মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ০৫:০৩ পূর্বাহ্ন
এএফপিকে তারেক রহমান

নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের প্রত্যাশা, ভাবনায় ‘বিশাল’ চ্যালেঞ্জ

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদের শীর্ষ প্রার্থী বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই নির্বাচনে জয়ী হলে সামনে তার জন্য ‘বড়’ চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে বলে মনে করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত হওয়া আগের সরকারের আমলে লুটপাট হওয়া দেশকে মেরামতের অঙ্গীকার রয়েছে তার। দেশে বিপুলসংখ্যক বেকার রয়েছেন, তাদের জন্যও ভাবনা রয়েছে এবং দেশের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ফ্রান্সের বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

সামনের কাজ হবে অত্যন্ত কঠিন

তিনি জানান, আগামী বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে বিজয়ী হলে তার প্রথম অগ্রাধিকার হবে নিরাপত্তাব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করা; যাতে ২০২৪ সালে তরুণদের নেতৃত্বাধীন অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসন উৎখাতের পর দেশকে গ্রাস করা রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান ঘটে।

তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে হবে, যাতে মানুষ নিরাপদ থাকেন।’ তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘১৭ কোটি মানুষের দক্ষিণ এশীয় এই দেশের সামনের কাজ হবে অত্যন্ত কঠিন।’

ক্ষমতাচ্যুত সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণ নাগরিকদের অবহেলার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে গেছে। গত শাসনামলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে, জ্বালানি খাত ধ্বংস হয়েছে।’

নিরঙ্কুশ বিজয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী

ভোটে এগিয়ে থাকলেও দেশের সবচেয়ে বড় ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের কাছে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে তারেক রহমানের বিএনপি।

নিজ কার্যালয়ে বসে মৃদুভাষী বিএনপির এই নেতা এএফপিকে বলেন, তিনি নিরঙ্কুশ বিজয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি জনগণের কাছ থেকে একটি স্পষ্ট ম্যান্ডেট পাব—একটি বড় ম্যান্ডেট।’

বর্তমান তার দলের জোটের বাইরে কোনো জোটের প্রয়োজন দেখছেন না জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘নিজেদের সরকার গঠনের মতো আমরা পর্যাপ্ত আসন পাব।’

ভালো করতে চান মা-বাবার চেয়েও

শেখ হাসিনার শাসনামলে যুক্তরাজ্যে ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর গত ২৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশে ফেরেন ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান। দেশে ফেরার কয়েক দিন পরই হারান মা বেগম খালেদা জিয়াকে। যিনি বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এরপরই দলের সিদ্ধান্তে তিনি বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।

খ্যাতিমান বাবা-মায়ের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘তারা ছিলেন তারা। আর আমি আমিই।’ তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমিও আজীবন রাজনীতিতে কাটিয়েছি। আমি তাদের চেয়ে ভালো করার চেষ্টা করব।’

নির্বাচিত হলে তার সামনে থাকা শীর্ষ কাজগুলোর একটি হবে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক উৎপাদনকারী দেশের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করা। তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের সামনে গুরুতর চ্যালেঞ্জ রয়েছে; অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘দেশে বিপুলসংখ্যক বেকার রয়েছেন। আমাদের এই তরুণদের চাকরির জন্য ব্যবসা সৃষ্টি করতে হবে। বিশেষ করে নারীদের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।

প্রতিবেশীর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক চান

বাংলাদেশ ও প্রতিবেশী ভারতের সম্পর্কে টানাপোড়েন থাকায় পররাষ্ট্র সম্পর্কের বিষয়ে সতর্ক মন্তব্য করেছেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘আমার জনগণের স্বার্থ এবং দেশের স্বার্থই সবার আগে। তবে বাংলাদেশ আশপাশের দেশগুলোর সঙ্গে অন্তত “প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক” চাই।’

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে আত্মগোপনে রয়েছেন এবং গত নভেম্বরে মানবতাবিরোধী অপরাধে তার অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের দ্রুত অর্থনৈতিক উত্থানের দেখভালের জন্য একসময় প্রশংসিত হলেও, শেখ হাসিনা এমন এক সরকারের নেতৃত্ব দিয়েছেন; যে সরকার ভিন্নমত দমন করেছে এবং বিশেষ করে বৃহৎ সরকারি অবকাঠামো প্রকল্প থেকে ব্যাপক লুটপাটে অভিযুক্ত।

তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা যা দেখছি, তা হলো মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি হয়েছে। কয়েকজন মানুষকে অত্যন্ত ধনী করা হয়েছে। কিন্তু দেশের বাকি অংশ; পুরো জনগণ কিছুই পায়নি।’

তবে আইনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোকে নিষিদ্ধ করার বিরোধিতা করেন তারেক রহমান।

নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এবারের নির্বাচনে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করেছে।

তারেক রহমান বলেন, ‘নিশ্চয়ই, কেউ যদি কোনো ধরনের অপরাধে জড়িত থাকে, তাহলে আইন অনুযায়ী তার শাস্তি হওয়া উচিত।’

সূত্র : এএফপি

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD