বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

করোনাভাইরাসে খাদ্য সংকটে পরিবহন শ্রমিকরা

লাইট নিউজ প্রতিবেদক :করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে গত ২৬ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে দেশের সব গণপরিবহন। দেশের যা পরিস্থিতি, কবে নাগাদ গণপরিবহন চালু হবে সেটারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। তাই অধিকাংশ পরিবহন শ্রমিক ছুটিতে বাড়ি চলে গেছেন। তারপরও কিছু শ্রমিক থেকে গেছেন ঢাকায় বাস পাহারা দেয়ার জন্য।

এই শ্রমিকরা বাসের ভেতরেই রাত্রিযাপন করছেন পরিবহন পাহারা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে নিয়োজিত । আড্ডা দিয়ে গল্প করে কিংবা ঘুমিয়ে তাদের দিন কাটছে। কিন্তু সমস্যা দেখা দিয়েছে খাবারে। সব হোটেল-রেস্টুরেন্ট বন্ধ থাকায় খাদ্য সংকটে পড়েছেন তারা। মালিক পক্ষ থেকে খাবারের জন্য টাকা দিলেও তা দিয়ে প্রয়োজন মিঠছে না।

পরিবহন বন্ধ ঘোষণার পর থেকেই রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালসহ দেশের সব টার্মিনালেই অনেক গাড়ি পার্কিং করা। এগুলোর নিরাপত্তার জন্য হেল্পার কিংবা কন্ডাক্টরকে নিয়োজিত করা হয়েছে। প্রতিদিনই তাদের বেতন ও খাবার খরচ দিচ্ছেন মালিকরা। কিন্তু হোটেল-রেস্টুরেন্ট বন্ধ থাকায় খাবারের ব্যবস্থা করা যাচ্ছে না।

যারা টার্মিনালে থাকছেন, তাদের অধিকাংশের বাড়ি দূরে। তাই রান্নার ব্যবস্থাও করা যাচ্ছে না। উপায় না পেয়ে পার্শ্ববর্তী কোনো মেস থেকে তারা খাবার এনে খাচ্ছেন। এতে ১০ জনের খাবার রান্না করলে তা ৩০ জন খাচ্ছেন।

গাবতলী বাস টার্মিনালে থাকা রোজিনা পরিবহনের এক কর্মী বলেন, গাড়ি বন্ধ থাকায় অনেকেই বাড়ি চলে গেছেন। গাড়ির নিরাপত্তার জন্য কয়েকজন থেকে গেছি। প্রতি গাড়িতে এক-দুই জন করে আছে। মালিক টাকা দেয়, কিন্তু খাবার কেনার জায়গা নেই। দোকান-পাট সব বন্ধ। মালিকও খাবার নিয়ে আসবে না।

আরেক কর্মী বলেন, হোটেল খোলা থাকলে খাবারের জন্য এ সমস্যা হতো না। এখন অনেক দূর থেকে খাবার রান্না করে আনতে হয়। কিন্তু তাতে সবার হয় না। ১০ জনের খাবার রান্না করলে তা দিয়ে ৩০ জন খাই।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, লকডাউনের মধ্যে মালিকদের পক্ষে খাবার সরবরাহ করা কিছুটা কঠিন। তারপরও অধিকাংশ মালিক তাদের শ্রমিকদের খাবারের জন্য টাকা দিচ্ছেন। এই সংকটে শ্রমিকদের খাবারের বিষয়ে আরো সহায়তা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।