আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে প্রায় দুই ডজন বেসরকারি ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এই সব বেসরকারি প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বেশিরভাগেরই নেই রেজিস্ট্রেশন। অনুমোদনবিহীন এইসব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে করোনা ভাইরাসের মাঝেও চলছে সেবার নামে বাণিজ্য।
উপজেলায় সরকারিভাবে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল থাকা সত্ত্বেও প্রায় দুই ডজন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে উঠেছে। সম্প্রতি সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ক্লিনিকগুলোর সামনে বিভিন্ন অভিজ্ঞ ও ডিগ্রিপ্রাপ্ত বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের সাইনবোর্ড ঝুঁলানো রয়েছে। একই ডাক্তারের নাম একাধিক ক্লিনিক ও হাসপাতালের সাইনবোর্ডে শোভা পাচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে গিয়ে কোনো এমবিবিএস ডাক্তার দূরের কথা এমনকি সহকারী কোনো ডাক্তারের দেখা মিলেনি। হাসপাতালে কর্মরত নার্স ও ওয়ার্ডবয়দের সাথে কথা বলে ডাক্তারদের অবস্থান জানতে চাইলে কেউ সদুত্তর উত্তর দিতে পারেননি। অথচ সরকারি নিয়মানুসারে হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে একজন এমবিবিএস ডাক্তার থাকা বাধ্যতামূলক।
প্রাথমিক পর্যায়ে ঢাকা ডিজি অফিসে এসব বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদনের জন্য আবেদনের সময় ডাক্তার রয়েছে বলে আবেদনপত্রে উল্লেখ করেন এবং জেলা সিভিল সার্জন অফিস থেকে তদন্ত কমিটি সরেজমিনে এসব ক্লিনিক ও হাসপাতালে গেলে এমবিবিএস ডাক্তার রয়েছে বলেও জানানো হয়। সেই সাথে প্রয়োজনীয় কাঠামো উন্নত যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষিত নার্স বা ওয়ার্ডবয়দের বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে ক্লিনিকের কয়েকজন ম্যানেজার জানান, উপজেলার প্রায় অধিকাংশ হাসপাতাল ও ক্লিনিকে কোনো এমবিবিএস ডাক্তার নেই। ডাক্তারের প্রয়োজন হলে তাদের মোবাইলে কল করলে ওইসব ডাক্তাররা সরকারি কাজ ফেলে প্রাইভেট কার অথবা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বরাদ্দকৃত সরকারি গাড়ি নিয়ে ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোতে ছুটে আসেন। নির্ধারিত রোগীর চিকিৎসা কিংবা অপারেশন সেরে মোটা অংকের টাকা নিয়ে আবার সেই গাড়িযোগেই জেলা শহর বা তার কর্মস্থলে ফিরে যান।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে কর্মরত নার্স ওয়ার্ডবয়দের অধিকাংশদের কোনো প্রশিক্ষণ নেই। অথচ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিভিন্ন মুমূর্ষ রোগীসহ অপারেশন হওয়া রোগীদের এমবিবিএস ডাক্তারের অনুপস্থিতেই তারাই একমাত্র ভরসা। আবার উপজেলায় এসব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিকে অনেকেরই নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র। বছরের পর বছর ধরে ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে এসব প্রতিষ্ঠান। এসব প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে চিকিৎসা সেবা ও রোগ নির্ণয়ের নামে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। উপজেলার অত্যাধুনিক দ্বিতল বাসা ভাড়া নিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকরা করোনা ভাইরাসকে উপেক্ষা করে সাধারণ মানুষের সরলতা নিয়ে চিকিৎসা সেবার দেওয়ার নামে অবাধে চালিয়ে যাচ্ছেন বাণিজ্য। স্বাস্থ্যখাতে ব্যপক অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সরকার নড়েচড়ে বসেলেও দুপচাঁচিয়া উপজেলায় চিকিৎসার নামে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠা এসব বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে সেবার নামে এখনো বাণিজ্য চলছেই। তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযান চালানো হয়নি।
দুপচাঁচিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আব্দুল কুদ্দুস মন্ডল জানান, উপজেলায় মোট ২৫টি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এসব ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোকে হালনাগাদ তথ্যাদিসহ অনুমোদন গ্রহণের জন্য ইতিপূর্বে লিখিতভাবে পত্র দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে থেকে ১১টি বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ অনলাইনে তাদের আবেদন করার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও অন্যরা অদ্যবধি অনুমোদনের জন্য আবেদন করেন নাই। এইসব অনুমোদিত ক্লিনিক ও হাসপাতালের বিরুদ্ধে অচিরেই যৌথ বাহিনীর অভিযান পরিচালনাসহ প্রশাসনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সূত্র : কালের কণ্ঠ।