বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

সড়কে দু’জনের মৃত্যু, করোনা সন্দেহে এগিয়ে আসেনি কেউ

চট্টগ্রামে রাস্তায় ঢলে পড়ে আকস্মিক মৃত্যুবরণ করেছেন গার্মেন্টস মার্চেন্ডাইজার সেলিম উদ্দিন (৩০)। একইভাবে রাস্তায় এক রিকশাচালকেরও মৃত্যু হয়। সোমবার সকাল ৯টায় নগরীর খুলশি থানাধীন টাইগার পাস এলাকায় মারা যান সেলিম। কাছাকাছি সময়ে চকবাজার থানার অলি খাঁ জামে মসজিদের সামনে মারা যান রিকশাচালক প্রফুল্ল দাশ (৫০)।

হতভাগ্য দুই ব্যক্তির লাশ দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় পড়ে ছিল। অনেকে এই দৃশ্য দেখেও করোনা আক্রান্ত সন্দেহে সহায়তায় এগিয়ে আসেননি।

পুলিশ লাশ দুটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। ইতোমধ্যে লাশের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

খুলশি থানা পুলিশ জানায়, নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি থানার নাসিরাবাদ শিল্প এলাকার জিরাত শার্ট লিমিটেডের মার্চেন্ডাইজার ছিলেন সেলিম উদ্দিন। সোমবার সকালে তিনি অফিসের গাড়ির জন্য টাইগার পাস ইন্ট্রাকো সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সামনে অপেক্ষা করছিলেন।

এ সময় তার কয়েক সহকর্মীও সেখানে ছিলেন। হঠাৎ সেলিম উদ্দিন ‘বুকে ব্যথা’ বলে রাস্তায় ঢলে পড়েন। সেলিমের বাড়ি সাতকানিয়া উপজেলায়।

খুলশি থানার ওসি প্রণব চৌধুরী বলেন, ‘করোনা রোগী সন্দেহে চলতি পথে লোকজন যেমন রাস্তায় পড়ে থাকা এই মানুষটির কাছে যায়নি তেমনি উপস্থিত সহকর্মীরাও। আমি খবর পাওয়ার পর এসআই দেলোয়ারের নেতৃত্বে একটি টিম ঘটনাস্থলে পাঠাই। পুলিশ ও নিহত ব্যক্তির স্বজনরা লাশটি উদ্ধারে করে বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হওয়ার কথা জানানো হয়। এর পর লাশ স্বজনরা গ্রামের বাড়ি সাতকানিয়ায় নিয়ে গেছেন।

অন্য দিকে সকাল ১০টায় চকবাজার থানার অলি খাঁ জামে মসজিদের সামনে রাস্তায় ঢলে পড়েন রিকশাচালক প্রফুল¬ দাশ। করোনা আক্রান্ত সন্দেহে কেউ তার কাছে ভেড়েননি।

চকবাজার পুলিশ তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

চকবাজার থানার ওসি নিজাম উদ্দিন জানান, প্রফুল্ল দাশের বাড়ি রাউজান উপজেলায়। তিনি ষোলশহর এলাকায় একটি মার্কেটে নৈশ প্রহরীর চাকরি করতেন। দিনে জীবিকার তাগিদে রিকশা চালাতেন বলে তারা জানতে পেরেছেন। তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

লাইটনিউজ/এসআই