নেত্রকোনায় নতুন করে এবার দুই চিকিৎসকসহ আরও চারজন করোরায় আক্রান্ত হয়েছেন। দুই চিকিৎসক ছাড়া অন্য দুজনের বাড়ি মোহনগঞ্জে। তাঁরা ১২ এপ্রিল ঢাকা থেকে নিজ বাড়িতে আসেন।
আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ল্যাবে পরীক্ষায় তাঁদের শরীরে কোভিড-১৯ ধরা পড়ে।
এ নিয়ে জেলায় গত ১২ দিনে ৩৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে পাঁচ বছরের এক কন্যাশিশু ও ১০ জন নারী।
স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১০ এপ্রিল জেলায় প্রথম দুজনের শরীরে কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়। এর মধ্যে একজন খালিয়াজুরি উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্স। অপরজন সদর উপজেলার বাসিন্দা।
হাসপাতালের ওই নার্স গাজীপুরে ছুটি কাটিয়ে ৬ এপ্রিল কর্মস্থলে যোগদান করে তিন দিন ডিউটি করেন। এরপর তাঁর শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। আর সদরের ওই ব্যক্তি নারায়ণগঞ্জের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। সেখান থেকে ৯ এপ্রিল সর্দি-জ্বর নিয়ে নিজ বাড়িতে আসেন। এরপর তাঁর পাঁচ বছরের শিশুকন্যাটিও আক্রান্ত হয়।
এদিকে আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত জেলায় মোট ৩৩ জন করোনায় আক্রান্ত হন। তাঁদের মধ্যে সদর উপজেলায় ৪ জন, খালিয়াজুরিতে ৪ জন, বারহাট্টায় ১০ জন, মোহনগঞ্জে ৪ জন, কলমাকান্দায় ৩ জন, আটপাড়ায় ৩ জন, কেন্দুয়ায় ২ জন, মদনে ১ জন ও পূর্বধলায় ২ জন রয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ২ জন চিকিৎসক, ৬ জন স্বাস্থ্যকর্মী, ১৯ জন পোশাককর্মী, ১ জন শিশু, ১ জন এনজিওকর্মীসহ অন্যরা বিভিন্ন পেশায় রয়েছেন।
নেত্রকোনা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসা কর্মকর্তা উত্তম কুমার পাল বলেন, ওই দুই চিকিৎসক নিয়মিত ডিউটি পালন করে আসছিলেন। গতকাল সোমবার তাঁদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। আজ সন্ধ্যায় প্রাপ্ত প্রতিবেদনে তাঁদের শরীরে কোভিড-১৯ ধরা পড়ে। ধারণা করা হচ্ছে, হাসপাতালে কেউ করোনায় আক্রান্ত হয়ে সেবা নিতে আসার ফলে তাঁদের কাছ থেকে সংক্রমিত হয়েছেন।