বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

১০ টাকায় চাল পাবেন কি ঢাকাবাসি

করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে লকডাউনে (অবরুদ্ধ) আছে বিশ্বের অনেক দেশ। বাংলাদেশেও এ পরিস্থিতি হবে, এ কথা আঁচ করে শহর এলাকায় বসবাসরত খেটে খাওয়া জনগোষ্ঠীকে ১০ টাকা কেজিতে চাল দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। সরকারের ঘোষিত ছুটির প্রথম দিন থেকেই এটি বাস্তবায়ন করার কথা ছিল। কিন্তু আজ পর্যন্ত তা হয়নি।

গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। এ ছুটি এখন ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ছে। এ সময়ে অতি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশে বিরাজ করছে একরকম লকডাউন (অবরুদ্ধ) অবস্থা। এতে করে সবচেয়ে সমস্যায় পড়েছেন শহর এলাকায় বসবাসরত খেটে খাওয়া জনগোষ্ঠী। কাজ না পেয়ে দুই-তিন দিন অনাহারে থাকার খবরও পাওয়া যাচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বর্তমানে গ্রামীণ এলাকায় কার্ডধারী প্রায় ৫০ লাখ পরিবারকে ১০ টাকা কেজি দরে চাল দেয়া হচ্ছে। কিন্তু ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে এ কার্যক্রম চালু নেই। তবে শহরাঞ্চলে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় প্রতি কেজি ৩০ টাকা দরে খোলাবাজারে (ওএমএস) চাল বিক্রি করা হয়।
এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য চলতি (২০১৯-২০) অর্থবছরে ১ লাখ ৪০ হাজার টন চাল বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু এবার বাজারে চালের দাম বেশি না হওয়ায় আর ওএমএসের চালের কেজি ৩০ টাকা হওয়ায় এর চাহিদা একেবারেই কম।গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে বরাদ্দ চালের মাত্র ১ হাজার টন বিক্রি হয়।

বাকি চাল এখনও অবিক্রিত রয়ে গেছে। এসব অবিক্রিত চালই আরও বেশি ভর্তুকি দিয়ে লকডাউনকালীন খোলাবাজারে দরিদ্র মানুষের কাছে ১০ টাকা কেজিতে বিক্রির উদ্যোগ নেয় সরকার। ওএমএসের ট্রাক থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে একটি পরিবার একবারে সর্বোচ্চ পাঁচ কেজি করে চাল কিনতে দেয়ারও সিদ্ধান্ত হয়।

এ জন্য সরকারকে অতিরিক্ত কোনো ভর্তুকিও দিতে হবে না। কারণ, চলতি বাজেটে খাদ্য ভর্তুকিবাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। কিন্তু ওএমএসের চাল বিক্রি না হওয়ায় সংশোধিত বাজেটে ভর্তুকি কমিয়ে ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়। এখন ১০ টাকা কেজিতে চাল বিক্রি করলে আগের বরাদ্দ ভর্তুকি ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকায় হয়ে যাবে বলে মনে করে অর্থ মন্ত্রণালয়।

কিন্তু এটি আজ পর্যন্ত বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণ জানিয়েছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা। নাম না প্রকাশ করার শর্তে তিনি বলেন, টেকনিক্যাল কারণেই দেরি করা হচ্ছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়কে দেব। কিন্তু খাদ্য মন্ত্রণালয়ও তো এখন বন্ধ। তবে এটা এখন ফাইনাল পর্যায়ে রয়েছে। এ বিষয়টি বাস্তবায়নে খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকেও তেমন কোনো উদ্যোগ নেই।

তবে জানতে চাইলে খাদ্য সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম  বলেন, এ বিষয়টা বিবেচনা করার দায়িত্ব অর্থ মন্ত্রণালয়ের। আমি যতটুকু জানি, অর্থ মন্ত্রণালয় এটা জাতীয় কমিটিতে পাঠিয়েছে। সুতরাং এটা যদি জাতীয় কমিটি কমিয়ে দেয় তাহলে হবে। এটা কমিয়েছে কি না, এখন পর্যন্ত আমার নলেজে আসেনি।

‘সব কিছু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখনই তো খেটে খাওয়া মানুষের সমস্যা বেশি’ এ কথা তাকে স্মরণ করিয়ে দিলে তিনি বলেন, এখন ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে বিনামূল্যে খাবার দেয়া হচ্ছে। ঢাকায় আমাদের ওএমএসের পণ্য বিক্রি অব্যাহত রয়েছে। তবে ৩০ টাকা কেজি হওয়ায় চালের চাহিদা কম।

যদি ওএমএসের চাল সরকার ১০ টাকা কেজি করে তবে যারা ত্রাণ পাচ্ছে না বা অন্য কোনো প্রোগ্রামের আওতায় সুবিধা পাচ্ছে না শুধু তাদের মধ্যেই এ চাল বিক্রি করব। এটা অনুমোদন হয়ে গেলে তখন সেভাবেই আমরা পরিকল্পনা করব। যদি এ চাল ১০ টাকা কেজি হয় তাহলে আমরা ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে একেবারে প্রকৃত প্রাপ্য যারা, তাদের নিকটই বিক্রি করার ব্যবস্থা নেব।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) মঙ্গলবারের তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুজন আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫১ জনে। ভাইরাসটি থেকে সুস্থ হয়েছেন আরও ছয়জন। মোট সুস্থ হয়েছেন ২৫ জন। আর এতে মৃত্যু হয়েছে পাঁচজনের।