমোনিয়া, মেনিনজাইটিজ এবং ডেঙ্গু’র জিনোম সিকোয়েন্সিং করে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেন, চিকিৎসা জগতের এই বিজ্ঞানী ও তার মেয়ে সেঁজুতি সাহা। এদের মধ্যে ড. সমীর কুমার সাহা ঢাকায় চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাইন্ডেশনে এবং তার মেয়ে ড. সেঁজুতি সাহা ইংল্যান্ডে গবেষণায় আছেন।

লাইট নিউজ

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD