বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ১১:৫৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কোটাবিরোধী আন্দোলন শুক্রবার নিহতদের স্মরণে সারা দেশে দোয়া ও মোনাজাত বাংলাদেশে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে প্রত্যাশা ভারতের ‘পুলিশ মারলে দশ হাজার, ছাত্রলীগ মারলে পাঁচ হাজার ঘোষণা হয়েছিল’ এইচএসসি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী ইন্টারনেটের গতি বাড়াতে বিটিআরসির নির্দেশ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন শোয়েব মালিক নারায়ণগঞ্জে বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বে নাশকতা চালানো হয়েছে : পুলিশ গণতন্ত্রে রাজনৈতিক সহিংসতার কোনো স্থান নেই : মেয়র তাপস ২৫ হাজার কোটি টাকা ধার দিল বাংলাদেশ ব্যাংক নাশকতাকারীরা চিহ্নিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডা. সাবরিনাসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১০ জুলাই, ২০২৪

করোনা চিকিৎসায় নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ ও জেকেজি হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা চৌধুরীসহ সাতজনের নামে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার (১০ জুলাই) দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার আসামিরা হলেন— জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের ডা. সাবরিনা শারমিন হুসেন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, জেকেজি হেলথ কেয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফুল চৌধুরী, অফিস স্টাফ আ স ম সাঈদ চৌধুরী হুমায়ুন কবির ওরফে হিমু, তানজিনা পাটোয়ারী ও জেকেজি হেলথ কেয়ারের মালিক জেবুন্নেসা রিমা।

মামলায় আসামিদের নামে দণ্ডবিধির ১৬৮/৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারা তৎসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ এর ৫ (২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামি ডা. সাবরিনা জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউডের কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত থাকাকালে অসৎ উদ্দেশ্য এবং কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে জেকেজি হেলথকেয়ার নামক একটি লাভজনক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান পরিচয় ব্যবহার করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। তিনি স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ও অন্যদের যোগসাজশে অভিজ্ঞতাহীন, নিবন্ধনবিহীন, ট্রেডলাইসেন্সবিহীন তার স্বামী আরিফুল চৌধুরীর ওভাল গ্রুপের নাম সর্বস্ব প্রতিষ্ঠান জেকেজি হেলথকেয়ারকে কোভিড-১৯ এর নমুনা সংগ্রহের জন্য অনুমতি পাইয়ে দিতে সহযোগিতা করেছেন।

এজাহারে জানানো হয়, বিনামূল্যে বুথ থেকে করোনার স্যাম্পল কালেকশনের জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে অনুমোদন নিয়ে বুথ থেকে স্যাম্পল কালেকশন না করে সাবরিনা ও তার স্বামী আরিফুলের নির্দেশে তার অফিসের কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে টেস্ট ফি হিসেবে প্রতিটি টেস্টের জন্য আনুমানিক ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা নিয়ে তা যথাযথভাবে পরীক্ষা না করে ১৫ হাজার ৪৬০টি ভুয়া ও জাল রিপোর্ট করেছেন।

করোনাকালে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি এবং লকডাউন চলাকালীন ২০২০ সালের ১ এপ্রিল থেকে শুরু করে ৩০ জুন পর্যন্ত মাত্র তিন মাসে জিকেজি সংশ্লিষ্ট ওভাল গ্রুপ এবং এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ভেলবিল সিকিউরিটি সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোতে ১ কোটি ১৬ লাখ ৯০ হাজার ৭ টাকা জমা হয়েছে। যা করোনা টেস্টের টাকা মর্মে প্রতীয়মান হয়।

সাবরিনার অন্য অপরাধের বিষয়ে এজাহারে বলা হয়, তিনি প্রতারণা ও জালিয়াতির উদ্দেশ্যে নিজের জন্মতারিখ পরিবর্তন করে দুটো সচল জাতীয় পরিচয়পত্র বানিয়েছেন। তা দিয়ে দুটো ভিন্ন টিআইএন নম্বর খুলেন এবং প্রকৃত জন্মতারিখ ১৯৭৮ কে ১৯৮৩ বানিয়ে তার কর্মস্থলে মিথ্যা তথ্য প্রদান করে চাকরির মেয়াদ ৫ বছর পর্যন্ত বাড়িয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে সরকারি চাকরির সুযোগ-সুবিধা অবৈধভাবে গ্রহণের অপচেষ্টা করেছেন।

স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজির বিষয়ে বলা হয়, অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত থেকে কোডিডকালীন দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেননি। ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কাজের অভিজ্ঞতাহীন, নিবন্ধনবিহীন, ট্রেডলাইসেন্সবিহীন ডা. সাবরিনার স্বামী আরিফুল চৌধুরীর ওভাল গ্রুপের নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান জেকেজি হেলথ কেয়ারকে কোভিড-১৯ এর স্যাম্পল সংগ্রহের অনুমতি দিয়ে মহাপরিচালক হিসাবে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালে স্বামী আরিফ চৌধুরীর সহায়তায় প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে করোনা রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে ভুয়া মেডিকেল রিপোর্ট প্রস্তুত ও সরবরাহ করে ৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়াসহ জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তার (ডা. সাবরিনা চৌধুরী) বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ডা. সাবরিনা চৌধুরী পেশায় একজন হৃদরোগ সার্জন। তার স্বামী আরিফ চৌধুরী। আরিফের মালিকানাধীন জেকেজি হেলথ কেয়ার নামের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তারা ২৭ হাজার করোনা রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে। এরপর কোনো পরীক্ষা ছাড়াই ১৫ হাজার ৪৬০টি ভুয়া রিপোর্ট দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই সময়ে করোনার রিপোর্ট জালিয়াতির কারণে সাবরিনা চৌধুরীর স্বামী আরিফ চৌধুরীসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD