বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

করোনা পরিস্থিতি বুঝে ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত!

স্টাফ রিপোর্টার : করোনাভাইরাসের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অন্যান্য দেশ যখন লকডাউনের পথে বেছে নিয়েছে, সেখানে একটু ভিন্ন কৌশলে এগিয়েছে বাংলাদেশ। করোনার প্রাদুর্ভাবের মূল কেন্দ্রবিন্দু গণজমায়েত ঠেকাতে সরকারি ছুটি এবং সাধারণ ছুটি মিলে টানা ১০ দিনের ছুটি ঘোষণা দেয় সরকার। এরপর দেশজুড়ে পরিস্থিতি পাল্টেছে।

জনসমাগম কমাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে, যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। অফিস-আদালতের কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছে। আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সব অফিস-আদালত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আর করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে জনসমাগম কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করছে প্রশাসন, সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এছাড়াও প্রয়োজনীয় ছাড়া খোলা নেই অন্যসব দোকানপাট, ব্যস্ত সড়কগুলোও পুরোটাই ফাঁকা। ফুটপাতের দোকান, মুদি দোকান, চায়ের দোকান সবই বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া কেউ বের হলে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হচ্ছে।

তবে নাগরিকদের নিরাপদ রাখতে সরকারের এসব উদ্যোগের পর এখন নতুন আলোচনা সরকারি ছুটির শেষে কি হবে। ইতোপূর্বে সরকারি ছুটি ঘোষণার পর পরই বাস, ট্রেন, লঞ্চ, ফেরিতে চড়ে হাজার হাজার মানুষ তাদের গ্রামের বাড়ি ছুটে গেছেন, সরকারি ছুটে শেষে একইভাবে নগরে ফিরবেন তারা। নগরে ফেরা এসব মানুষদের কিভাবে সচেতন করা হবে এবং সার্বিক বিবেচনায় সরকারি ছুটি বাড়বে কিনা এমন প্রশ্ন উঠেছে।

করোনা পরিস্থিতি নিয়ে রোববার (২৯ মার্চ) সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে যুক্ত হয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এসময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয়, আগামী ৪ এপ্রিল সরকারি ছুটি শেষ হচ্ছে, সে সময় দলে দলে মানুষ ঢাকায় ফিরবে। সরকারকে এ বিষয়ে কোনোপরামর্শ দেওয়া হয়েছে কিনা, কিভাবে মানুষকে সচেতন করা উচিত। ছুটি শেষ হলে ভিড় ঠেকাতে পারবো কিনা।

এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ৪ এপ্রিল ছুটি শেষ হচ্ছে। আমরা পর্যবেক্ষণ করব, দেশবাসী করবে এবং প্রধানমন্ত্রীও করবেন। যদি কিনা ১০ দিনে আমাদের দেশের এবং পৃথিবীর পরিস্থিতি মোটামুটি একটি সহনশীল অবস্থায় আসে তখন এক ধরনের চিন্তা হবে। তাহলে অবশ‌্যই প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শ দেবো যে বর্তমান পরিস্থিতি দেখে একটি পদক্ষেপ গ্রহণ করা। হয়ত সে সময় এটা (ছুটি) শেষ হয়ে যেতে পারে, অথবা তিনি যদি বাড়াতে চান তিনি পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত দেবেন। কিন্তু এটিও আমাদের বুঝতে হবে প্রধানমন্ত্রী যখন ছুটির ঘোষণা দিলেন আমরা যেভাবে ট্রেনে, বাসে ও লঞ্চে গিয়েছি। আমি অবশ্যই স্বাস্থমন্ত্রী হিসাবে বলব এটা সংক্রমণের পরিবেবেশ তৈরি করে দিয়েছে। তাই যারা ঢাকায় ফিরবেন সতর্কভাবে তাদের ফিরে আসা উচিত।

এর আগে করোনাভাইরাসের কারণে ২৬ মার্চ থেকে আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। এর মধ্য ২৯ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি থাকবে। আর ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের ও পরে ২৭ ও ২৮ মার্চের সাপ্তাহিক ছুটিও যোগ হয়। এছাড়া ৩ ও ৪ এপ্রিল সাপ্তাহিক ছুটি ।