সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:০১ অপরাহ্ন

আগে মায়ের মর্যাদা, তারপর ফ্যামিলি কার্ড: জামায়াত আমির

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘চট্টলাবাসীর একটি ঐতিহ্য আছে। অনেকে আক্ষেপ করে বলেছেন-নামে এইট বাণিজ্যিক রাজধানী, তবে কাজে ফকফকা। কিছু মানুষ যুগ যুগ ধরে এ বন্দর বিক্রি করে কপাল বানিয়েছে। আগামীতে এ সুযোগ আর দেওয়া হবে না।’

আজ সোমবার রাতে চট্টগ্রাম নগরীর বন্দর কলেজ মাঠে মহানগর জামায়াত আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।

এক হাতে ফ্যাসিবাদকে এবং আরেক হাতে মায়ের গায়ে যারা হাত তুলেছে তাদেরকে লাল কার্ড দেখানোর জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আগে মায়ের মর্যাদা, তারপর ফ্যামিলি কার্ড। মানুষ কোনো কার্ডের ধার ধারে না। মায়েদের গায়ে হাত দিলে আগুন জ্বলে উঠবে। ভয় দেখিয়ে লাভ হবে না।’

এসময় হ্যাঁ ভোটের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপিকে ইঙ্গিত করে জামায়াত আমির বলেন, ‘খেলার নাম বাবাজি। এখন তারা হ্যাঁ ভোটের কথা বলতে শুরু করেছেন। তবে তাদের মুখের কথা যেন মনের কথা হয়।’

চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় চট্টগ্রাম-৮ আসনে ১১ দলীয় জোটের শরীক দল এনসিপির প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফের হাতে শাপলা কলি প্রতীক, চট্টগ্রাম-৯ আসনে জামায়াত প্রার্থী ডা. একেএম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম-১০ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী, চট্টগ্রাম-১১ আসনে মো. শফিউল আলম এবং খাগড়াছড়ি আসনে এয়াকুব আলী চৌধুরীর হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দিয়ে তাদেরকে পরিচয় করিয়ে দেন। এসব প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চান জামায়াত আমির। সমাবেশে ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের সিনিয়র নেতারা বক্তব্য রাখেন।

জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান নিজেদেরকে জন্মভূমির পাহারাদার হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, ‘দেশের জন্য জীবন দেব। কিন্তু দেশের এক ইঞ্চি মাটিও কাউকে দেওয়া হবে না। কারো কোন আধিপত্য মানা হবে না।”

চট্টগ্রাম শুধু বাণিজ্যিক রাজধানী নয়, চট্টগ্রামকে প্রতিরোধের রাজধানী হিসেবে আখ্যায়িত করে জামায়াত আমির বলেন, ‘এই চট্টগ্রাম থেকে বীর সন্তান কর্নেল অলি আহমদ প্রথম বলেছিলেন “উই রিভোল্ট”। জিয়াউর রহমানকে হাত ধরে এনে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি বিএনপির দ্বিতীয় ব্যক্তি ছিলেন। তিনিই বলেছেন, এই বিএনপি জিয়াউর রহমানের বিএনপি নয়, খালেদা জিয়ার বিএনপি নয়।”

বিএনপিকে ইঙ্গিত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘তাদের শীর্ষ নেতাদের হাত ধরে বলেছিলাম, আল্লাহর দোহাই লাগে চাঁদাবাজি বন্ধ করুন। এখানে-ওখানে চাঁদাবাজি শুরু হলো, দখলদারি শুরু হলো। এসব কারণে তাদেরই ৩৬ জন মারা গেল। সেই দলের নেতাদের অনুরোধ সত্ত্বেও তারা ভালো পথে আসেননি। তারা মা-বোনদের গায়ে হাত দেয়, হুমকি দেয়। কাপড় খুলে ফেলে। তাদের বলব, প্রথমে মাকে সম্মান কর।’

নিজের আইডি হ্যাক করা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমার আইডি হ্যাক করে এমন জঘন্য বিষয় করা হয়েছে, যা মুখে বলা যায় না। এমন নোংরা কথা জীবনে বলিনি, শুনিওনি। ইতোমধ্যে আবিষ্কার হয়েছে কারা এটা করেছে। তাদের পেছনে কারা, সেটাও আবিষ্কার করা হবে।’

এসময় দুইদিন আগে শেরপুরে দলের একজন নেতাকে হত্যার বিষয়টি তিনি উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে জুলাইকে যারা স্বীকৃতি দেয়নি তাদের মেনে নেবে না জানিয়ে জাতি লাল কার্ড দেখিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জনসভায় বক্তব্য রাখেন জামায়াতের নায়েবে আমীর আ ন ম শামসুল ইসলাম, কর্ম পরিষদ সদস্য অধ্যাপক আহসান উল্লাহ, ডাকসু জিএস এসএম ফরহাদ হোসেন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা মিতু প্রমুখ।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD