আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-তে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত মিখাইল উলিয়ানভ।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি পরিত্যাগের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে রাশিয়া। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-তে রাশিয়ার প্রতিনিধি মিখাইল উলিয়ানভ বলেছেন, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি পরিচালনার অধিকার ইরানের রয়েছে।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সমালোচনা করেন উলিয়ানভ। তিনি বলেন, পারমাণবিক কর্মসূচি পরিত্যাগে ইরানকে বাধ্য করা যায় না এবং পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের অধিকার দেশটির রয়েছে।
উলিয়ানভ আরও অভিযোগ করেন, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ এবং আইএইএ-এর কার্যক্রম সম্পর্কে ‘ভুল ধারণার’ ওপর ভিত্তি করে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসন ইরান ইস্যুতে অবস্থান নিয়েছে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজের বক্তব্যের জবাবেই রুশ প্রতিনিধি এসব মন্তব্য করেন। ওয়াল্টজের অভিযোগ, ইরান আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন করেছে এবং বিশ্বাসযোগ্য বেসামরিক প্রয়োজন ছাড়াই ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে।
ইরান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। তেহরানের বক্তব্য, পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের অধিকার পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি)-এর আওতায় দেশটির রয়েছে।
ইরান আরও বলে আসছে, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ও পরিদর্শন চললেও পারমাণবিক উপাদান সামরিক কাজে সরিয়ে নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা এবং পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ উদ্দেশ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।
২০২৫ সালের সংঘাতের পর ইরানের পার্লামেন্ট আইএইএ-এর সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিতের জন্য সরকারকে নির্দেশ দিয়ে একটি আইন পাস করে। ওই আইনের আওতায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কার্যক্রমের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আইএইএ পরিদর্শকদের প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার বিধান রাখা হয়।
ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, আইএইএ-এর একটি প্রস্তাব এবং পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার নিন্দা জানাতে সংস্থাটির ব্যর্থতার পরিপ্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এরই মধ্যে স্পষ্ট করেছেন, দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা আলোচনার বিষয় নয়।
ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের অধিকারকে সম্মান করার আহ্বান জানিয়েছে চীনও। জাতিসংঘে চীনের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি সুন লেই বৃহস্পতিবার বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইরানের বৈধ অধিকারকে সম্মান করা উচিত।
ইরানের পারমাণবিক ইস্যুর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের ওপরও জোর দিয়েছে বেইজিং।
এদিকে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তেহরানের মধ্যে মতবিরোধ অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেও ইরান আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করেনি; তবে তেহরান বলছে, যে কোনো আলোচনায় তাদের অধিকার ও সার্বভৌমত্বকে সম্মান করতে হবে।