বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

অসহায় কিশোরী আয়েশাকে খাদ্যসামগ্রী, বাড়ি ভাড়া দিলো রাইজিংবিডি

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : জ্বালা সইতে পারছিলো না। বাবা নেই। বৃদ্ধা মা আর পাঁচ ভাইবোন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাজ করতেন মা। করোনাভাইরাসের কারণে কোথাও কাজ নেই। নেই সংসারে আয় রোজগারের আর কেউ। নেই কোনো সঞ্চয়। দিন আনা, দিন খাওয়া। এখন কাজ নেই, তাই ঘরে খাবারও নেই।

এ অবস্থায় পেটে খিদে নিয়ে ছোট ভাইকে কোলে করে কিশোরী আয়েশা বেরিয়েছিলো ত্রাণের আশায়। জোটেনি। এ বিষয়ে অসহায় মেয়েটির খবর প্রকাশ করে রাইজিংবিডি। ঢাকা থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়- মেয়েটিকে খুঁজে বের করে তার হাতে চাল-ডাল পৌঁছে দেওয়ার।

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে বেরিয়ে পড়েন আয়েশার খোঁজে। কিন্তু তাদের পাওয়া যাচ্ছিলো না। কয়েক ঘণ্টা চেষ্টার পর আয়েশাদের পাওয়া গেলো। জানা গেলো, বাড়িওয়ালা বাড়ি ভাড়ার জন‌্য চাপ দিচ্ছিলো। উপায় না দেখে বাড়ি মালিককে কিছু টাকা দিয়ে বাড়ি ছেড়ে দিয়েছে তারা। আরো কম ভাড়ায় পাশের এলাকার এক বাড়িতে উঠেছে।

এরপর তাদের কাছে খাদ্যসামগ্রী এবং কিছু নগদ টাকা তুলে দেওয়া হয় রাইজিংবিডির পক্ষ থেকে। কিশোরী আয়েশা আক্তারের কাছে চাল, ডাল, তেল, লবণ, আলু ও এক মাসের বাড়ি ভাড়ার টাকা তুলে দেন হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি মো. মামুন চৌধুরী। এ সহায়তা পেয়ে কিশোরী আয়েশা সাহস খুঁজে পায়।

আয়েশার মা পারুল জানান, তারা হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর গ্রামের পুরানবাজার লোহার ব্রিজের কাছে একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। খাবারের খোঁজে তিনি এক দিকে, অন্যদিকে কিশোরী কন্যা আয়েশা ছোট ভাইকে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়িয়েছে। কিন্তু কোনো ত্রাণ পায়নি। খিদে সহ্য করতে না পেরে এভাবে প্রতিদিন সকালে ছোট ভাইকে কোলে নিয়ে ত্রাণের জন্য বের হয় সে।

এদিকে বাড়ি মালিক ভাড়ার জন্য চাপ দিলে কিছু টাকা দিয়ে বাসা ছেড়ে দেন পারুল। বর্তমানে পুরান বাজার দিঘীরপাড় এলাকায় একটি ছোট বাসায় উঠেছেন তারা।

কিশোরী আয়েশা জানায়, বাবা আল-আমিন তাদের ছেড়ে চলে গেছেন। আয়েশাসহ তিন মেয়ে ও দুই ছেলে সন্তান রেখে গেছেন। কোনো খোঁজ নেন না। মায়ের কাছে আয়েশাসহ তারা পাঁচ ভাই-বোন থাকে। মা কাজ করে যা পায় তাই দিয়ে কোনোরকম তাদের দিন চলতো। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে গৃহবন্দী হয়ে আছেন তার মা। কোনো কাজ নেই। খাবার নেই। তাই ছোট ছোট ভাইবোনসহ বাড়ির সবাই না খেয়ে ছিলো।

আয়েশা আক্ষেপ করে বলে, ‘গরিবের কেউ নেই। করোনা হয়ে মরে যাবার আগে আমরা না খেয়ে মরে যাবো।’

তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য রাইজিংবিডির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায় সে।

নিউজ পোর্টাল রাইজিংবিডি ডটকমের উপদেষ্টা সম্পাদক উদয় হাকিম বলেন, ‘খবরটি জানার পর আয়েশাকে সাহায‌্য করার জন‌্য স্থানীয় প্রতিনিধিকে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে তাদের আরো কোনো সাহায‌্যের প্রয়োজন হলে রাইজিংবিডি সেটিও করবে।’

উদয় হাকিম বলেন, ‘শুধু হবিগঞ্জ নয়, দেশের সব জেলা এবং উপজেলা প্রতিনিধিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে- কারো জরুরি সাহায‌্যের প্রয়োজন হলে অন‌্য কারো আশায় বসে না থাকতে। রাইজিংবিডির পক্ষ থেকে যেন দ্রুত সাহায‌্য-সহযোগিতা পৌঁছানো হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে নিউজের আগে মানুষের সাহয্যে এগিয়ে যাওয়া বেশি জরুরি।’