বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

নিজের বিবেককে প্রশ্ন করুন আপনি সামর্থ্যবান কি না?

সুজন দে || আমার পরিবার ও আমার সুহ্রদরা আমাকে বারংবার বারন করছে ঘর থেকে বের না হওয়ার জন্য। প্রথমত তাদেরকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি কারণ তারা আমাকে নিয়ে একটু হলেও ভাবছে। একইসঙ্গে দুঃখ প্রকাশ করছি তাদের কথা রাখতে পারছি না বলে। যারা আমাকে চেনেন তারা নিশ্চয়ই জানেন আমি সাংবাদিকতার পাশাপাশি ঢাকা-৪ আসনের এম পি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা সাহেবের প্রেস আন্ড পলিটিক্যাল সেক্রেটারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।

বাবলা সাহেব তার সাধ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী তার নিজ নির্বাচনী এলাকার করোনার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া সম্মানিত নাগরিকদের মাঝে গত ৭দিন ধরে খাদ্য সামগ্রী(চাল,ডাল,আলু,সাবান) বিতরণ অব্যাহত রেখেছে। আর হাজার হাজার মানুষের মধ্যে মূল দায়িত্বে আমরা কয়েকজন(শেখ মাসুক রহমান, ইব্রাহিম মোল্লা, কাওসার আহমেদ, ডি কে সমির,রনি ও লিটন)। এই খাদ্য বিতরণের আগে আমরা স্থানীয় আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, কাউন্সিলর, মসজিদ- মন্দির পরিচালনা কমিটি ও বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে কার্ড বিতরণ করি।পরে কয়েকটি গ্রুপে ভাগ হয়ে বিভিন্ন এলাকায় ঘরে ঘরে গিয়ে অথবা নিদিষ্ট স্থানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

এই ৭দিনে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করার সময় অসংখ্য মানুষ এসেছে কার্ড ছাড়া। কার্ড ছাড়া মানুষের সারিতে ছিল শিক্ষিত,অর্ধ-শিক্ষিত স্কুল কলেজের ছাত্র,ছোট চাকুরিজীবী। প্রত্যেকের পরণে ছিল মোটামুটি ভাল মানের পোশাক।এলাকায় স্থানীয় নেতারা তাদেরকে চেনেন মোটামুটি সচ্ছল পরিবারের সদস্য হিসেবে তাই হয়তো তাদের কার্ড দেয়া হয় নাই। কিন্তু তাদের চোখের ভাষায় আমরা বুঝতে পেরেছি তাদের ঘরে খাদ্য নেই।আর তা বুঝতে পেরে আমরা চেষ্টা করছি ক্যামেরার পিছন থেকে তাদের হাতে খাদ্য সামগ্রী প্যাকেট তুলে দেয়ার জন্য।

আমাদের টিমের সদস্যরা অনেককে রাতের অধারে খাদ্য সামগ্রী বাসায় পৌঁছে দিয়ে এসেছে। কিন্তু শুধুমাত্র শ্যামপুর-কদমতলীতে যে পরিমাণ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ে অসহায় অবস্থায় দিন যাপন করছে তাদের ১০০ ভাগের ১০ ভাগের বাড়িতে আমরা খাদ্য সামগ্রী পৌঁছাতে পারিনি।তবে নিশ্চয়ই সামনের দিনগুলোতে প্রত্যেকের কাছে আমরা বাবলা সাহেবের পক্ষ থেকে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছানের চেষ্টা করবো এখানে ২টি কারনে আমি আমার লেখার শিরোনামের সঙ্গে সামঞ্জস্য পূর্ণ না হওয়া সত্তেও গত ৭ দিনের বাস্তবতার নিরীখে উপরের কেস স্টাডি উল্লেখ করলাম।
প্রথমত, আমি বা আমরা কি আমার বা আমাদের পরিবারের বন্ধু বান্ধবদের পরামর্শ গ্রহণ করে এই অসহায় মানুষগুলোর মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ থেকে দূরে থাকবো?তাহলে এ কাজগুলো করবে কারা?
দ্বিতীয়, এই যে শুরুতে লেখার শিরোনাম দিলাম আপনি সামর্থ্যবান কি না আপনার বিবেকে প্রশ্ন করুন। হ্যা আপনাকেই বলছি, যিনি আমার এই লেখাটি কষ্ট করে পড়ছেন।আমি, আপনি,আমরা বুঝে, না বুঝে,রাগে ক্ষোভে বা আবেগে পরে করোনা নিয়ে সরকারি প্রস্তুতির পক্ষে বিপক্ষে, ত্রান বিতরণ নিয়ে পরার্মশ, ক্ষোভ, বিত্তশালীদের এগিয়ে আসার আহবান, মন্ত্রী-এম পি, চেয়ারম্যানদের নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা, প্রশংসা কত কিছুই না সোশ্যাল মিডিয়াতে করছি।

