বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

মাজেদের ফাঁসি কার্যকর যেভাবে

কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে ব্যাপক নিরাপত্তা বলয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু খুনি আব্দুল মাজেদকে ফাঁসি মঞ্চে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হলো। 

শনিবার রাত ১২টা ১ মিনিটে এ মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয় বলে কারা সূত্র জানিয়েছে। কারাগার সূত্র জানায়, ফাঁসির মঞ্চে আনার আগ পর্যন্ত সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মাজেদের দন্ড কার্যকর করা হয়। জল্লাদ শাহজাহানের নেতৃত্বে মোঃ আবুল, তরিকুল ও সোহেলসহ ১০ জনের একটি জল্লাদ দল এই ফাঁসি কার্যক্রমে অংশ নেন। প্রথমে রাত ৮টার দিকে তাকে গোসল করানো হয়। রাত ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে দেয়া হয় রাতের খাবার। খাবারের মেন্যু ছিলো ভাত, ডাল সবজি, গরুর মাংস। রাতের খাবার দিয়ে কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেন, এটাই তার শেষ খাবার। তখন মাজেদ হালকা ভাবে রাতের খাবার খেয়ে নেন। মাজেদের পরিবারের সদস্যরা গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ৩৮ মিনিটে শেষবারের মতো দেখা করতে কারাগারে প্রবেশ করেন। তারা ৭টা ২৪ মিনিট পর্যন্ত কারাগার অবস্থান করেন। পরিবারের সঙ্গে জীবনের শেষ সাক্ষাতের সময় হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন আব্দুল মাজেদ। সহধর্মীনিকে ধরেই সবচেয়ে বেশি কেঁদেছেন বলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত কারা কর্মকর্তারা জানান। পরিবারের সদস্যরা।মাজেদের কাছে তাদের রাত ১১টায় ২০মিনিটে শেষ ইচ্ছা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু জবাবে সে কিছুই জানায়নি। রাত ১১টায় ৩০ মিনিটে তাকে ইমাম ডেকে তওবা পড়ানো হয়। তওবা পড়ান কারাগার মসজিদের ইমাম। এরপর ১১টা ৪০মিনিটে কনডেম সেল থেকে যমটুপি পরিয়ে মাজেদকে ফাঁসির মঞ্চে নেয়া হয়। সামনে একজন এবং পেছনে দুইজন জল্লাদ তাকে ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে যায়। এসময় মাজেদ কান্না করতে ছিলো। তাকে মঞ্চে দাঁড় করানো হয়। মঞ্চটি একেবারেই নতুন চকচকা। উল্লেখ্য এ মঞ্চে এই প্রথম ফাঁসি কার্যকর হয় । মৃত্যুদন্ড কার্যকরের পর মাজেদের মরদেহ তোলা হয়। কারা চিকিৎসক, ঢাকা জেলার সিভিল সার্জনের তত্ত্বাবধানে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। এসময় শুধু তাদের ঘাড়ের রগ কেটে দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয় বলে জানিয়েছে কেরানীগঞ্জ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল কবির চৌধুরী। তিনি বলেন, গত বুধবার আব্দুল মাজেদ রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেন। এবং সব দোষ স্বীকার করেন। পরে রাষ্ট্রপতি আবেদন নাকজ করে দেন। তার ফাঁসির রায় কার্যকর করতে এখন আর কোনো আইনি বাধা নেই। তাই মাজেদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
যে ভাবে প্রস্তুতি নেয় কেরানীগঞ্জ কারাগার : কারাসূত্র জানায়, পুরো কারাগার এলাকা সম্পূর্ণভাবে ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার আওতাধীন, তার পরও নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করতে বাড়তি কিছু সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। গত বৃহস্পতিবার কেরানীগঞ্জ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসির মঞ্চ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। মোম মাখানো দড়িতে বালুর বস্তা দিয়ে প্রাথমিক মহড়া শেষ। ওই দিন থেকেই প্রস্তুত শাহজাহানসহ ১০ জন জল্লাদ। এই জল্লাদ দল ২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি লে.কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমান, লে.কর্নেল সুলতান শাহরিয়ার রশিদ, মেজর বজলুল হুদা, লে.কর্নেল মহিউদ্দিন আহম্মেদ(আর্টিলারি), লে.কর্নেল একেএম মহিউদ্দিন আহম্মদ(ল্যান্সার) ফাঁসি কার্যকর করেছিলো।
অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল আবরার হোসেন, ১২টা ১ মিনিটে ফাঁসি কার্যকর করা হয়। মাজেদ কে ১১টা ২০মিনিটে তার শেষ ইচ্ছা জানতে চাইলে তিনি কিছুই বলেননি।