বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহে সেনা, নিয়ম মানছে না ব্রিটিশরা

যুক্তরাজ্যে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাঠানো হচ্ছে এবং জনগণকে বাড়িতে থাকতে বলা হয়েছে। সোমবার (২৩ মার্চ) এক সতর্কবার্তায় বলা হয়, জনগণ সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলবে অথবা করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেবে।

কিছু ডাক্তার বলেছেন, করোনা ঠেকাতে নিজেদের যেন কামানের গোলা মনে হচ্ছে। যেসব স্বাস্থ্যকর্মী প্রয়োজনীয় সামগ্রী ঘাটতির অভিযোগ করেছে তাদের কাছে মাস্কসহ লাখ লাখ ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম সেনাবাহিনী পৌঁছে দেবে বলে জানিয়েছে সরকার।

এখন পর্যন্ত ২৮১ জন ব্রিটিশ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। গত কয়েকদিনে, ভাইরাসের বিস্তার এবং অন্য দেশগুলোর মত হাজারো মানুষের মৃত্যু ঠেকাতে ব্রিটিশ সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে।

চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতির ব্যাপারে অভিযোগ করে ডাক্তাররা বলেন, তারা কাজ করে নিরাপদ বোধ করেন না। ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ বাড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের কাছে লেখা এক চিঠিতে ৬ হাজারের বেশি ডাক্তার জানান, মেয়াদোত্তীর্ণ মাস্ক এবং সরঞ্জাম স্বল্পতার কারণে তাদের জীবন ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য সচিব ম্যাট হ্যানকক এই অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, স্বল্পতা রয়েছে সত্যি তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দিন-রাত ধরে সেনাবাহিনীর ট্রাক চিকিৎসাকর্মীদের কাছে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করবে।

তিনি বিবিসিকে জানান, আমাদের স্বাস্থ্যসেবায় এখন ১২ হাজার ভেন্টিলেটর রয়েছে যা সংকট শুরুর সময়ের চেয়ে ৭০০০ বেশি।

সোমবার (২৩ মার্চ) অতি অল্প পরিসরে রেল সার্ভিস চালু থাকার কথা বলা হয় এবং বিচার কাজ বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়। জনসন যতটা সম্ভব সবাইকে বাড়ি থেকে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন এবং পাব, জিম এবং অবকাশযাপন কেন্দ্র বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন।

কিন্তু বাড়িতে থাকার এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শে কান দেয়নি লাখো ব্রিটিশ নাগরিক। সাপ্তাহিক ছুটি কাটাতে রোদেলা দিনে তারা হাজির হয়েছেন পার্কে এবং দৃষ্টিনন্দন স্থানে। ২ মিটার (৬ ফিট) দূরে থাকার কথা তারা বেমালুম ভুলে বসেছিলেন।

ওয়েলসের স্নোদোনিয়া ন্যাশনাল পার্ক প্রশাসনের প্রধান নির্বাহী এমরি উইলিয়ামস জানান, ‘আমরা আমাদের স্মরণকালের সবচেয়ে ব্যস্ত দিন পার করেছি। দর্শনার্থীদের ভিড়ে এলাকাটি উপচে পড়েছিল’।

ফলে ব্রিটিশ সরকার সকলকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, যদি মানুষ নিয়ম না মানে তাহলে কারফিউ জারি করা হবে এবং চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে।