বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

মেঘের রাজ্যে একদিন : চন্দ্রগিরি ক্যাবেলকার নেপাল

মাটি থেকে ৮ হাজার ২০০ ফিট উচ্চতায়

সারা পৃথিবীতে হিমালয় কন্যা হিসেবে পরিচিত নেপাল। মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা পাহাড় আর পর্বত নজড় কাড়ে পর্যটকদের। নেপালে আসা ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য আরও একটি নতুন চমক হলো ‘চন্দ্রগিরি ক্যাবলকার’। সমুদ্রপৃষ্ট থেকে ৮ হাজার ২০০ ফিট উচ্চতার এই ক্যাবল কারে উঠলে মুগ্ধ হবেন যে কেউই। ধীর গতিতে আকাশের দিকে উঠতে থাকা ক্যাবেল বক্স থেকে দেখা মিলবে সবুজে ঘেরা উঁচু পাহাড় আর দল বাঁধানো মেঘেদের।

 

চন্দ্রগিরি ক্যাবলকার কাঠমাণ্ডু শহর থেকে মাত্র ১৬ কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। ক্যাবলকারটির ল্যান্ড স্টেশন থানকোট এলাকায় অবস্থিত। সেখান থেকে ৮ হাজার ২০০ ফিট বা সমুদ্রপৃষ্ট থেকে ২ দশমিক ৫ কিলোমিটার উচ্চতায় চন্দ্রগিরি পাহাড়ের চুঁড়ায় এর গন্তব্যস্থল। কাঠমাণ্ডুসহ এর পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষেরা এখানে আসে পুঁজা করতে। তবে শহর থেকে অনেক কাছেই হওয়ায় এখানে পর্যটকদের ঢল অনেক বেশি থাকে।

 

এই পাহাড়ের চুঁড়ায় প্রতি সেকেন্ডেই পরিবর্তন হয় আবহওয়া। কখনও সূর্যের প্রখর তাপে চার দিকের পাহাড় ও পর্বতগুলো জ্বল জ্বল করতে থাকে। আবার কখনও কখনও সাদা ও কালো মেঘেরা এসে ঢেকে দিয়ে যায় সবকিছু। মাত্র ১০০ ফিট দূরে কি আছে তাও দেখা যায় না। শুধু তাই নয় মেঘেদের আনাগোনায় কমতে থাকে এই চূঁড়ার তাপমাত্রাও। এখানকার স্বভাবিক তাপমাত্র ১২ থেকে ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কখনও কখনও মেঘ, বৃষ্টি আর রোদের খেলা চরমভাবে উপভোগ করা যায়। উত্তর দিকের পাহাড়গুলো মেঘে ঢাকা। কিন্তু ভেতর দিয়ে দেখা যায় সবুজে ঘেরা ছোট্ট গ্রাম।

নেপালের চন্দ্রগিরি ক্যাবেলকার স্টেশনে।

চন্দ্রগিরি পাহাড়ের চুঁড়ায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে ভালেশ্বর মহাদেবের মন্দির। যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ পুঁজা দিতে আসেন। চন্দ্রগিরির উচ্চতায় নির্মাণ করা হয়েছে একটি ভিউ টাওয়ার। যেখান থেকে পর্যটকরা চার দিকের দৃশ্য উপভোগ করতে পারেন। শুধু তাই নয়, এখানে রয়েছে একটি অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ। যার মাধ্যমে যে কেউ অন্নপূর্ণা পর্বত, মাউন্ট এভারেস্ট ও এর আশপাশের বরফাচ্ছন্ন পর্বতগুলো দেখতে পারেন। তবে এর ওপর যেতে চাইলে গুণতে হবে ৫০ নেপালী রূপী। এছাড়াও রয়েছে ক্যাফে ফাউন্টেইন, বার এবং শপিংমল। শিশুদের জন্য রয়েছে খেলার মাঠ, ব্র্যান্ড শপ। সেখানে একটি পাঁচ তারকা হোটেল নির্মাণাধীন রয়েছে।

 

ইমরুল কাওসার ইমন ‘চন্দ্রগিরি ক্যাবলকার’ নির্মাণ করেছে সে দেশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কাঠমাণ্ডু ফান পার্ক লিমিটেড। এই প্রতিষ্ঠানটি সমুদ্রপৃষ্ট থেকে ৮ হাজার ২০০ ফিট উপর পর্যন্ত তৈরি করেছে ক্যাবলকার স্টেশন। যার নাম দেয়া হয়েছে ‘চন্দ্রগিরি ক্যাবলকার’। দীর্ঘ ১৫ মাসব্যাপী ৩০০ শ্রমিকের অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে ২০১৬ সালে ১৫ ডিসেম্বর চালু হয়েছে এটি।

 

এই ক্যাবলকারে ক্যাবল বক্স রয়েছে ৩৮টি। আর ১১টি স্থম্ভ বা সুউচ্চ টাওয়ারের উপর দাঁড়িয়ে আছে এটি। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই ক্যাবলকার চালু থাকে। এই সময়ের মধ্যে প্রতিদিন প্রায় ২০০টি ট্রিপে ১০ হাজার পর্যটক এখানে রাইড করেন। প্রতি ঘণ্টায় এক হাজার পর্যটক বহনের ক্ষমতা রয়েছে চন্দ্রগিরি ক্যাবলকারের। এটি স্থাপনে ৩ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন নেপালী রূপী ব্যয় হয়েছে। যার ৫০ শতাংশ দিয়েছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কাঠমাণ্ডু ফান পার্ক লিমিটেড আর বাকি ৫০ শতাংশ ব্যাংক লোন। সার্ক র্ভূক্ত দেশগুলোর জন্য টিকেট মূল্য জনপ্রতি ১২’শ রূপী আর স্থানীয়দের জন্য ৭’শ রূপী।