বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

এবারের অধিবেশনে থাকছেন না সাংবাদিকরা

দেশের ইতিহাসে ব্যতিক্রমধর্মী এক সংসদ অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ১৮ এপ্রিল। শুধুমাত্র সাংবিধানিক নিয়ম রক্ষার জন্যই বসছে এবারের অধিবেশন। সাধারণত সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে সংসদ সচিবালয়ের আলাদা একটা প্রস্তুতি থাকে এক মাস আগে থেকে। এবারও প্রস্তুতি আছে তবে ভিন্ন মাত্রার। অন্যান্যবার গণমাধ্যমকর্মী ও দশনার্থীদের প্রবেশের জন্য পাস বা কার্ড নিয়ে আলাদা প্রস্তুতি থাকলেও এবার তা থাকছে না। বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের ভয়াল থাবায় সবকিছুতেই স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

আগামী ১৮ এপ্রিল একাদশ জাতীয় সংসদের ৭ম অধিবেশন শুরু হবে। ১৮ এপ্রিল শনিবার বিকেল ৫টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হবে। তবে অন্যান্যবার অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে অধিবেশনের সময়সীমা চূড়ান্ত করা হতো। এবার করোনার কারণে তাও হচ্ছে না। শুধুমাত্র সংবিধান রক্ষার এই অধিবেশনের মেয়াদ হবে মাত্র ১ ঘণ্টা।

অন্যান্য অধিবেশনে যেখানে সংসদ সদস্যদের উপস্থিতির বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হতো। এবার উল্টো সংসদ সদস্যদের আসতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। শুধুমাত্র কোরাম পূরণের জন্য ৬০ জন সংসদ সদস্য দূরত্ব বজায় রেখে বসবেন অধিবেশনে। যেখানে সাড়ে ৩৫০ সংসদ সদস্য সেখানে মাত্র ৬০ জনকে উপস্থিত থাকার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। কোনোভাবেই যেন অধিক সংখ্যক সংসদ সদস্য উপস্থিত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে।

এরইমধ্যে যে সকল সংসদ সদস্য উপস্থিত থাকবেন তাদের একটি তালিকা করা হয়েছে। এছাড়া সংসদ সচিবালয়ের প্রায় ১২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। অন্যান্য অধিবেশনে তাদের প্রত্যেকের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক থাকলেও এবার অনুপস্থিতি থাকার জন্য বলা হয়েছে। অল্প কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত থাকবেন। এমপিদের বসার সিট প্লান করা হয়েছে ভিন্ন আঙ্গিকে। একজন থেকে দুই তিন সিট বাদ দিয়ে বসার ব্যবস্থা করা হবে।

এদিকে সংসদ অধিবেশন কাভারেজের জন্য অন্যান্যবার প্রায় ৫০০ সাংবাদিক কার্ড দেওয়া হলেও এবার সাংবাদিকদের আসতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সংসদের পরিচালক (গণসংযোগ) তারিক মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়- সংসদ বিটে কর্মরত সকল প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, একাদশ জাতীয় সংসদের ৭ম অধিবেশন সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে ১৮ এপ্রিল শনিবার বিকেল ৫টায় আহ্বান করা হয়েছে। করোনার কারণে অধিবেশনটি সংক্ষিপ্ত হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে সকল গণমাধ্যম কর্মীদের সরাসরি সংসদে না এসে স্ব স্ব অবস্থানে অবস্থান করে সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশন থেকে সম্প্রচারিত সংসদ অধিবেশন কাভার করার অনুরোধ করা হচ্ছে।

এবারের অধিবেশনে সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর মৃত্যুতে শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা করেই মুলতবি ঘোষণা হতে পারে। চলতি সংসদের কোনো সদস্য মৃত্যুবরণ করলে তার ‍ওপর শোক প্রস্তাবের আলোচনা শেষে সংসদ মুলতবি ঘোষণা করার রেওয়াজ আছে। তাছাড়া করনো পরিস্থিতির কারণে এবার আর অধিবেশন দীর্ঘ হবে না।

লাইটনিউজ/এসআই