বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

পর্যটনশিল্পে বাংলাদেশই সবচেয়ে কর্মসংস্থানমুখী

বৈশ্বিক পর্যটনশিল্পে বাংলাদেশই সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থানমুখী। এখানে প্রতি ১০০ জন বিদেশি ভ্রমণকারী বা পর্যটকের বিপরীতে কর্মসংস্থান হয় ৯৪৪ জনের। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ধারেকাছেও নেই বিশ্বের আর কোনো দেশ। যেমন দ্বিতীয় স্থানে থাকা ভারতে প্রতি ১০০ আন্তর্জাতিক পর্যটকের বিপরীতে ১৭২ জনের কর্মসংস্থান হয়ে থাকে।

অফিশিয়াল-এস্তা ডট কম নামের একটি ওয়েবসাইট সম্প্রতি বিশ্বে পর্যটন খাতের সর্বোচ্চ শ্রমঘন বা কর্মসংস্থানমুখী দেশগুলোর একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বব্যাংক ও যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক বেসরকারি ডেটা ম্যানেজমেন্ট বা উপাত্ত ব্যবস্থাপনার প্ল্যাটফর্ম নোয়েমার তথ্য-উপাত্ত নিয়ে এই তালিকা তৈরি করেছে।

শীর্ষ ১০ দেশ

১. বাংলাদেশ: বাংলাদেশে প্রতি ১০০ জন পর্যটকে কর্মসংস্থান হয় ৯৪৪ জনের। ২০১৭ সালে এ দেশে মোট ১০ লাখ ২৬ হাজার পর্যটক এসেছেন। এখানকার পর্যটন খাতের আকার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৪ দশমিক ৪ শতাংশের সমান।

২. ভারত: বাংলাদেশের ধারেকাছেও নেই কোনো দেশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ভারতে ২০১৭ সালে ১ কোটি ৫৫ লাখ ৪৩ হাজার পর্যটক গেছেন। দেশটির পর্যটন খাতের আকার জিডিপির ৯ দশমিক ২ শতাংশ।

৩. পাকিস্তান: তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ারই আরেক দেশ পাকিস্তান। দেশটিতে প্রতি ১০০ জন পর্যটকের বিপরীতে কর্মসংস্থান হয় ১৫৪ জন লোকের। আর পাকিস্তানে ২০১২ সালে ৯ লাখ ৬৬ হাজার পর্যটক এসেছেন। আর দেশটির পর্যটন খাতের আকার জিডিপির ৭ দশমিক ১ শতাংশ।

৪. ভেনেজুয়েলা: তালিকার চতুর্থ স্থানে থাকা ভেনেজুয়েলায় ১০০ জন পর্যটকের বিপরীতে ১০১ জনের কর্মসংস্থান হয়। ২০১৭ সালে দেশটি ৪ লাখ ২৭ হাজার পর্যটক পেয়েছে। ভেনেজুয়েলার পর্যটন খাতের আকার জিডিপির ৯ দশমিক ৭ শতাংশের সমান।

৫. ইথিওপিয়া: পাঁচে রয়েছে ইথিওপিয়া, যেখানে ১০০ জন পর্যটকের বিপরীতে ৯৯ জন লোকের কর্মসংস্থান হয়। ২০১৭ সালে আফ্রিকার এই দেশে ৯ লাখ ৩৩ হাজার পর্যটক এসেছেন। দেশটির পর্যটন খাতের আকার জিডিপির ৯ দশমিক ৪ শতাংশের সমান।

৬. মাদাগাস্কার: প্রতি ১০০ পর্যটকের বিপরীতে ৯০ জন লোকের কর্মসংস্থান নিয়ে তালিকার ষষ্ঠ স্থান পেয়েছে মাদাগাস্কার। ২০১৮ সালে মাদাগাস্কারে ২ লাখ ৯১ হাজার পর্যটক এসেছেন। তাদের পর্যটন খাতের আকার জিডিপির ১৫ দশমিক ৭ শতাংশের সমান।

৭. ফিলিপাইন: পূর্ব এশিয়ার দেশ ফিলিপাইনে প্রতি ১০০ পর্যটক আসার কারণে কর্মসংস্থান হয় ৮৩ জনের। ২০১৭ সালে দেশটি ৬৬ লাখ ২১ হাজার পর্যটক পায়। ফিলিপাইনের পর্যটন খাতের আকার ২৪ দশমিক ৭ শতাংশ।

৮. গায়ানা: ১০০ পর্যটকের বিপরীতে ৭৭ জন লোকের কর্মসংস্থান নিয়ে তালিকায় অষ্টম স্থান পেয়েছে গায়ানা। ২০১৭ সালে দেশটিতে ৯৯ হাজার পর্যটক আসেন। তাদের পর্যটন খাতের আকার জিডিপির ৫ শতাংশের সমান।

৯. লিবিয়া: আফ্রিকান দেশ লিবিয়া আছে নবম স্থানে, যেখানে ১০০ পর্যটকের বিপরীতে ৬৮ জনের কর্মসংস্থান হয়। ২০০৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশটি ওই বছরে ১ লাখ ৪২ হাজার পর্যটক পেয়েছিল। লিবিয়ার পর্যটন খাতের আকার জিডিপির ৩ দশমিক ৩ শতাংশ।

১০. নাইজেরিয়া: আফ্রিকার এই দেশটিতে ১০০ পর্যটক আসার কারণে কর্মসংস্থান হয় ৬৬ জনের। দেশটিতে ২০১৬ সালে পর্যটক আসে ৫২ লাখ ৬৫ হাজার। আর নাইজেরিয়ার পর্যটন খাতের আকার জিডিপির ৫ শতাংশের সমান।

পর্যটনে করোনার প্রভাব

তালিকাটি নিয়ে বিজনেস ইনসাইডারের প্রতিবেদনে বলা বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের প্রকোপ এবং তা নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা যত বাড়ছে, আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও পর্যটনশিল্পে তত নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

বিশেষ করে পর্যটন খাত পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে প্রচুরসংখ্যক পর্যটক আসার কারণে পরিবেশগত ক্ষতিরও আশঙ্কা থাকে।

প্রতিবেদন মতে, বাংলাদেশের মতো যেসব দেশে আন্তর্জাতিক পর্যটকের আগমনের সুবাদে অধিক হারে কর্মসংস্থান তৈরি হয়, তাদের অর্থনীতিতে করোনাভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তবে যেসব দেশ আবার পর্যটনশিল্প–নির্ভর নয়, তারা বিষয়টিকে হালকাভাবে নিতে পারে। যেমন দক্ষিণ কোরিয়ায় ১০০ জন পর্যটকের বিপরীতে কর্মসংস্থান হয় মাত্র দুজন মানুষের।

লাইটনিউজ/এসআই