স্টাফ রিপোর্টার : পিয়াসা ও মৌ মডেল হিসেবে পরিচিত হলেও মিডিয়ায় তাদের তেমন কোনও কাজই আলোচনায় আসেনি। মডেল বা অভিনেত্রী হিসেবে এ অঙ্গনে সফলতা পাননি। তবে বিলাসী জীবনযাপন করতেন তারা। নিজেদের পরিচয় দিতেন মডেল হিসেবে।
মডেল পরিচয়ের অন্তরালে মদ, ইয়াবাসহ নানান নেশাদ্রব্যের পসরা সাজিয়ে পার্টি করতেন তারা। আর এসব পার্টিতে আমন্ত্রণ জানাতেন সমাজের প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি ও ধনী পরিবারের সন্তানদের। ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে তাদের সঙ্গে অন্তরঙ্গ হতেন। সেসব দৃশ্য কৌশলে ধারণ করা হতো গোপন ক্যামেরায়। আর ওইসব ছবি, ভিডিওকে পুঁজি করে দিনের পর দিন ব্ল্যাকমেইল করতেন তাদের। পিয়াসা ও মৌ এভাবে বছরের পর বছর ধরে বহু মানুষকে পথে বসিয়েছেন।
নিজেদের মডেল পরিচয় দেয়া এই দুই নারীর বর্তমান পেশা মডেলিং নয় বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আসামিরা যে পরিচয়ই দেক না কেন, মামলার তদন্তের সময় প্রত্যেক আসামির পেশা, বয়স, বিস্তারিত ঠিকানা, পরিচয়, পূর্বের অপরাধ নিশ্চিত হয়ে চার্জশিট বা প্রতিবেদন দিতে হয়। পিয়াসা নিজেকে মডেল হিসেবে বোল্ডলি উল্লেখ করেছেন। বিভিন্ন কাজের উদাহরণও দিয়েছেন। তবে সেগুলো অনেক পুরানো কাজ। বর্তমানে তিনি কোনও কাজ পাননি বলে কাজ করেনি বলেও জানিয়েছেন। নিজেকে কখনো কখনও ব্যবসায়ী বলেও উল্লেখ করেছেন।’
মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট অপর একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘বর্তমানে পিয়াসা ও মৌ কেউই মডেলিংয়ের সঙ্গে যুক্ত না। তাদের মোবাইলের কথোপকথন, ব্যাংক লেনদেন এসব চেক করা হচ্ছে। বেশ কিছু তথ্য মিলেছে। দেশের বিভিন্ন ক্লাব, রিসোর্টে তাদের যাতায়াত ছিল, দেশি-বিদেশি অনেকের সঙ্গেই তাদের সখ্যতা ছিল। আবাসন ব্যবসায়ী, গাড়ি ব্যবসায়ী, হোটেল ব্যবসায়ীসহ অনেকের সঙ্গেই তাদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হতো। সেসব কথোপকথন যাচাই বাছাই করা হচ্ছে।’
প্রসঙ্গত, পিয়াসা-মৌ দুজনের আয়ের উৎস ও পেশার বিষয়ে এখনও তদন্ত চলছে। দুই দফা রিমান্ড শেষে এই দুই নারী বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।