ইংল্যান্ডের স্টোনহেঞ্জ যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে পরিচিত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোর একটি। সেখানে মাঝখানে একটি বড় পাথরকে ঘিরে রয়েছে আরো বেশ কয়েকটি বিশাল পাথর। এই মাঝের পাথরটির উৎস নিয়ে পাওয়া গেছে নতুন তথ্য। এ তথ্যের আলোকে গবেষকরা বলছেন, প্রাচীন এ স্থাপনাটি আগের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি যৌথ উদ্যোগ ছিল।
এত দিন মনে করা হতো, স্টোনহেঞ্জের মাঝের বেদির মতো ছয় টন ওজনের পাথরটি দক্ষিণ-পশ্চিম ওয়েলস থেকে আনা। নতুন বিশ্লেষণে জানা গেছে, আসলে এটি স্কটল্যান্ডের উত্তর প্রান্ত থেকে আনা হয়েছিল। এর অর্থ হচ্ছে, ইংল্যান্ডের স্যালিসবারির কাছে অবস্থিত প্রাচীন এই স্মৃতিস্তম্ভ যুক্তরাজ্যের সব অংশেরই পাথর দিয়ে নির্মিত হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, ইংল্যান্ড, ওয়েলস, স্কটল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ড মিলেই যুক্তরাজ্য।
নতুন এই গবেষণার ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে নব্যপ্রস্তুর যুগের ব্রিটেনের অঞ্চলগুলো অতীতের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি পরস্পরসংযুক্ত ও উন্নত ছিল।
স্টোনহেঞ্জ ও স্কটল্যান্ডের সুদূর উত্তরের মধ্যে দূরত্ব প্রায় ৭০০ কিলোমিটার। কারা এই কাঠামো ঠিক কী উদ্দেশ্যে নির্মাণ করেছিল তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে এটি স্মৃতিসৌধ বা ধর্মীয় স্থাপনা হতে পারে বলে মনে করা হয়।
নতুন গবেষণাটি চালানো হয়েছে ওয়েলসের পিএইচডি গবেষক অ্যান্টনি ক্লার্কের নেতৃত্বে। বৈজ্ঞানিক জার্নাল নেচারে প্রকাশিত হয়েছে এর বিবরণ।
ওয়েলসের পেমব্রোকশায়ার কাউন্টিতে জন্ম নেওয়া তরুণ অ্যান্টনি ক্লার্কের জন্য এটি একটি অম্লমধুর মুহূর্ত। কারণ বেদির পাথরটি তাঁর এলাকা থেকেই এসেছিল বলে মনে করা হতো এত দিন। এ গৌরব এখন গেল স্কটল্যান্ডের ঘরে।
অ্যান্টনি ক্লার্ক উল্লেখ করেছেন, কাঠামোর মাঝের ঘোড়ার নালের মতো অংশের বাকি পাথরগুলো ওয়েলসের আর বাইরের বৃত্তের বড় পাথরগুলো ইংল্যান্ডের। ‘স্কটদেরও তো কিছু দিতে হবে!’, মজা করে বলেন তিনি।
ক্লার্ক বলেন, মজা বাদ দিলে যেটা সিরিয়াসলি বলতে হয় তা হচ্ছে, স্টোনহেঞ্জ এক দারুণ সম্মিলিত ব্রিটিশ প্রচেষ্টা। গোটা দ্বীপের সব ধরনের জাতির মানুষকে যুক্ত করেছিল এ প্রকল্প।
স্টোনহেঞ্জের নির্মাণ শুরু হয়েছিল পাঁচ হাজার বছর আগে। পরবর্তী দুই সহস্রাব্দে এতে নানা পরিবর্তন ও সংযোজন হয়েছে। কালে কালে নানা গোষ্ঠীর মানুষ এটি ব্যবহার করেছে।
এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ডক্টর রবার্ট ইক্সার ফলাফলটিকে বর্ণনা করেছেন ‘বিস্ময়কর’ বলে। তিনি বলেন, ‘গবেষণাটি দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। প্রথমত, কিভাবে বেদির পাথরটি স্কটল্যান্ডের দূর উত্তর থেকে ৭০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্ব পাড়ি দিয়ে স্টোনহেঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। দ্বিতীয়ত, এ প্রশ্নটি আরো কৌতূহলকর, কেন?’
বিদ্যমান রেকর্ড মতে, ওই যুগের কোনো স্মৃতিস্তম্ভে ব্যবহৃত আর কোনো পাথরই এত দূরে নেওয়া হয়নি। গবেষকরা বলছেন, পরবর্তী রহস্যটি হচ্ছে বিশাল পাথরটি কিভাবে এত দূর নেওয়া হয়েছিল। স্থলপথে পরিবহনের স্পষ্টতই অনেক ভৌত বাধা ছিল। সমুদ্রপথের যাত্রাও প্রায় সমানভাবে দুঃসাধ্য হওয়ার কথা।
স্টোনহেঞ্জের কিউরেটর হেদার সেবায়ারের মতে, এই গবেষণার ফলাফল নব্যপ্রস্তর যুগের ব্রিটিশ সম্প্রদায়গুলোকে বোঝা এবং তাদের পরস্পরের মধ্যে যোগাযোগের স্তর ও পরিবহনব্যবস্থা সম্পর্কে আরো বেশি ধারণা জোগাবে। সূত্র : বিবিসি