মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

বাবরি মসজিদের আদলে বাংলাদেশে নির্মিত হচ্ছে বিশাল মসজিদ

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫

২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি ভারতের উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় রাম মন্দির উদ্বোধনের উৎসবমুখর মুহূর্তে যখন আলো ঝলমলে আয়োজন চলছিল, তখন সেই উৎসবের আড়ালে চাপা পড়ে ছিল প্রায় ৫০০ বছরের পুরনো এক ঐতিহাসিক স্থাপনার স্মৃতি, বাবরি মসজিদ। যে মসজিদটি আজ নেই, কিন্তু ইতিহাসে যার অবস্থান এখনো অমলিন।

অযোধ্যার সেই স্মৃতি বিলীন হয়ে গেলেও দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিম হৃদয়ে বাবরি মসজিদ এখনো বেঁচে আছে। আর সেই ইতিহাসকে নতুন করে জাগরুক করতেই বাংলাদেশের কেরানীগঞ্জের কলাতিয়ায়, ধলেশ্বরী নদীর তীরে বাবরি মসজিদের আদলে নির্মিত হচ্ছে এক বিশাল মসজিদ। জামিয়াতুত তারবিয়া আল ইসলামিয়ার পাশেই এই মসজিদ নির্মাণের কাজ চলছে অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে।

এই মহতী উদ্যোগের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহমাতুল্লাহি আলাইহি। প্রায় ছয় বিঘা (কিছু সূত্রে তিন বিঘা) জমির ওপর তৈরি হচ্ছে এই স্থাপনা। গম্বুজ, খিলান, দেয়ালের অলংকার সবকিছুতেই ফিরিয়ে আনা হচ্ছে মোগল স্থাপত্যের ছোঁয়া, যা মনে করিয়ে দেবে মীর বাকি নির্মিত ভারতের সেই ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদকে।

মসজিদ নির্মাণের অর্থায়ন পুরোপুরি মানুষের অংশগ্রহণের ওপর নির্ভরশীল। দায়িত্বশীলরা জানান, এখানে কোনো বড় দাতা বা বিদেশি অর্থায়ন নেই। কেউ এক বস্তা সিমেন্ট দিয়ে সহযোগিতা করছেন, কেউ নিজের জমানো টাকা এনে দিচ্ছেন। নবীপ্রেমিক মানুষের আবেগ, ভালোবাসা এবং ঈমানি চেতনা দিয়েই কাজটি এগিয়ে যাচ্ছে।

তারা বলেন, অযোধ্যায় যা হারিয়েছে, ধলেশ্বরীর তীরে তা নতুন রূপে ফিরে আসছে। এই মসজিদ শুধু একটি স্থাপনা নয়, বরং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, আত্মপরিচয় এবং ইতিহাস জাগিয়ে রাখার এক প্রতীক।

মসজিদ নির্মাণ বিষয়ে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির, বাংলাদেশের বাবরি মসজিদের স্বপ্নদ্রষ্টা আল্লামা আজিজুল হক রহ. এর সন্তান, বর্তমানে বাবরি মসজিদ নির্মানের উদ্যোক্তা মাওলানা মামুনুল হক বলেন,

বাবরি মসজিদ ধ্বংস হয়েছিল মুসলমানদের হৃদয়ে আঘাত করার জন্য। কিন্তু আল্লাহর কুদরতে সেই আঘাত আজ শক্তিতে পরিণত হয়েছে। একটি বাবরি মসজিদ শহীদ হয়েছে, কিন্তু সারা পৃথিবীতে হাজারো বাবরি মসজিদের চেতনা জেগে উঠেছে। ধলেশ্বরীর তীরে তৈরি হওয়া এই মসজিদ প্রমাণ করে, ইসলামের কোনো ইতিহাস কখনো মুছে যায় না। মুসলমানের ঈমান, ভালোবাসা এবং ঐক্যই এই কাজকে সফল করবে, ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, এই মসজিদ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মনে করিয়ে দেবে যে মুসলমানরা ইতিহাস ভুলে যায় না। বরং ইতিহাসকে ধারণ করে সামনে এগিয়ে যায়।

ইট-পাথর পুরোনো হতে পারে, কিন্তু এই মসজিদ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জানিয়ে দেবে হারানো বাবরি মসজিদের গল্প। অযোধ্যার স্মৃতি যেদিন মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল, সেদিনই যেন ইতিহাস নতুনভাবে লেখা শুরু হয়। আর সেই ইতিহাস আজ বাংলাদেশের বুকে দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। ধলেশ্বরীর তীরে নির্মিত এই মসজিদ শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি মুসলিম উম্মাহর মানসিক শক্তি, ঐতিহ্য এবং চেতনার এক নতুন প্রতীক।

-মুফতি আবদুল্লাহ তামিম।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD