বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

করোনা ইস্যু: যেকোনো সময় মহামারি ঘোষণা

লাইট নিউজ প্রতিবেদক : করোনাভাইরাসকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করেছে আরও প্রায় একমাস আগে। এই সংকটকে বাংলাদেশেও মহামারি ঘোষণা করতে যাচ্ছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়সহ স্বাস্থ্য অধিদফতরের একাধিক সূত্র বলছে, এরই মধ্যে এই ঘোষণার জন্য প্রস্তুতি প্রায় শেষ। যে কোনো সময় এই ঘোষণা আসবে।

করোনাভাইরাস রোগ সামাজিক পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়েছে, যাকে বলা হচ্ছে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন। স্বাস্থ্য অধিফতরের কোভিড-১৯ সংক্রান্ত নিয়মিত বুলেটিনেও এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সংক্রামক রোগের বিস্তারের ধাপটিই হলো মহামারি, যা কোনো অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকে না।

১৪ এপ্রিল বিকেলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ সে পর্যায়ে পৌঁছে গেছে বলেই একে মহামারি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বললেও তারা স্পষ্ট কোনো উত্তর দেননি। তবে একাধিক কর্মকর্তা এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, করোনাভাইরাসকে মহামারি ঘোষণা দেওয়ার প্রায় সব প্রক্রিয়া শেষ। সব নথি তৈরি করেছে। দুয়েকদিনের মধ্যেই এ সংক্রান্ত ঘোষণা আসতে পারে।

রোগ সংক্রমণের ৪ ধাপ
স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) তথ্য অনুযায়ী, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ চারটি পর্যায়ে সংক্রমণ ছড়িয়ে থাকে—

১ম ধাপ: নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণে উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো থেকে আগতদের মধ্যে কারও নমুনায় করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়া;

২য় ধাপ: বিদেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে বা নির্দিষ্ট কোনো এলাকাতে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া;

৩য় ধাপ: নির্দিষ্ট এলাকা থেকে বৃহত্তর এলাকায় সামাজিক সংক্রমণ; এবং

৪র্থ ধাপ: মহামারি, কোনো সুনির্দিষ্ট এলাকার মাঝে এই ভাইরাসের সংক্রমণ সীমাবদ্ধ না থাকা।

নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের তৃতীয় স্তর অর্থাৎ সামাজিক সংক্রমণে পৌঁছে গেছে আরও দুয়েকদিন আগেই। সোমবার (১৩ এপ্রিল) নিয়মিত বুলেটিনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকও এ কথা স্বীকার করে নেন। সূত্র বলছে, বিশ্বব্যাপী ধ্বংসলীলা চালানো রোগটি এবার চতুর্থ ধাপে পৌঁছে যাচ্ছে বলেই সরকার একে মহামারি ঘোষণা করতে যাচ্ছে।

মহামারি ঘোষণা এলে সুবিধা কী?
করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে থাকার একটা পর্যায়ে এসে সরকার বছর দুয়েক আগে পাস করা ‘সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮’ আইনের প্রয়োগ করতে শুরু করে। তবে করোনাভাইরাসকে মহামারি ঘোষণা করা হলে সেটি মূলত সরকারকে জরুরিভিত্তিতে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে তা বাস্তবায়নে সহায়তা করবে বলে জানিছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের সাবেক পরিচালক বেনজির আহমেদ বলেন, মহামারি বলতে যে বিষয়টিকে বোঝানো হচ্ছে, সেটা হয়তো হতে পারে যে স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা জারি করা। সেটা করতে পারলে সরকার তখন রোগ নিয়ন্ত্রণে দ্রুতগতিতে কাজ করার সুযোগ পাবে। এরকম অবস্থায় অনেক আইন শিথিল রেখে জরুরিভিত্তিতে কাজ করা যায়। এটাকে অনেকটা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মতো। যুদ্ধের সময় যেমন অনেক নিয়ম শিথিল হয়ে যায়, তেমন অবস্থা বলা যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের উদাহরণ দিয়ে বেনজির আহমেদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে জরুরি অবস্থা জারির ফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কিন্তু পঞ্চাশের দশকের কোরিয়া যুদ্ধের আইনও প্রয়োগ করতে পারছেন। সেই আইন প্রয়োগ করে জেনারেল মোটরসকে বাধ্য করেছেন মোটরগাড়ি বাদ দিয়ে ভেন্টিলেটর উৎপাদন করতে। বাংলাদেশেও চাইলে একই কাজ করতে পারবে।

আক্রান্তের হারে হঠাৎ উর্ধ্বগতি
মঙ্গলবার দুপুরের নিয়মিত বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, আগের ২৪ ঘণ্টায় মোট এক হাজার ৯০৫টি নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন ২০৯ জন। নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার প্রায় ১১ শতাংশ। এর আগের দিনের তথ্য বলছে, ১৫৭০টি নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছিলেন ১৮২ জন। এই হার সাড়ে ১১ শতাংশেরও বেশি।

অধিদফতরের নিয়মিত বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, ৮ মার্চ দেশে প্রথম কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হওয়ার একমাস ৬ দিন পর ১৪ এপ্রিল এসে পূর্ণ হয়েছে হাজার রোগী। তবে সবশেষ তিন দিনেই শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা পাঁচ শতাধিক। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ক্রমোর্ধ্বগতি সবাইকে শঙ্কিত করছে।