বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

আদমদীঘিতে গভীর নলকূপের বৈদ্যুতিক মিটার চুরি

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এক রাতে ৬টি গভীর নলকুপের মিটার চুরির ঘটনা ঘটেছে। মিটার চুরির পর চোর চক্র মোবাইল ফোনে গভীর নলকুপের মালিক ও ব্যবস্থাপকদের কাছে বিকাশের মাধ্যমে প্রতি মিটারের জন্য ১০ হাজার টাকা দাবি করেছে। টাকা পাওয়ার পর তারা মিটার ফেরত দেবে বলে মোবাইল ফোনে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। গত শনিবার রাতে এই মিটার চুরির ঘটনা ঘটে। এ দিকে মিটার চুরি হয়ে যাওয়ায় গভীর নলকুপ থেকে ইরি-বোরো জমির খেতে পানি সেচ দেয়া বন্ধ হয়ে গেছে।

গভীর নলকুপ মালিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার গভীর রাতে উপজেলার মঠ পুকুরিয়া, ধনতলা ও মুরুইল গ্রামের ৬টি গভীর নলকুপের মিটার চোরের দল চুরি করে নিয়ে যায়। পরদিন সকালে গভীর নলকুপের ব্যবস্থাপকরা নলকুপে গিয়ে দেখেন মিটারগুলো চুরি হয়ে গেছে। পরে চোরের দল ০১৭২২-৩৪২১৯১ নম্বর মোবাইল ফোন থেকে গভীর নলকুপের ব্যবস্থাপক ও মালিকদের ফোন করে জানায়, প্রতি মিটারের জন্য ০১৩০৭৯৩২২৬৯ বিকাশ নম্বরে ১০ হাজার করে টাকা দেয়া হলে তাদের মিটার ফেরত দেয়া হবে। টাকা পাওয়ার পর যে স্থানে মিটার রাখা হবে তা ফোনে জানিয়ে দেয়া হবে বলে চোরের দল জানায়।

মঠপুকুরিয়া গ্রামের গভীর নলকুপের ব্যবস্থাপক আব্দুল মতিন জানান, রোববার সকাল থেকে চোরদের একটি ফোন থেকে তাঁর কাছ থেকে একাধিক বিকাশের মাধ্যমে টাকা দাবি করা হয়। ধনতলা গ্রামের গভীর নলকুপের ব্যবস্থাপক নুর নবী জানান, তার ফোনেও চোরের দল একই ফোন নম্বর থেকে মিটার ফেরৎ দেয়ার কথা বলে ১০ হাজার টাকা দাবি করেছে। মঠপুকুরিয়া গ্রামের গভীর নলকুপের মালিক গোলাম রব্বানী বলেন, গত বছরও একই ভাবে চোরের দল এলাকা থেকে ৫টি মিটার চুরি করে নিয়ে যায়। পরে বিকাশের মাধ্যমে তারা মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়।

তিনি বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি থেকে একটি মিটার কিনতে ২৫ হাজার টাকা লাগে, তাই গভীর নলকুপ মালিকরা টাকা বাচাতে ১০ হাজার দিয়ে চোরদের নিকট থেকে মিটার নিতে বাধ্য হন। তিনি আরোও বলেন, বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েও কোন প্রতিকার পাওয়া যায় না। মঠপুকুরিয়া গ্রামের গভীর নলকুপের ব্যবস্থাপক আব্দুল মতিন আদমদীঘি থানায় রোববার দুপুরে একটি জিডি দায়ের করেছেন। আদমদীঘি থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এই চক্রটিকে ধরার বিষয়ে তৎপরতা শুরু হয়েছে। এদিকে চুরি হয়ে যাওয়া গভীর নলকুপের কৃষকরা জানিয়েছে, দ্রুত মিটার স্থাপন করে নলকুপ চালু না করা হলে তাঁরা তাঁদের জমির ফসলে সেচ দেয়া নিয়ে সমস্যায় পড়বেন।

লাইটনিউজ/এসআই