ডেস্ক রিপোর্ট : করোনাভাইরাসের মহামারির মধ্যেই লাদাখের বিতর্কিত এলাকা গালওয়ানে ভারত-চীন সীমান্ত সংঘাত চলছিল। দুই দেশের সীমান্তে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে লাদাখে ভারত-চীন প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর সেনা সরানো নিয়ে চিনা বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে আলোচনা করেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল।
ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আলোচনার কিছু সময় পরেই গালওয়ান এলাকা থেকে পিছু হটেছে ভারত ও চীনের সেনাবাহিনী। একথাও বলা হয় যে, ওই এলাকা থেকে চীন তাদের অস্থায়ী সেনাছাউনি ও কিছু অস্থায়ী কাঠামোও সরিয়ে নিয়ে গেছে।
এখন এমন প্রশ্নও উঠছে যে, ভারতের চাপেই কি চীনা সেনা পিছু হটেছে? নাকি এই ভরা বর্ষার মওসুমে গালওয়ান নদীর প্রতিকূল পরিস্থিতিই তাদের পিছু হটতে বাধ্য করেছে?
আসলে গালওয়ান নিয়ে এখন আর তেমন বিতর্ক নেই। সব বিতর্ক এখন প্যাংগং হ্রদ ঘিরেই। ভারতীয় সেনারা কি পারবে ঠিক আগের মতোই ফিঙ্গার ৮ এ টহল দিতে? বর্তমানে কিন্তু চীনের সামরিক বাহিনী এদেশের সেনাকে ফিঙ্গার ৪ এর বাইরে যেতে দেয় না। ভারতীয় সেনাদেরকে ওই এলাকায় টহল দেওয়া থেকে আটকাতে ফিঙ্গার ৪ থেকে ফিঙ্গার ৮ এর মধ্যে ৫০টি বাঙ্কারও তৈরি করেছে চীন।
সুতরাং, প্রশ্ন উঠেছে যে, এই পরিস্থিতিতে কীভাবেই বা চীনকে বিশ্বাস করা যায়? সত্যিই কী লালফৌজ লাদাখের গালওয়ান, হট স্প্রিং এবং গোগড়া থেকে পিছু হটছে? লাখ কথার এক কথা হলো, ১৯৬২ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত চীনের আচরণের যা ইতিহাস রয়েছে তার হিসেবে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে চীনকে বিশ্বাস করা কঠিন। চীন বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেছে ভারতীয় ভূখণ্ডে নিজেদের আধিপত্য দাখিল করতে।
এমন পরিস্থিতিতে চীন কি প্যাংগং লেকের ফিঙ্গার ৪ থেকে ফিঙ্গার ৮ এর পিছনে সরে আগের অবস্থানে চলে গেছে? অনেকেই কিন্তু বলছেন, গালওয়ান নদীর কাছে পেট্রোলিং পয়েন্ট ১৪ থেকে পিছু হটার কারণ আসলে ওই নদীতে ক্রমাগত জলস্তর বৃদ্ধি হওয়া।
কারণ চীনের সেনাবাহিনী সেখান থেকে পিছিয়ে না গেলে তারা বন্যার কবলে পড়বে। তাই চীন ভারতের চাপের কাছে নতিস্বীকার করে পিছু হটেছে একথা বিশ্বাস করা কঠিন হচ্ছে অনেকের কাছেই।
লাইট নিউজ