কিন্তু নিজের বিবেককে প্রশ্ন করুন তো আপনি নিজে আপনার পাশের অসহায় পরিবারটির জন্য কি করছেন। শুধুমাত্র ফেইসবুকে সমালোচনা বা জ্ঞান দান করাই আমার আপনার কাজ। সরকার বা কোটিপতি সম্পদশালীরা কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায় মানুষদের জন্য কি করছে তা নিয়ে না ভেবে আসুন না আমি আপনি আমাদের আর্দশ কাজটি করি। কারণ আমাদের সুর্কম ও দায়িত্ববোধের পুরস্কার তো মহান সৃষ্টিকর্তা আমাদের কেই দিবে অন্য কাউকেতো নয়।
আসুন ছোট্ট একটি হিসেব করি, আপনি আমি অনেকেই আমাদের পরিবারের জন্য বছরে যত কেজি মাংস কিনি আসুন এ মুহূর্ত থেকে শপথ নেই এ বছর ১০কেজি মাংস কম কিনবো। তাহলে সেভ হবে ৬হাজার টাকা।২০কেজি মাছ কম কিনবো। সেভ হবে ৫হাজার টাকা। কোন ধর্মীয় বা সামাজিক উৎসবে ১টি করে কম কিনবো। সেভ হবে ১০হাজার টাকা, চাইনিজ রেস্টুরেন্টে খেতে যাব না। সেভ হবে ৪ হাজার টাকা।

বিলাসী কোন পণ্য কিনবো না। সেভ হবে ৫হাজার টাকা। এইটুকু করলে ৩০হাজার টাকা সেভ হয়ে যাবে। এই হিসেবেটুকু করার আগে আপনি আগে নিজের বিবেককে প্রশ্ন করুন সত্যি আপনি বছরে এসব পন্য না কিনে এ টাকা সেভ করতে পারবেন কিনা।অথবা আপনি আপনার পরিবারের পিছনে প্রতি মাসে গড়ে ৩০ হাজার টাকা খরচ করেন কিনা। যদি উত্তর হ্যা হয়, তাহলে মহান সৃষ্টিকর্তা আপনাকে সম্পদশালী না করলেও অন্তত পৃথিবীর বুকে খেয়ে পড়ে বেচে থাকার জন্য সার্মথ্য দিয়েছেন।

তাহলে আপনি সার্মথ্যবান। যদি তাই হোন তাহলে আপনি আপনার ১০জন প্রতিবেশীকে ১মাস খাওয়ানোর দায়িত্ব নিতে পারেন। একটি পরিবারকে ৩হাজার টাকার চাল, ডাল, তেল, আলু, পেয়াজ, মরিচ, লবণ সহ অনন্যা সামগ্রি কিনে দিলে সেই পরিবারটি অন্তত ১মাস খেয়ে পড়ে জীবন যাপন করতে পারে। সেই হিসেবে ১০পরিবার চালাতে ৩০হাজার টাকা প্রয়োজন হবে।

ঠিক একইভাবে আসন্ন রমজান মাসেও আমরা নিজেদের পরিবারের খরচ থেকে সামান্য টাকা সেভ করে ১০টি পরিবারের মুখে হাসি ফুটাতে পারি। এজন্য বেশী কিছু দরকার নেই,দরকার শুধু উদরতা ও মানসিকতা। অনেকে ভাববেন আমি লম্বা করে লেখা লিখলাম আমি নিজে কাজটি করছি কি না। জ্বি, আপনাদের দোয়া ও মহান সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে আমি ঢাকা ও আমার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামে মিলিয়ে মোট ২৭টি পরিবারের ১মাসের দায়িত্ব নিয়েছি।

মহান ঈশ্বর সুস্থ রাখলে আগামী পুরে রমজান মাস ও আমার সুহৃদ মুসলিম ভাই বোনদের ১০টি পরিবারের দায়িত্ব আমি নিবো। আসুন আমরা সবাই আলোচনা সমালোচনা না করে নিজের বিবেকবোধ থেকে এটুকু দায়িত্ব পালন করি। কেউ না দেখুক মহান ঈশ্বর তো দেখবেন আর যে অসহায় পরিবারের দায়িত্ব নিলেন তিনি তো জানলেন।

লেখকঃ সুজন দে, সাংবাদিক,রাজনৈতিক ও সংস্কৃতিক কর্মী।