বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যুক্তরাজ্যের এমপি ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি টিউলিপ সিদ্দিকের ২০০৬–১৯ সালের ১৩ বছরব্যাপী আয়কর রিটার্ন ও সংশ্লিষ্ট নথি জব্দ করেছে। জব্দ নথিতে ‘অসঙ্গতি ও মিথ্যা তথ্য’ থাকার অভিযোগ করেছে দুদক।
দুদকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তিনি ২০০৬–১৯ পর্যন্ত নিয়মিত রিটার্ন দাখিল করার পর ২০১৯–২০ করবর্ষে বাদ দিয়ে তিনি আর রিটার্ন দাখিল করেননি। ২০০৬–১৫ সালের রিটার্নে প্রতি বছর ‘অ্যাডভান্স টুওয়ার্ডস ডেভেলপার্স’ নামে ৫ লাখ টাকার খরচ দেখানো হয়েছে।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, টিউলিপ ঢাকার গুলশান এলাকায় ফ্ল্যাট একটির মালিক হলেও তা ‘গোপন’ রেখে আবাসন কোম্পানিকে অগ্রিম অর্থ প্রদানের তথ্য দিয়েছেন। পরে প্রতিবেশীকে হেবা হিসেবে স্থানান্তরের দাবিও করেছেন। তবে নোটারির দলিল নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে হওয়া নিয়মাবলীর পরিপন্থী, এবং সংশ্লিষ্ট স্বাক্ষর নকল বলে নোটারি পাবলিক গাজী সিরাজুল ইসলাম দাবি করেছেন।
দুদকের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গুলশান কার্যালয়ে তার নামে রেজিস্ট্রি না থাকা সত্ত্বেও ফ্ল্যাট মালিকানা ছিল, এবং হেবার দলিল ২০১৫ সালে করা হলেও তা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিবন্ধন হয়নি। সুতরাং, ফ্ল্যাটটি ‘অবৈধ উপায়ে’ অর্জিত বলেই টিউলিপ তা আয়কর নথিতে ‘গোপন’ রেখেছেন এবং আবাসন কোম্পানিকে অগ্রিম টাকা দেওয়ার ‘মিথ্যা তথ্য’ দেখিয়ে ফ্ল্যাটটি বোনের নামে হস্তান্তরের ‘অপচেষ্টা’ করেছেন বলে দুদক মনে করছে।
এসব আয়কর নথিতে টিউলিপের নাম কোথাও রিজওয়ানা সিদ্দিক, কোথাও রিজওয়ানা সিদ্দিক টিউলিপ, আবার কোথাও টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক লেখা হয়েছে। সইগুলোও সব মেলে না, মনে হয় ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির হাতের লেখা। আবার নামের বানানের সঙ্গে কোনো কোনো সইয়ে লেখা বানানেও অসঙ্গতি দেখা যায়।
যুক্তরাজ্য সরকারের খাতায় টিউলিপের নাম টিউলিপ সিদ্দিক। ব্রিটিশ সরকারি দলিলে তার যে সই দেখা যায়, তার সঙ্গে দুদকের জব্দ করা আয়কর নথির স্বাক্ষরের মিল নেই।
তবে বাবার নাম শফিক আহমেদ সিদ্দিক, মায়ের নাম শেখ রেহানা, জন্ম তারিখ ১৬ সেপ্টেম্বর ১৯৮২ সঠিকভাবেই আছে। আর আয়কর নথির ছবিও টিউলিপের।
দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন বলেন, ‘রিজওয়ানা সিদ্দিকের বিরুদ্ধে দুদকের মামলার তদন্ত চলমান। তদন্তের পর্যায়ে দালিলিক প্রমাণ সংগ্রহের অংশ হিসেবে অভিযুক্তের যেকোনো নথিপত্র তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রয়োজন মনে করলে জব্দ করতে পারেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে তার আয়কর নথিও জব্দ করা হয়েছে। এসব নথি বিশ্লেষণ করে তদন্ত কর্মকর্তা একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করবেন, যা কমিশনের অনুমোদনের পর আদালতে বিচারের জন্য দাখিল করা হবে।’