অর্থ, মানবপাচার ও ভিসা বাণিজ্যের অভিযোগে কুয়েতে গ্রেফতার সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম পাপুলকে বেসরকারি এনআরবি কমার্শিয়াল (এনআরবিসি) ব্যাংকের পরিচালকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ব্যাংকটির ভাইস চেয়ারম্যান ও এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজের চেয়ারম্যান পদ থেকেও তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন এনআরবিসি’র চেয়ারম্যান তমাল এসএম পারভেজ।
সোমবার (২৯ জুন) তিনি বলেন, করপোরেট গভর্নেন্সের অংশ হিসেবে পর্ষদ পাপুল সাহেবকে পরিচালকের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে। তার নামে বর্তমানে একটি ইনভেস্টিগেশন চলছে। এই ইনভেস্টিগেশন চলাকালীন সময়ে তিনি আপাতত পর্ষদে থাকতে পারবেন না। তবে ইনভেস্টিগেশন শেষ হলে তিনি আবারও ব্যাংকের পর্ষদে আসতে পারবেন।
উল্লেখ্য, পাপুল লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য। প্রতারণা, অর্থপাচার ও ভিসা বাণিজ্যের অভিযোগে গত ৬ জুন রাতে কুয়েতের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তাকে সেদেশে গ্রেফতার করে। সর্বশেষ গত ২৪ জুন তাকে ২১ দিনের জন্য কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।
জানা গেছে, এনআরবিসি প্রতিষ্ঠার সময় পাপুল ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের দুই কোটি শেয়ারের মালিকানা কেনেন। বর্তমানে তার শেয়ার রয়েছে প্রায় দুই কোটি ৩২ লাখ। এটি ব্যাংকটির মোট শেয়ারের সাড়ে ৪ শতাংশ। তাকে পরিচালক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত ব্যাংকটিতে তার শেয়ার থাকবে।
প্রসঙ্গত, কুয়েতে গ্রেফতারের পর সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) পাপুল বা তার স্বার্থ-সংশ্নিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব তলব করে। বিএফআইইউ তার অর্থপাচারের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। আর দুর্নীতি দমন কমিশন এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকেও তার বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে।