লালমনিরহাট প্রতিনিধি : ঘরে দানাটুকুও নেই। তাই তিন দিন ধরে অনাহারে প্রসূতি হাসিনা বেগম। শেষমেশ গত সোমবার রাতে পাশের বাড়ি থেকে আধা কেজি চাল ধার করে আনেন। তা ফুটিয়ে কোনোমতে ক্ষুধা নিবারণ করেন তিনি। রাত পোহাতেই হাসিনার কোল আলো করে আসে পুত্রসন্তান। কিন্তু জন্মের পর মায়ের শালদুধ পান করারও সৌভাগ্য হলো না শিশুটির। তার আগেই বুকের ধন বিক্রি করে দেন বাকপ্রতিবন্ধী হাসিনা বেগম।
গত মঙ্গলবার লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের তালুক হরিদাস মৌজার নয়াবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, ঋণ পরিশোধ করতে এবং অভাবের তাড়নায় প্রিয় সন্তানকে বিক্রি করে দিয়েছেন হাসিনা বেগম।
সরেজমিন জানা গেছে, হাসিনা বেগম (৪৫) সারপুকুর ইউনিয়নের জোকদার আলীর দ্বিতীয় স্ত্রী। বিয়ের পর কিছুদিন স্বামীর বাড়িতে থাকলেও পরে স্থান হয় ভাই কেরামত আলীর বাড়িতে। ভাঙা ঝুপড়ি ঘরে এক মেয়ে ও দুই ছেলে নিয়ে তার বসবাস। সম্প্রতি মেয়ে রোশনার বিয়ে হয়েছে। স্বামী জোকদার খোঁজখবর রাখেন না হাসিনার সংসারের। তাই মানুষের বাড়িতে কাজ করে কোনোমতে সংসার চালান এই নারী। করোনাকালে মহাসংকটে পড়েন হাসিনা বেগম। কাজ না থাকায় মানুষের কাছে হাত পেতে ও ঋণ করে সংসার চালান। এতে দেনা হয়ে যায় প্রায় ১০ হাজার টাকা। অনেকেই সরকারি সাহায্য পেলেও তিনি পাননি। এমনকি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ডও পাননি হাসিনা।
সন্তান জন্মের পর কুড়িগ্রামের রাজারহাট এলাকার মোকছেদ আলীর কাছে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন হাসিনা বেগম। তার ভাই কেরামত আলী জানান, সন্তান বিক্রি করে পাওয়া টাকার মধ্যে ১০ হাজার ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি টাকা হাসিনার চিকিৎসা ও ভাঙা ঘর মেরামতে ব্যয় করা হবে। হাসিনা বলেন, ‘বাহে, ছাওয়াটা ওই খানত ভালো থাকবে। অভাবের সংসারে বাচ্চাক খাওয়ামো কী?’
মোকছেদ আলী জানান, তার নিঃসন্তান মেয়ের জন্য তিনি হাসিনার সন্তানকে নিয়েছেন।
আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মুনসুর উদ্দিন বলেন, হাসিনা ও তার ভাইকে ‘জমি আছে ঘর নেই’ প্রকল্পের আওতায় ঘর দেওয়া হবে। এ ছাড়া তাকে প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ডও দেওয়া হবে।