চোটের কারণে প্রথম দুই ওয়ানডেতে খেলতে পারেননি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। তবে তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে ২২ গজে ফিরেই সে আক্ষেপ মেটালেন কাটার মাস্টার। স্লোয়ার, কাটার ও বাউন্সারের মতো বৈচিত্র্যময় বোলিং নৈপুণ্যে নিউজিল্যান্ডের ৫ ব্যাটারকে একাই শিকার করে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে জয় উপহার দিলেন বাংলাদেশকে। ব্যাট হাতে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেওয়ার কৃতিত্বটা অবশ্য নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাসের।
চট্টগ্রামে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে কিউইদের ৫৫ রানের ব্যবধানে হারিয়েছে লাল সবুজরা। তাতে তিন ম্যাচের সিরিজটি ২-১ ব্যবধানে জিতে নেয় স্বাগতিকরা।
এদিন ২৬৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে মোস্তাফিজ-নাহিদদের তোপে ৪৪.৫ ওভারে সব কটি উইকেট হারিয়ে ২১০ রানে থামে সফরকারীরা। ৪৩ রানের বিনিময়ে ৫ উইকেট নেন মোস্তাফিজ। ব্যাট হাতে ১০৫ রানের ইনিংস উপহার দেন শান্ত।
এরপর ডিন ফক্সক্রফট একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালানোর চেষ্টা করেন। তবে টাইগার বোলারদের তোপে কোনো কিউই ব্যাটারই তার যোগ্য সঙ্গী হয়ে উঠতে পারছিলেন না। অবশ্য ফক্সক্রফট যতক্ষণ ক্রিজে ছিলেন একাই ভীতি সঞ্চার করেছেন টাইগার শিবিরে। ১৬০ রানে কিউইদের নবম উইকেট তুলে নিয়ে মিরাজের দল যখন জয়ের আনন্দে বিভোর, তখন একের পর এক ছক্কা হাঁকিয়ে ভয় ধরিয়ে দেন ফক্সক্রফট। একে একে তার ছয়টি ছক্কায় ম্যাচের মোড় যেন ঘুরে যাচ্ছিল। এর মধ্যে ৪৫তম ওভারে আক্রমণে এসে মিরাজ তার ক্যাচও ছেড়ে দেন। যদিও এক বল পরে সাইফ হাসান দারুণ এক ক্যাচ ধরে সে ভুলের মাশুল শুধরে নেন। তাতে ৭২ বলে ৭ ছক্কায় ৭৫ রানে থামে ফক্সক্রফটের লড়াকু ইনিংস।
মোস্তাফিজ ছাড়াও বল হাতে এদিন বাংলাদেশের হয়ে নৈপুণ্য দেখিয়েছেন নাহিদ রানা, শরিফুল ইসলাম ও মিরাজ। নাহিদ ১০ ওভারে ৩৭ রান দিয়ে ১ মেডেনসহ ২ উইকেট তুলে নেন। শরিফুল ৭ ওভারে মাত্র ১৯ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন। ৮.৫ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন মিরাজ।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো ছিল না বাংলাদেশের। দলের খাতায় মাত্র ৯ রান যোগ হতেই সাজঘরে ফেরেন দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম (১) ও সাইফ হাসান (০)। দুজনকেই শিকার করেন উইল ও’রুর্কে। চাপ সামলে হাল ধরার চেষ্টা করা সৌম্য সরকারকেও সাজঘরে ফেরান এ কিউই পেসার। ২৬ বলে ১৮ রান করেন তিনি। মাত্র ৩২ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে লাল সবুজরা। তবে চতুর্থ উইকেটে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাস।