বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

তিন বছরের মধ্যে পেঁয়াজ রফতানি করতে চাই

পেঁয়াজের দামের বিষয়ে যেকোনো মূল্যে সরকার কৃষকদের সন্তুষ্ট রাখতে চায় বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বলেছেন, ‘আমরা আগামী তিন বছরের মধ্যে পেঁয়াজ রফতানি করতে চাই। আমরা সে লক্ষ্যে আমাদের কৃষকদের সন্তুষ্ট রাখব’।

রোববার বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস-২০২০ উপলক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও হটলাইন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ সব কথা বলেন।

ভারত পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে, এ দিকে দেশের পেঁয়াজও উঠানো শুরু করেছে কৃষকরা এমন পরিস্থিতি পেঁয়াজ আমদানিতে কোনো নির্দেশনা দিচ্ছেন কি না? জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কৃষকদেরকে আগে স্যাটিসফাই (সন্তুষ্ট) করতে হবে। না হলে আমরা কোনোদিন পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হব না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা পুরোপুরিভাবে মাঠ সার্ভে (জরিপ) করেছি। আমাদের দেশে পেঁয়াজ উৎপাদনে খরচ প্রায় ১৬ থেকে ১৭ টাকা। কেউ বলছে ১২ টাকা কেউ বলছে ১৯ টাকা, গড় ধরলে হয় ১৬ থেকে ১৭ টাকা। তাই আমরা লক্ষ্য রাখব- কৃষকরা যেন ২০ থেকে ২৫ টাকা পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারে। যখনই দেখবে এ দামটা তারা পাচ্ছেন না। তখনই আমরা যেকোনোভাবে সেটাকে রক্ষা করার জন্য যা যা করা দরকার তা করব।’

টিপু মুনশি বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন শুধু আমাদের মার্কেটই নয়, ভারতের মার্কেটের দিকেও নজর রাখছি। এই মুহূর্তে ভারতের নাসিকের বাজারেও খুচরা পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজি ৩২ থেকে ৩৩ রুপি। আমাদের দেশেও কিন্তু ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় চলে এসেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা পেঁয়াজের বিষয়ে খুবই সিরিয়াস। প্রধানমন্ত্রী আমাকে নির্দেশনা দিয়েছেন, তিন বছরের মধ্যে আমরা পেঁয়াজ রফতানি করতে চাই। তাই আমরা সে লক্ষ্যে আমাদের কৃষকদের সন্তুষ্ট রাখব।’

গত বছরের সেপ্টেম্বরে হঠাৎ করে ভারত বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়। এতে করে দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম আকাশচুম্বী হয়। প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায় পৌঁছে। এক পর্যায়ে পেঁয়াজের চাহিদা মেটাতে বিমানে করে মিশর, পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে সরকার।

তবে বর্তমানে দেশি পেঁয়াজ উঠতে শুরু করেছে। এ সময় আবার ভারতও পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়। তাই দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম খুচরাতেই ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় নেমে এসেছে। এতে পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে সংশয়ে আছেন দেশের কৃষকরা।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহা পরিচালক বাবুল কুমার সাহা।

বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি গোলাম রহমান, ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান তপন কান্তি ঘোষ, প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান মফিজুর রহমান, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিমসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

লাইটনিউজ/এসআই