বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

করোনা সংক্রমণে শহরে ৮০, গ্রামে ৭৯ শতাংশ মানুষ কর্মহীন

লাইট নিউজ প্রতিবেদক : করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে শহরাঞ্চলে ৮০ এবং গ্রামাঞ্চলে ৭৯ শতাংশ মানুষ কর্মহীন। এতে মাঝারি, অতিদরিদ্র মানুষেরা চরম বিপর্যয়ে পড়েছেন। গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) এবং ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) করা এক গবেষণা জরিপ থেকে এই ফলাফল জানা যায়।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) এক ভিডিও কনফারেন্সে ‘পোভার্টি ইমপ্যাক্ট অব কোভিড–১৯’ শীর্ষক এ গবেষণার ফল তুলে ধরা হয়।

গবেষকরা জানান, বর্তমান পরিস্থিতি দেশে নতুন করে একটি দরিদ্রশ্রেণির সৃষ্টি হচ্ছে। নতুন সৃষ্ট দরিদ্রশ্রেণির ৭১ শতাংশ আয়ও কমে গেছে। তাতে এসব পরিবার মাত্র সাত থেকে ১৪ দিন খেয়ে-পরে চলতে পারবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এরপরই তাদের সহায়তা চেয়ে জীবনধারণ করতে হবে।

এসব মানুষের জন্য জরুরি সহায়তা করতে ৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা দরকার। সরকারের প্রথাগত ত্রাণ সহায়তার বাইরে এসে এখন জরুরিভিত্তিতে এ সহায়তা দিতে হবে। আর জরুরিভিত্তিতে ওএমএস চালু করতে হবে বলেও জানান গবেষকরা।

মূল গবেষণাপত্র তুলে ধরে বিআইজিডির নির্বাহী পরিচালক ইমরান মতিন বলেন, ‘যেসব পরিবারের ওপর জরিপ হয়েছে এগুলোর গড় আকার প্রায় পাঁচ সদস্য। তিনটি দরিদ্রশ্রেণির ওপর জরিপ হয়েছে। তাদের মধ্যে নিম্ন দরিদ্রশ্রেণির মানুষই বেশি, ৪৯.১ শতাংশ। ১৫ শতাংশ উচ্চ দরিদ্রশ্রেণি, আর ৩৫.৩ শতাংশের মানুষেরা নতুন দরিদ্র। এসব মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাধারণ দিনমজুর, তাদের সংখ্যা ৪১ শতাংশ। এ ছাড়া আছেন কৃষক, নিয়মিত মজুরি পাওয়া শ্রমিক, ছোট ব্যবসায়ী।’

পিপিআরসি–বিআজিডির গবেষণায় বলা হয়, শহুরে দরিদ্র মানুষদের আয় গত ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় ৮২ শতাংশ কমে গেছে। আর গ্রামের দরিদ্র মানুষের আয় কমে গেছে ৭৯ শতাংশ। তিন ধরনের দরিদ্র শ্রেণির আয় গড়ে ৭৬ শতাংশ কমে গেছে।

করোনার কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে শহরে কাজ হারিয়েছেন ৭১ শতাংশ শ্রমজীবী মানুষ। যা গ্রামে ৫৫ শতাংশ।

এ পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে বেশিরভাগ পরিবার খাবারের ব্যয় কমিয়ে দিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় শিকার নতুন দরিদ্ররা। তাদের ৩৬ শতাংশ ব্যয় কমাতে হয়েছে। শহরে মানুষের খাবারের পরিমাণ কমে গেছে ৪৭ ভাগ, গ্রামে ৩২ ভাগ।

করোনা পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে বেশির ভাগ মানুষ নিজেদের সঞ্চয় ভাঙছেন, করছেন ধার-দেনাও। এছাড়াও অনেক পরিবারকে চলতে হচ্ছে প্রতিবেশী, আত্মীয় ও বন্ধুদের সহযোগিতায়। এরমধ্যে মাত্র ১৪ শতাংশ মানুষ সরকারি সহায়তা পেয়েছে, ৫ শতাংশ পেয়েছে এনজিওর সহায়তা।

পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি এমন যে এ মাসের শেষের দিক থেকে বিপুলসংখ্যক নিম্ন আয়ের মানুষ বড় ধরনের খাদ্যসংকটে পড়বে। এ অবস্থায় তাদের জন্য সহায়তা দরকার। গ্রামের দরিদ্র পরিবারগুলো ৬ হাজার ৬০০ টাকা এবং শহরে থাকা দরিদ্র পরিবারগুলো ৮ হাজার ১০০ টাকার মধ্যে এক মাস চলতে পারে। আর এসব মানুষকে জরুরিভিত্তিতে এক মাসের সহযোগিতা দেওয়ার জন্য পাঁচ হাজার ৬০০ কোটি টাকা দরকার। এটা শুধু এক মাসের জন্য। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে আরও সহযোগিতা লাগবে।

হোসেন জিল্লুর আরও বলেন, সরকারের প্রথাগত যে ত্রাণসহায়তার ধরন, তা দিয়ে এবারের পরিস্থিতি সামলানো যাবে না। এজন্য ভিন্ন ভাবনার দরকার। সবচেয়ে জরুরি, দ্রুত ওএমএস চালু করা। সামাজিক দূরত্ব পালনে সমস্যা থাকলে তা যাতে পালন করা যায়, সেই ব্যবস্থা করতে হবে।

লাইট নিউজ