বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

খুনি মাজেদের প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অন্যতম খুনি মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আব্দুল মাজেদের প্রাণভিক্ষা চেয়ে করা আদেবন খারিজ করে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

বুধবার (৮ এপ্রিল) কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তিনি প্রাণভিক্ষার এ আবেদন করেন।

পরে রাতে রাষ্ট্রপতি তা খারিজ করে দিয়েছেন বলে বঙ্গভবন সূত্রের উদ্ধৃতি করে একটি সংবাদ মাধ্যম খবরটি প্রকাশ করেছে।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহবুবুল ইসলাম বুধবার (৮ এপ্রিল) বলেন, মৃত্যুর পরোয়ানার চিঠি বিকেলে কারাগারে এসে পৌঁছায়। আসা মাত্রই তা মাজেদকে পড়ে শোনানো হয়। এসময় মাজেদ রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে কারাকর্তৃপক্ষের মাধ্যমেই প্রাণভিক্ষার আবেদন করেন তিনি।

জানা যায়, কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদনটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় হয়ে রাতে বঙ্গভবনে পৌঁছায়। এরপরই রাষ্ট্রপতি তা খারিজ করে দেন।

এদিকে চূড়ান্ত রায় হওয়ার দীর্ঘ ২২ বছর পার হয়ে যাওয়ায় মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার কোনো অধিকার আসামি রাখেন না বলে জানিয়েছিলেন এ মামলার রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল।

এর আগে, বুধবার দুপুরে আবদুল মাজেদের মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেন ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ এম হেলাল উদ্দিন চৌধুরী। এই সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন আবদুল মাজেদ।

সোমবার (৬ এপ্রিল) রাতে আব্দুল মাজেদকে গাবতলী এলাকা থেকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। পরদিন মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম জুলফিকার হায়াৎ।

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট জাতির জনকের হত্যাকাণ্ডের পর এই মামলায় খুনি আবদুল মাজেদসহ ১২ আসামিকে ২০০৯ সালে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন বিচারিক আদালত।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশীদ খান, বজলুল হুদা, একেএম মহিউদ্দিন আহমেদ ও মুহিউদ্দিন আহমেদের ফাঁসি ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি কার্যকর হয়।

রায় কার্যকরের আগে ২০০২ সালে পলাতক অবস্থায় জিম্বাবুয়েতে মারা যান আসামি আজিজ পাশা।

আবদুল মাজেদ গ্রেফতার হওয়ার পর আরও পলাতক আছেন পাঁচ জন। তারা হলেন–খন্দকার আবদুর রশীদ, শরিফুল হক ডালিম, এসএইচএমবি নূর চৌধুরী, এএম রাশেদ চৌধুরী ও মোসলেম উদ্দিন।