মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নিবন্ধনের আওতায় আসছে ব্যাটারিচালিত রিকশা হৃদরোগে মৃত্যুঝুঁকি কমাতে জনসচেতনতা বাড়ানোর বিকল্প নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী আসিফ নজরুলকে খন্দকার মোশতাকের সঙ্গে তুলনা করলেন ফজলুর রহমান রাশিয়ার সেনাসম্প্রসারণে পুতিনের নির্দেশ শুল্ক নিয়ে বাংলাদেশকে বড় সুখবর দিল যুক্তরাষ্ট্র ফেনীতে ১৫৪২ কোটি টাকার প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নিউগিনি আবাসনে হামলা, জামায়াত এমপির জামাই গ্রেপ্তার নিষেধাজ্ঞা এড়াতে রাশিয়ার জ্বালানি তথ্য প্রকাশে কড়াকড়ি পুতিনের রাজধানীর উত্তরা থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৫ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রাণ ফেরাতে ‘ডি থ্রি’ ট্রফি চালু করছে বিসিবি

রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন?

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে সরকার গঠনের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) এমপি ও মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের মধ্যদিয়ে আনষ্ঠানিকভাবে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পাবে দলটি। এ অবস্থায় আলোচনায় এসেছে কে হচ্ছেন আগামী দিনের রাষ্ট্রপতি।

এক্ষেত্রে দলীয়ভাবে আলোচনায় আছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খান। তবে এই তালিকায় থাকা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও মোশাররফ হোসেনের নাম জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে। আর রাষ্ট্রপতি করা না হলে মঈন খানকে স্পিকারের দায়িত্ব দেয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।

এদিকে নতুন সরকার গঠনের পরপরই বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে পারেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ২০২৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন ৭৫ বছর বয়সী মো. সাহাবুদ্দিন। পদত্যাগের বিষয়ে তিনি গত ডিসেম্বরে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‌‌আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ২০২৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন ৭৫ বছর বয়সী মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদের মেয়াদ পাঁচ বছর। সে হিসাবে ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত মেয়াদ আছে মো. সাহাবুদ্দিনের। যদিও সেই সময় পর্যন্ত তিনি পদে থাকছেন না, যা স্পষ্ট হয়েছে রয়টার্সের সঙ্গে দেয়া তার সাক্ষাৎকারে।

পদত্যাগের বিষয়ে রয়টার্সকে তিনি বলেছিলেন, ‌সব কনস্যুলেট, দূতাবাস ও হাইকমিশনে রাষ্ট্রপতির প্রতিকৃতি, রাষ্ট্রপতির ছবি ছিল। হঠাৎ এক রাতেই সেগুলো উধাও করে ফেলা হয়। এতে মানুষের কাছে ভুল বার্তা গেছে, যে সম্ভবত রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে। এতে আমি খুবই অপমানিত বোধ করেছি।

তবে নির্বাচন পর্যন্ত আছেন জানিয়ে মো. সাহাবুদ্দিন বলেছিলেন, ‘নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আমার দায়িত্ব পালন করে যাওয়া উচিত। সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতির পদে থাকায় আমি আমার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।’

বিএনপির মহাসচিব ১৯৮৮ সালের ঠাকুরগাঁও পৌরসভার নির্বাচনে অংশ নিয়ে পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। জেনারেল এরশাদের সামরিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে যখন দেশব্যাপী আন্দোলন চলছে, তখন মির্জা ফখরুল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে যোগদান করেন। ১৯৯২ সালে মির্জা ফখরুল বিএনপির ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। একইসঙ্গে জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের সহ-সভাপতির দয়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সালের ২০ মার্চ বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলওয়ার হোসেন মৃত্যুবরণ করার পর দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ঘোষণা করেন। ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ দলটির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে মির্জা ফখরুল মহাসচিব হিসেবে নির্বাচিত হন।

মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় পান। আওয়ামী লীগের রমেশ চন্দ্র সেনকে পরাজিত করেন তিনি। ওই সরকারের মন্ত্রিসভায় প্রথমে তিনি কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও পরবর্তীতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসন থেকে তিনি জয় পান। পরবর্তীতে শপথ গ্রহণ না করায় নির্বাচন কমিশন তার আসনটি শূন্য ঘোষণা করে।

৭৯ বছর বয়সী খন্দকার মোশাররফ হোসেন কুমিল্লা–১ আসন থেকে এবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে চারবার সংসদ সদস্য হন তিনি (১৯৯১, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ও ১২ জুন এবং ২০০১)। বিএনপির একটি সূত্র বলছে, খন্দকার মোশাররফ দলের কার্যক্রমে কিছুটা কম সক্রিয়। নিজেকে কিছুটা আড়ালে রাখেন, যাতে তাকে নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি না হয়।

সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নামটি আলোচনায় থাকলেও তাকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা করার পরামর্শ রয়েছে দলের ভেতর। খালেদা জিয়ার জানাজায় বিপুল জমায়েতে দলের পক্ষ থেকে বক্তব্য দিয়েছেন নজরুল ইসলাম খান। এবার বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটিরও আহ্বায়ক ছিলেন তিনি।

এছাড়া দলটির আরেক সিনিয়র নেতা আব্দুল মঈন খান এবার নিয়ে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এরআগে ১৯৯১, ১৯৯৬, এবং ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নরসিংদী-২ আসন থেকে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ১৯৯৩-১৯৯৬ মেয়াদে তিনি দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালে তিনি তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন। এছাড়া ওই সরকারের সময়ই তিনি বিজ্ঞান ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রীর দাযিত্ব পান। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘স্থায়ী কমিটি’র সদস্য হন মঈন খান।

এই তালিকা থেকেই একজন হতে পারেন দেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রপতি। মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের শপথের পরই স্পষ্ট হতে পারে, কে হচ্ছেন রাষ্ট্রপতি।

এরআগে, বিএনপির নেতৃত্বে ২০০১ সালে চারদলীয় জোট সরকার গঠনের পর এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। নিয়োগের সাত মাসের মাথায় তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ান।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD