বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

২১-৩০ বছর বয়সীরাই বেশি আক্রান্ত!

দেশে বর্তমানে এক হাজার ৮৩৮ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এরমধ্যে ২১-৩০ বছর বয়সীরা বেশি সংক্রমিত হয়েছেন। যা কিনা মোট আক্রান্তের ২১ শতাংশ। আর মোট আক্রান্তের ১৯ ভাগ ৩১-৪০ বছর বয়সী। এরপর রয়েছেন ৪১-৫০ বছরের মানুষ। শতকরা হিসাবে যা ১৫ শতাংশ।

এ তথ্য জানান জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)-এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।

অনলাইন বুলেটিনে আরও যুক্ত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

ডা. সেব্রিনা বলেন, ‘রোগীদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি। আবার নারী-পুরুষ সংক্রমণের হার বিভাজনে দেখা গেছে, শতকরা ৬৮ শতাংশ পুরুষ আর ৬২ শতাংশ নারী আক্রান্ত হয়েছেন।’

ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা
তিনি বলেন, আক্রান্তদের মধ্যে শতকরা ৪৬ ভাগ রোগী ঢাকা শহরে। এরপর নারায়ণগঞ্জে শতকরা ২০ ভাগ এবং তারপর নতুন করে অনেক এলাকায় নতুন করে সংক্রমিত হওয়ার তথ্য পাচ্ছি। তার মধ্যে গাজীপুর, চট্টগ্রাম, মুন্সীগঞ্জেও নতুন করে রোগী দেখা যাচ্ছে। আবার ঢাকা শহরে সংক্রমিত রোগী বেশি রয়েছে। এরমধ্যে মিরপুরে সবচেয়ে বেশি। আমরা দেখেছি টোলারবাগে সংক্রমণ বেশি ছিল, এখন মিরপুরের বিভিন্ন অঞ্চল এবং টোলারবাগ এলাকাজুড়েই বিস্তৃত। এটা শতকরা হিসাবে যদি বলি, শতকরা ১১ ভাগ। এরপর মোহাম্মদপুর, ওয়ারী ও যাত্রাবাড়ীতে শতকরা চার ভাগের মতো সংক্রমিত ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া গেছে। তারপর রয়েছে উত্তরা ও ধানমন্ডিতে শতকরা তিন ভাগ।

তিনি বলেন, সংক্রমিত ব্যক্তির মধ্যে শতকরা ৬৮ ভাগ মানুষ বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ৩২ ভাগের হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন হয়েছে। তবে এখানে আমি একটি বিষয়ের ওপর জোর দিতে চাই। তা হলো এই ৩২ ভাগের অনেকের হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল না। তাদের বিভিন্ন কারণে হাসপাতালে যেতে হয়। তার মধ্যে একটি হচ্ছে, সামাজিকভাবে তাদের ওপর চাপ ছিল। তারা যেন বাড়িতে না থেকে হাসপাতালে যান।

ডা. সেব্রিনা বলেন, ‘আমি এখানে বলতে চাই, একজন রোগী যদি বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিতে পারেন, সারা বিশ্ব এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও তাদের উৎসাহিত করেছে, তবে সেক্ষেত্রে রোগী হোম আইসোলেশনে থাকবেন স্ট্রিক্টলি। একটি ঘরের ভেতরে থাকবেন এবং তার সঙ্গে যেন অন্য কারও মেলামেশা না হয় সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। আর এটা করা গেলে রোগীর জন্য এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্যও এটি একটি ভালো পদক্ষেপ। আমরা যদি যাদের হাসপাতালে থাকার প্রয়োজন নেই, যাদের মৃদু লক্ষণ-উপসর্গ রয়েছে কিংবা খুবই কম, তাদের হাসপাতালে পাঠাই, তাহলে হাসপাতালের ওপরও চাপ পড়ে। তাই যাদের হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, তারা স্বাস্থ্য অধিদফতরের স্বাস্থ্য বাতায়নের ১৬২৬৩ নম্বরে কল করলে সেখান থেকেই চিকিৎসার প্রয়োজনীয় সব তথ্য পাবেন।’

এছাড়াও স্বাস্থ্য অধিদফতর ও আইইডিসিআরের চিকিৎসকরাও রোগীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন এবং বিভিন্ন পরামর্শ দেন বলে তিনি জানান।

লাইটনিউজ/এসআই