মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ০১:৪৫ অপরাহ্ন

শিক্ষা সংস্কারে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তরুণদের যুক্ত করার আহ্বান ইউনেস্কো প্রধানের

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০২৬

তরুণদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত না করলে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত সংস্কার সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন ইউনেস্কোর হেড অব অফিস ও রিপ্রেজেন্টেটিভ টু বাংলাদেশ সুজান ভাইজ। তিনি বলেন, তরুণদের শুধু নির্দেশনা দেওয়া নয়, বরং শিক্ষাব্যবস্থার অংশীদার হিসেবে যুক্ত করাই সময়ের দাবি।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ঢাকার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সম্মানীয় অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

সুজান ভাইজ বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ যে সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সেখানে তরুণদের আবেগ, দায়বদ্ধতা ও পরিবর্তন আনার সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে তরুণদের উদ্যোগ ও সম্পৃক্ততা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গঠনে শিক্ষা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি প্রতিটি শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার ও সমাজের জন্যও শিক্ষা অপরিহার্য। এর প্রভাব ব্যক্তি থেকে শুরু করে পুরো সমাজজুড়ে বিস্তৃত।

তিনি আরও বলেন, তরুণরা ইতোমধ্যে বিজ্ঞান মেলা, স্কুলভিত্তিক উদ্ভাবনী কার্যক্রমসহ নানা সৃজনশীল উদ্যোগে যুক্ত হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জও রয়েছে। ২০২৩ সালের সর্বশেষ মূল্যায়নে দেখা গেছে, অষ্টম শ্রেণির ৫৪ শতাংশ শিক্ষার্থী বাংলা ভাষায় প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারেনি। গণিত দক্ষতার হার আরও কম। ভাষাজ্ঞান ও গণনাজ্ঞান জীবনধারণের মৌলিক দক্ষতা হলেও এই ঘাটতি উদ্বেগজনক।

আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে সুজান ভাইজ বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার এসব দুর্বলতা চিহ্নিত করে সম্মিলিতভাবে সমাধানের পথ খোঁজাই এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য।

ইউনেস্কোর যুব কর্মসূচির দর্শনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইউনেস্কো তরুণদের অংশীদার হিসেবে দেখে। তরুণরা শুধু উপদেশ শুনতে চায় না; তারা মাঠে কাজ করতে চায় এবং নিজেদের ভাবনা ও প্রস্তাব তুলে ধরতে আগ্রহী। দক্ষতা, উদ্ভাবন, সৃজনশীলতা ও সমালোচনামূলক চিন্তার ওপর আরও গুরুত্ব দেওয়ার দাবি তাদের। পাঠ্যক্রম ও শিক্ষাদান পদ্ধতি উন্নয়নে তরুণদের বাস্তবসম্মত অনেক প্রস্তাব রয়েছে।

শিক্ষা সংস্কারে শিক্ষার্থীদের অংশীদার হিসেবে যুক্ত করা হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই শিক্ষা ব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত রূপান্তর সম্ভব হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষকরা কেবল জ্ঞানদাতা নন; তারা পরামর্শক, দিকনির্দেশক ও শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশের সহযাত্রী।

এ ছাড়া প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে আগামী চার বছর শিক্ষক পেশাগত উন্নয়নে ইউনেস্কো ও ইউনিসেফ বিশেষ গুরুত্ব দেবে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ জাতীয় ইউনেস্কো কমিশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল সারভীনা মনীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা ও বিএনসিইউ চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব এবং বিএনসিইউ সেক্রেটারি জেনারেল রেহানা পারভীন।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD