বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ০৫:৩০ অপরাহ্ন

সারা পৃথিবী ব্যাপী গভীর সংকটে পর্যটন এবং এ্যাভিয়েশন খাত : নাজির আহমেদ সরকার

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২০

নাজির আহমেদ সরকার থাইল্যান্ড প্রবাসী : সম্প্রতি বিশ্ব ব্যাপী ছড়িয়ে পরা করোনা ভাইরাসের কারণে গভীর সংকটে পড়েছে পর্যটন এবং এ্যাভিয়েশন খাত। এই দুই খাতের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল। লক ডাউন হয়ে গেছে পুরো পৃথিবী। দেশে দেশে থমকে গেছে অর্থনীতির চাকা। প্রতিমূহুর্তে মানুষের মাঝে এখন মৃত্যুর আতঙ্ক।

পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে শেষ পর্যন্ত লোক সমাগম না হওয়ার জন্য বন্ধ করা হয়েছে মক্কা শরীফের মসজিদ আল হারাম এবং মদীনা শরীফের প্রিয় নবীর মসজিদ-ই-নববী। কোথাও কেউ শঙ্কা মুক্ত নয়। দীর্ঘ সময় ধরে আমি পর্যটন ব্যবসায়ার সাথে জড়িত থাকার কারণে কিছুটা হলেও ধারণা করতে পারছি কি করুণ পরিণতি হয়েছে এখাতের।

শত কোটি টাকা মূল্যে হোটেল-মোটল, উড়োজাহাজ, পর্যটন স্পট এখন দর্শনার্থী শূণ্য। এমন কি বিশ্ব ব্যাপী করোনা ভাইরাসের কারণে চাকরি হারিয়েছে লাখ লাখ মানুষ। মানুষগুলো নিরূপায় হয়ে পড়েছে। থাইল্যান্ডের পাতায় শহর জেগে থাকত মাঝ রাত পর্যন্ত। বিভিন্ন দেশের পর্যটকদের পদচারণায় যে শহর লোকারণ্য থাকত সে শহর আজ সুনশান। একে বারেই প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাহিরে নেই। এখন মাঝ রাতে রাস্তায় নামলে মনে হয় এ যেন এক ভূতুরে শহর। নেই কোনো বাদ্যযন্ত্রের শব্দ, নেই কোনো জনসমাগম। একেবারেই সব নিরব। এযেন একেবারেই এক অপরিচিত শহর।

করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বে অর্থনৈতিক সংকট প্রবল হতে পারে। আর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার যদি সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা না নেয়, তবে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ তাঁদের চাকরি হারাবেন। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ক’দিন আগে এধরনের তথ্য জানিয়েছে।

তাদের ভাষ্য মতে, ২০০৮ সালে বৈশ্বিক মন্দার সময় যেভাবে বিশ্বব্যাপী সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তেমনটা করা হলে সম্ভাব্য বেকারত্বের হার অনেক কম হতে পারে। সংস্থাটি বৈশ্বিক এ দুর্দশা থেকে রক্ষায় জরুরি, বৃহৎ ও সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ দিয়েছে। এর পাশাপাশি আর্থিক প্রণোদনা এবং আয় ও চাকরির ক্ষেত্রে সহযোগিতা দেওয়ার কথাও বলেছে। এসব উদ্যোগের মধ্যে আছে সামাজিক সুরক্ষা, স্বল্পমেয়াদি কাজের পরিধির প্রসার, ছোট ও মাঝারি আকারের শিল্পের শুল্ক হ্রাস।

করোনা মহামারির প্রভাব খুব স্বল্পমাত্রায় হলে চাকরি হারাবেন অন্তত ৮০ লাখ মানুষ। আর এর প্রভাব খুব বেশি মাত্রায় হলে বেকার হয়ে পড়া মানুষের সংখ্যা দাঁড়াবে ২ কোটি ৪৭ লাখ। ২০০৮-০৯ সালে বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের সময় চাকরি হারিয়েছিলেন ২ কোটি ২০ লাখ মানুষ।

করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) প্রভাবে ‘মহাবিপর্যয়ে’ পড়েছে বৈশ্বিক এভিয়েশন খাত। করোনায় আক্রান্ত দেশ থেকে ভ্রমণ স্থগিত করায় ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে এয়ারলাইনসগুলোর রুট। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বিদেশে না যাওয়ার নির্দেশনায় যাত্রীসংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। প্রায় ৯৫ শতাংশ যাত্রীই টিকিট বাতিল করেছে। এতে একের পর এক ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হওয়ায় দেশের বিমান সংস্থাগুলো বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ২৭০ কোটি টাকা ক্ষতির মুখে পড়েছে। ফ্লাইট কাটছাঁট এবং লোকজন ওমরাহ হজে যেতে না পারায় বিমানকে এই ক্ষতি গুনতে হবে। তবে বেসরকারি এয়ারলাইনসগুলোর অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয়। টিকে থাকতে করোনাভাইরাস সময়কালে ল্যান্ডিং, পার্কিং, নেভিগেশন চার্জ মওকুফসহ সরকারের নীতি সহায়তা চেয়েছে তারা।

শুধু তাই নয়। সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে যে সব দেশের মূল অর্থনৈতিক স্তম্ভ পর্যটন। বিশেষ করে নেপাল, ভূটান, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর এসব দেশের এই খাতের বিপর্যয় নেমে এসেছে। হোটেল মালিকরা খরচ কমাতে কর্মী ছাটাই করতে বাধ্য হচ্ছে।

সকলেই চরম এক অনিশ্চয়তায় পড়েগেছে। কবে এই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পাবে পুরো পৃথিবী সেই আশায় বুক বাঁধছে সবাই। মহান সৃষ্টিকর্তা পৃথিবীর সব মানুষকে হেফাজত করুণ। সকলেরই মঙ্গল কামনা করছি। সেই সাথে মনে করিয়ে দিতে চাই, নিজে সচেতন হোন এবং অন্যকে সচেতন করুণ। বারবার হাত পরিষ্কার করুণ।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD