বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

পূর্ণ লকডাউন নারায়ণগঞ্জ, তারপরও রাস্তায় মানুষ

নারায়ণগঞ্জ জেলাকে লকডাউন করা হলেও এখনো সচেতন নয় এখানকার মানুষেরা। করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষাগারের দাবি জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জবাসী।

নারায়ণগঞ্জ জেলাকে পূর্ণ লকডাউন ঘোষণা করা হলেও মানুষের মধ্যে এখনো সচেতনা সৃষ্টি হচ্ছে না। প্রশাসন কঠোর অবস্থায় নামলেও রাস্তায় লোকজনের চলাচলসহ বিভিন্ন পাড়ামহল্লায় মানুষকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে। যার কারণে করোনা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়ে গেছে।

তবে পুলিশ কর্মকর্তা বলছেন, মানুষকে ঘরে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সব ধরনের প্রক্রিয়া অবলম্বন করছে। প্রয়োজনে আরো কঠোর হবে।

মঙ্গলবার রাতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) পুরো নারায়ণগঞ্জ জেলাকে লকডাউন ঘোষণার পর থেকেই তা কার্যকর শুরু হয়। রাতে গোটা শহর জনশূন্য হয়ে পড়ে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) সকাল থেকেই র‌্যাব পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা মাইকিং করে লকডাউনের বিষয়টি মানুষকে অবগত করেন এবং যার যার ঘরে থাকার আহ্বান জানান।

তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে কিছু কিছু মানুষকে রাস্তায় বের হতে দেখা যায়। তবে নগরীর চেকপোস্টগুলোতে কড়া নজরদারিতে রয়েছে। মানুষকে তল্লাশিসহ জবাবদিহি করতে বাধ্য করা হচ্ছে। সেনাবাহিনী, র্যাবসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য সংস্থা জোরদার কাজ করে যাচ্ছে।

অনেক নগরবাসীর অভিযোগ, অনেকেই লকডাউনের বিষয়টি পুরোপুরিভাবে মানছেন না এবং মানুষের মধ্যে পূর্ণ সচেতনা সৃষ্টি হয় নি। নানা অজুহাতে বাইরে বের হচ্ছেন তারা।

তবে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, মানুষের চলাফেরা রোধ করতে জনপ্রতিনিধিসহ জেলা প্রশাসন ও সশস্ত্র বাহিনী যৌথভাবে কাজ করছেন। কেউ লকডাউন ভঙ্গ করলে আইনহগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

এদিকে শিল্পসমৃদ্ধ জেলা নারায়ণগঞ্জের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনা করে যতদ্রুত সম্ভব করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষাগার (ল্যাবরেটরি) প্রতিষ্ঠা করতে সরকারের কাছে দাবি করছেন সাংবাদিক সমাজের নেতারা।

নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুস সালাম বলেন, শহরে দুইটি সরকারি হাসপাতাল থাকলেও সেখানে করোনা শনাক্ত করার কোন ল্যাব না থাকায় ঢাকায় নমুনা পাঠিয়ে পরীক্ষা ও রিপোর্ট আসতে বিলম্ব হচ্ছে। যার কারণে বিনা চিকিৎসায় অনেকেরই মৃত্যু হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহাবুবুর রহমান মাসুম বলেন, নারায়ণগঞ্জ শিল্প সমৃদ্ধ জেলা হওয়ায় এখানে অন্তত দশ থেকে পনের লাখ শ্রমিকের বসবাস। যার কারণে করোনা ছড়িয়ে পড়ার ঝু্ঁকি রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা জেলা প্রশাসককে বারবার অনুরোধ করেছি, এখানে করোনা নমুনা পরীক্ষার ল্যাব প্রতিষ্ঠা করার জন্য। কিন্তু এখনো কেউ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো. জসীম উদ্দিন বলেন, গত কয়েকদিন আগে আইইডিসিআর নারায়ণগঞ্জকে করোনার জন্য ডেঞ্জার জোন ও রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বিভিন্ন মহলের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ল্যাব স্থাপনের গুরুত্ব তুলে ধরে বিষয়টি আমরা সরকারের উচ্চপর্যায়ে সুপারিশ করেছি।

নারায়ণগঞ্জে এ পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন এক নারীসহ পাঁচজন মানুষ। এছাড়া আক্রান্ত হয়ে প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরো ৩৮জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন চার জন।

এছাড়াও জ্বর, সর্দি কাশি ও শ্বাস কষ্টসহ করোনার নানা উপসর্গ নিয়ে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় আরো অন্তত পাঁচজন মারা গেছেন। তবে তাদের মরদেহ পরীক্ষা করার আগেই দাফন করা হয়ে গেছে বলে পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।